ফয়সল আবদুল্লাহ
বিশ্বের অন্যতম উন্নত ভূগর্ভস্থ পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাগার চিয়াংমেন আন্ডারগ্রাউন্ড নিউট্রিনো অবজারভেটর বা চুনো থেকে প্রথম ফলাফল প্রকাশ করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা, যেখানে রহস্যময় কণা নিউট্রিনো নিয়ে রেকর্ড-পর্যায়ের নির্ভুল পরিমাপ পাওয়া গেছে।
গবেষণার ফলাফল বুধবার আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার-এর প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
নিউট্রিনো হলো মহাবিশ্বজুড়ে থাকা অতিক্ষুদ্র ভরহীন কণা, যেগুলোকে ভুতুড়ে কণাও বলা হয়। কারণ নিউট্রিনো প্রায় কোনো পদার্থের সঙ্গেই মিথস্ক্রিয়া করে না। প্রতি সেকেন্ডে সূর্য থেকে আসা ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো মানবদেহের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করলেও আমরা তা টের পাই না।
গবেষণা অনুযায়ী, চুনো প্রথম ৫৯ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউট্রিনোর আচরণ পরিবর্তন (অসিলেশন) সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে পেরেছে। এতে আগের তুলনায় অনিশ্চয়তা প্রায় ৪০ শতাংশ কম পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানেন, নিউট্রিনো তিনটি ভিন্ন রূপ বা ‘ফ্লেভার’-এ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কীভাবে ঘটে, তা পুরোপুরি বোঝা যায়নি। এর সমাধান মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিগ ব্যাং-পরবর্তী বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
চুনো পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো নিউট্রিনোর ভর বিন্যাস নির্ধারণ করা—অর্থাৎ কোন ধরনের নিউট্রিনো তুলনামূলকভাবে ভারী বা হালকা তা বুঝতে পারা।
চীনের সুবিশাল ডিটেক্টরটি প্রায় ৭০০ মিটার ভূগর্ভে অবস্থিত, যাতে মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে ২০ হাজার টন বিশুদ্ধ তরলভর্তি একটি বিশাল গোলক।
যখন কোনো নিউট্রিনো ওই তরলের ভেতরে পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তখন ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হয়। চারপাশের হাজার হাজার সেন্সর সেই আলো শনাক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করে।
এই প্রকল্পে ১৭টি দেশ ও অঞ্চলের ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের সাত শতাধিক গবেষক অংশ নিয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ডেটা সংগ্রহ চলতে থাকায় আগামীতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হবে, যা মহাবিশ্বের মৌলিক কণার প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে।
সিএমজি





















