চীনের আবিষ্কার: পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী - Mati News
Tuesday, June 9

চীনের আবিষ্কার: পাঁচ বছর না খেয়েও যেভাবে বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের প্রাণী

ফয়সল আবদুল্লাহ

গভীর সমুদ্রের এক ধরনের বিশালাকার আইসোপড কীভাবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কোনো খাবার ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে, সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

চীনের শানতোং প্রদেশের ছিংতাওয়ে অবস্থিত চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সমুদ্রবিজ্ঞান সংস্থা, হংকংয়ের দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি এবং নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সেল-এ প্রকাশিত হয়েছে।

সুপারজায়ান্ট আইসোপড দেখতে অনেকটা বাগানে পাওয়া সাধারণ পিল বাগের বিশাল সংস্করণ। গভীর সমুদ্রের খাদ্যসংকটপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এদের রয়েছে বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা।

চীনা গবেষকদের মতে, এই প্রাণী দুটি কৌশল ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় খাদ্য ছাড়াই বেঁচে থাকে। প্রথমত, এর পাকস্থলী শরীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত, যা একটি বিশাল খাদ্যভান্ডারের কাজ করে। খাদ্য পাওয়া গেলে এটি প্রচুর পরিমাণে খেয়ে সেই খাদ্য বছরের পর বছরও সংরক্ষণ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এদের বিপাকীয় হারও কম। ফলে শরীর খুব ধীরে শক্তি খরচ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে পারে।

গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল এনডি-১ নামের একটি জিন, যা আইসোপডের নিজস্ব জিন নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জিনটি একটি সহাবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে ‘হরাইজন্টাল জিন ট্রান্সফার’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইসোপডের জিনোমে এসেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ইউয়ান চিয়ানবো বলেন, এটি অনেকটা এক জীব থেকে অন্য জীবের মধ্যে উপকারী ডিএনএ সরাসরি স্থানান্তরের মতো।

গবেষকরা জেব্রাফিশ, নেমাটোড এবং মানব কোষে এনডি১ জিন প্রবেশ করিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এই জিন শক্তি খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং অনাহার সহ্য করার ক্ষমতা কমায়। তবে গভীর সমুদ্রের মতো নিম্ন তাপমাত্রায় জিনটি ঠিক উল্টোভাবে কাজ করে।

শীতল পরিবেশে এনডি১ জিন বিপাক কমিয়ে দেয়, কোষের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর করে এবং জেব্রাফিশের অনাহার সহ্যক্ষমতা ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, ওই জিনটি একটি জৈবিক ‘থার্মোস্ট্যাট’-এর মতো কাজ করে, যা পরিবেশ অনুযায়ী শক্তি ব্যবহারের হার নিয়ন্ত্রণ করে।

গবেষকদের ধারণা, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত গবেষণা, স্থূলতার চিকিৎসা এবং জলজ প্রাণীর উন্নত প্রজনন প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সিএমজি

https://english.news.cn/20260606/de8eff009a94407c8eeeb1fdab13d675/288e2b74b3ff46128a24acfef5a5f93c.jpg

https://english.news.cn/20260606/de8eff009a94407c8eeeb1fdab13d675/c8729c43560445b184a5e5ac0c627cd9.jpg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *