কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তি যখন বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকে নতুন যুগে নিয়ে যাচ্ছে, তখন স্মার্ট জ্বালানি ক্ষেত্রে চীনের দ্রুত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের ছেংতুতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৬ চায়না স্মার্ট এনার্জি সম্মেলনে এই সম্ভাবনাগুলো বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা ডিজিটাল যুগে জ্বালানি সহযোগিতার নতুন পথ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া চায়না এনার্জি রিসার্চ সোসাইটির চেয়ারম্যান শি ইউপো বলেন, চীনের স্মার্ট জ্বালানি শিল্প পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পর্যায় অতিক্রম করে এখন বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিক প্রয়োগে প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদনে পূর্বাভাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি উৎপাদন, সঞ্চালন থেকে শুরু করে ব্যবহার পর্যন্ত জ্বালানি মূল্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া অনেক প্রতিনিধির মতে, চীনের অভিজ্ঞতা কোনো নির্দিষ্ট মডেল নয়; বরং এমন একগুচ্ছ বাস্তবসম্মত সমাধান, যা বিভিন্ন দেশের নিজস্ব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিমড) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হুসেইন আবিদ বলেন, ‘স্মার্ট প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য এই সম্মেলন একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম।‘
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃ্দ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পার্বত্য দেশগুলোর জন্য আরও স্মার্ট বিদ্যুৎ গ্রিড, সীমান্ত-পারাপারের জ্বালানি সংযোগ জোরদার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
শুক্রবার প্রকাশিত গ্লোবাল এনার্জি ইন্টারকানেকশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চীন বিশ্বে প্রথম এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির স্থাপিত সক্ষমতার দিক থেকেও বিশ্বের বৃহত্তম দেশ। সামগ্রিক বিদ্যুৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও চীন বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্বালানি খাতকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে শুধু যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং উদ্ভাবননির্ভর অংশীদারত্বের দিকে আরও বেশি অগ্রসর হবে।
সূত্র: সিএমজি





















