চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের আরও বিকাশে ধারাবাহিকভাবে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এটি দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইগর মরগুলভ।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মরগুলভ বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীতে দুটি প্রতিবেশী বৃহৎ দেশের সম্পর্কের আদর্শ উদাহরণ। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি, সুস্থ ও স্থিতিশীল বিকাশে এই চুক্তির মৌলিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূত চুক্তিতে নির্ধারিত চারটি মৌলিক নীতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীতে দুটি প্রতিবেশী বৃহৎ দেশের সম্পর্কের আদর্শ উদাহরণ। আমি আরও বলতে চাই, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শুধু একটি আদর্শই নয়, এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতারও এক গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়তা। ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত সুপ্রতিবেশীসুলভ মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তিতে নির্ধারিত নীতিগুলোর কারণেই আজ আমাদের সম্পর্ক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে।‘
মরগুলভ বলেন, ‘আমার মতে, এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি নীতি রয়েছে। প্রথমত, প্রকৃত সমতা ও সমঅধিকার; দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক শ্রদ্ধা; তৃতীয়ত, অংশীদারের বৈধ স্বার্থের প্রতি বিবেচনা এবং চতুর্থত, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। এই নীতিগুলোর সম্মিলিত প্রভাবই আজ আমাদের সম্পর্ককে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেছে।‘
মরগুলভ আরও বলেন, এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এই নীতিগুলোর ভিত্তিতে দুই দেশের বাস্তবমুখী সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। টানা কয়েক বছর ধরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে।
এ বছর চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। ২০২৬ সালের ২০ মে দুই দেশ যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
সূত্র: সিএমজি




















