কেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় চীন - Mati News
Friday, July 17

কেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় চীন

সাকিব সিকান্দার

২০২৬ সালের জুন মাসের শেষ নাগাদ চীনে পরিচালনাধীন কেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ (সিএসপি) উৎপাদন সক্ষমতা ২ দশমিক ১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে স্পেনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় চীনা বিদ্যুৎ পরিষদ।

উত্তর-পশ্চিম চীনের ছিংহাই প্রদেশে আয়োজিত এক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ফোরামে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনে ২৪টি সিএসপি প্রকল্প চালু রয়েছে। পাশাপাশি মোট ৩ দশমিক ২ গিগাওয়াট সক্ষমতার আরও ২৬টি প্রকল্প নির্মাণাধীন।

চীন বিদ্যুৎ পরিষদের নির্বাহী সহ-সভাপতি ইয়াং খুন বলেন, ‘বর্তমানে চীনে ২৬টি সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে, যার মোট স্থাপিত সক্ষমতা ৩ দশমিক ২ গিগাওয়াট। এটি ইতোমধ্যে চালু হওয়া সক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন স্থাপিত সক্ষমতার ক্ষেত্রে চীন এখন বিশ্বের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।‘

কেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে আয়নার মাধ্যমে সূর্যালোককে কেন্দ্রীভূত করে তাপ উৎপাদন করা হয়। এই তাপ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে এসব কেন্দ্র স্থিতিশীল ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে এবং বায়ু ও সৌর ফটোভোল্টাইক বিদ্যুতের উৎপাদন ওঠানামা সামাল দিতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডকে সহায়তা করে।

চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) শুরুর পর থেকে দেশটির সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুৎ শিল্পের বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ২৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শীর্ষস্থানীয়। গলিত লবণভিত্তিক তাপ সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং উচ্চ দক্ষতার সৌরতাপ কেন্দ্রীভবন ব্যবস্থায় একাধিক উদ্ভাবনী সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিও ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয়েছে।

চীন সিএসপি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ৯৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়ভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকে এসব প্রকল্প নির্মাণের গড় ব্যয় অর্ধেকে নেমে প্রতি কিলোওয়াটে প্রায় ১৫ হাজার ইউয়ানে (প্রায় ২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার) দাঁড়িয়েছে।

ইয়াং খুন বলেন, ‘চীন টাওয়ার, ট্রাফ এবং ফ্রেনেলসহ সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূলধারার প্রযুক্তিগুলো আয়ত্ত করেছে এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুৎ শিল্পশৃঙ্খল গড়ে তুলেছে। প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের স্থানীয়করণের হার ৯৫ শতাংশের বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জিত হয়েছে।‘

জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং জাতীয় জ্বালানি প্রশাসন যৌথভাবে প্রণীত এই নির্দেশিকায় প্রকল্প নির্মাণ ত্বরান্বিত করা এবং সৌরতাপভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যবহারক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *