ছ্যাং’ই-৬-এর নমুনা থেকে চাঁদের দুই পৃষ্ঠের রহস্যের নতুন সূত্র পেলেন চীনা বিজ্ঞানীরা - Mati News
Tuesday, October 13

ছ্যাং’ই-৬-এর নমুনা থেকে চাঁদের দুই পৃষ্ঠের রহস্যের নতুন সূত্র পেলেন চীনা বিজ্ঞানীরা

চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ছ্যাং’ই-৬ অভিযানের মাধ্যমে পৃথিবীতে আনা চন্দ্রপৃষ্ঠের মাটির নমুনা নিয়ে গবেষণায় চীনা বিজ্ঞানীরা নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছেন। গবেষণায় চাঁদের দুই ভিন্ন গোলার্ধের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের রহস্য উন্মোচনে নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পৃথিবী থেকে দেখলে চাঁদের নিকটবর্তী অংশে কালো আগ্নেয় লাভায় গঠিত অসংখ্য সমভূমি বা মারিয়া দেখা যায়। বিপরীতে, চাঁদের দূরবর্তী অংশ মূলত উজ্জ্বল উচ্চভূমিতে আবৃত এবং সেখানে মারিয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। চাঁদের এই বৈশিষ্ট্যগত দ্বৈততাকেই বলা হয় চাঁদের দ্বি-পার্শ্বিকতা।

চাইনিজ একাডেমি অব জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জিওলজির গবেষকরা দেশের প্রথম দেশীয় আয়ন প্রোব ব্যবহার করে ছ্যাং’ই-৬-এর সংগৃহীত নমুনায় থাকা সংঘর্ষে সৃষ্ট গলিত পদার্থের খণ্ডাংশ বা ইমপ্যাক্ট মেল্ট ফ্র্যাগমেন্ট নিয়ে গবেষণা করেন।

ইনস্টিটিউটের প্ল্যানেটারি সায়েন্স রিসার্চ সেন্টারের উপ-পরিচালক লং থাও বলেন, ‘আয়ন প্রোবটিকে অবশ্যই মাইক্রোমিটার স্কেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আয়ন রশ্মি নিক্ষেপ করতে হবে। এটা অনেকটা ৩ হাজার মিটার দূর থেকে বাস্কেটবলকে হুপে ফেলার মতো। এরপর রশ্মি থেকে সেকেন্ডারি আয়ন নির্গত হয়, যা পরে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু যন্ত্রটি প্রতি দশ হাজারে কয়েক ভাগ পর্যন্ত আইসোটোপিক বিশ্লেষণের নির্ভুলতা অর্জন করতে পারে।‘

এই অতি-নির্ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষক দল চাঁদের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী অংশের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যকে প্রায় ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন বছর আগে সংঘটিত এক বিশাল সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ওই সংঘর্ষের ফলে সাউথ পোল-আইটকেন বেসিন বা দক্ষিণ মেরু-আইটকেন অববাহিকা সৃষ্টি হয়, যা চাঁদের বৃহত্তম, গভীরতম এবং প্রাচীনতম সংঘর্ষজনিত বৈশিষ্ট্য।

ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক চে সিয়াওচাও বলেন, ‘এই পার্থক্যের প্রধান কারণ সম্ভবত এই বিশাল সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা চাঁদের দূরবর্তী অংশের পদার্থকে আলোড়িত করেছিল। এর ফলেই দক্ষিণ মেরু-আইটকেন অববাহিকা থেকে আমাদের সংগ্রহ করা চন্দ্রের নমুনাগুলো চাঁদের আরও আদিম ভূত্বকের নমুনার চেয়ে বেশি তেজস্ক্রিয় হয়েছে।‘

২০২৪ সালে ছ্যাং’ই-৬ মহাকাশযান দক্ষিণ মেরু-আইটকেন অববাহিকা থেকে চাঁদের দূরবর্তী অংশের ১ হাজার ৯৩৫ দশমিক ৩ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে। এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চাঁদের দূরবর্তী অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার সফল অভিযান সম্পন্ন হয়।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *