কল্পনা করুন তো, ৩০ বছর আগে যে অভিনেত্রী রোবট সেজে অভিনয় করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন, আজ তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে হুবহু সেই তার মতো দেখতে একটি রোবট! ২০২৬ সালের চায়না মিডিয়া গ্রুপ আয়োজিত বসন্ত উৎসবের গালা অনুষ্ঠানে এমনই এক দৃশ্য দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে রইল কোটি কোটি দর্শক।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর পারিবারিক গল্পের এক হৃদয়স্পর্শী মেলবন্ধনে মঞ্চস্থ হলো স্কেচ বা রম্যনাটিকা “দাদি’র প্রিয়”। যেখানে রক্ত-মাংসের মানুষের পাশাপাশি সমানতালে অভিনয় করল একঝাঁক যান্ত্রিক অভিনেতা। এই নাটিকার সবচেয়ে বড় চমক ছিল বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘নোয়েটিক্স রোবটিক্স’র তৈরি একটি বায়োনিক রোবট।
প্রখ্যাত অভিনেত্রী ছাই মিংয়ের আদলে তৈরি রোবটটি এতটাই জীবন্ত ছিল যে, মহড়ার সময় তরুণ অভিনয়শিল্পীরা এটিকে আসল মানুষ ভেবে ভুল করে অভিবাদন পর্যন্ত জানাতেন।
অভিনেত্রী ছাই মিং হাসতে হাসতে বলেন, রোবটটি যখন স্থির হয়ে বসে চোখের পলক ফেলছিল, সবাই ভাবছিল ওটা বুঝি আমি। ও বেশ গর্বের সাথেই সবার শুভেচ্ছা উপেক্ষা করে বসে ছিল!
ছাই মিংয়ের চেহারার থ্রিডি মডেল তৈরি করে কয়েক ডজন পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। নিখুঁত ত্বকের টেক্সচার ও মেকআপ নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ সিলিকন। রোবটটির মাথায় ৪০টি ভিন্ন ধরনের মুভমেন্ট পয়েন্ট রয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল মানুষের ঠোঁটের নড়াচড়া হুবহু যান্ত্রিক মটরে রূপান্তর করা হয়, ফলে কথা ও ঠোঁটের সঞ্চালনে এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগও পার্থক্য থাকে না।
নাটিকার আরেক আকর্ষণ ছিল মাত্র ১২ কেজি ওজনের ছোট রোবট ‘বুমি’। এটি বিশ্বের প্রথম উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট যার দাম দশ হাজার ইউয়ানের কম।
মঞ্চে ডিগবাজি আর চমৎকার শারীরিক কসরত দেখিয়েছে এন-২ নামের যান্ত্রিক যমজ রোবট। উল্লেখ্য, এই রোবটগুলোই ২০২৫ সালের হিউম্যানয়েড রোবট হাফ-ম্যারাথনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল এবং ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সূত্র: সিএমজি





















