গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা চিরন্তন। এ সমস্যায় নাজেহাল অনেকেই। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার পরেই গলা-বুক জ্বালার সমস্যা অনেকেরই আছে। তার ওপর ফ্যাটি লিভার থাকলে তো কথাই নেই। কিছু খেলেই গ্যাস ও বদহজম হয়। খাবার হজম তো হবেই না—সবসময়েই বমি ভাব থাকবে। সে ক্ষেত্রে শুধু ওষুধে ভরসা না করে ঘরোয়া পথ্যও খেতে হবে নিয়ম করে। অম্বল সারাতে ও ফ্যাটি লিভার নির্মূল করতে সকাল সকাল খেতে হবে এক বিশেষ পানীয়।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, পাকস্থলীর ভেতরে হাইড্রোকোলিক অ্যাসিড স্বাভাবিকভাবেই নিঃসৃত হয়। কিন্তু যখন খাওয়াদাওয়ায় লাগাতার অনিয়ম চলতে থাকে, তখন অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর সংযোগস্থলে গঠনগত ত্রুটি থাকলেও পাকস্থলীতে নিঃসৃত অ্যাসিড ওপরে উঠে আসে এবং অম্বল হতে থাকে। এসব সমস্যার পাকাপাকি সমাধান শুধু ওষুধে হয় না। এর জন্য ঘরোয়া পথ্যও প্রয়োজন পড়ে।
আর গ্যাস-অম্বল কিংবা লিভারের রোগ যদি সারাতে হয়, তাহলে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা কিংবা কফি পান করা চলবে না। খালি পেটে ক্যাফিন শরীরে ঢুকলে তা হজমপ্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেয়। ফলে দিনভর অম্বলের সমস্যা ভোগাবে।
তাই সকালে খালি পেটে খেতে হবে এক বিশেষ পানীয়। অনেকেই মেথি ভেজানো পানি কিংবা জিরার পানি খান। সেগুলোও শরীরকে ডিটক্স করে দেয়। তবে অম্বল বা ফ্যাটি লিভার সারাতে হলে, সেই পানীয় তৈরি করতে হবে আদা, কালোজিরা, মধু ও গোলমরিচ দিয়ে।
আদা-কালোজিরা ও গোলমরিচের পানীয় কেন উপকারী
আদার দুই মূল উপাদান জিঞ্জারল ও শোগাওল হজমে সহায়ক এবং প্রদাহ কমায়। আদার রস তাই বমি ভাব দূর করে, গলা-বুক জ্বালার সমস্যা কমাতেও কার্যকরী হয়।
কালোজিরা শরীরে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত আধ চা-চামচ কালোজিরা রক্তচাপ বজায় রাখতে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। কয়েক মাসের মধ্যে ওজন ঝরাতেও দারুণ কার্যকর এ মসলা।
মধু প্রদাহনাশক। এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়। আর গোলমরিচে ‘পাইপেরিন’ নাম উপাদান থাকে, যা হজমে সহায়ক এবং অন্ত্রে ভালো ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই উপাদানের প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে এবং এটি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে। তাই গোলমরিচ খেলে রোগপ্রতিরোধ শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।
কীভাবে তৈরি করবেন পানীয়?
উপকরণ
এক গ্লাস পানি। আধা ইঞ্চির মতো আদা। আধা চামচ কালোজিরা। ২-৩টি গোটা গোলমরিচ। এক চামচ মধু।
প্রণালি
আদা ও গোলমরিচ থেঁত করে নিন। তারপর একটি পাত্রে এক গ্লাস পানি দিয়ে তাতে থেঁত করা আদা ও গোলমরিচ দিয়ে ফোটাতে হবে। পানি খানিকটা গরম হলে তাতে কালোজিরা দিয়ে দিতে হবে। ৫-৭ মিনিট ফোটার পর পানির রঙ পরিবর্তন হলে নামিয়ে নিন। এবার ছেঁকে নিয়ে তাতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।
দীর্ঘসময় ধরে গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় যাঁরা নাজেহাল, তারা এই পানীয় খেলে উপকার পাবেন। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নির্মূল করতেও এই পানীয় উপকারী। ঋতুবদলের সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্জি বা সর্দি-কাশির সংক্রমণে বেশি ভুগলে, এই পানীয় খেলে উপকার পেতে পারেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এই পানীয় পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।



















