সীতাকুণ্ডের প্রশাসনের দরজায় একজন নাগরিকের প্রশ্ন - Mati News
Monday, October 12

সীতাকুণ্ডের প্রশাসনের দরজায় একজন নাগরিকের প্রশ্ন

মোঃ সায়েদ আল ইসলাম

একটি সরকারি অফিস। একটি সরকারি চেয়ার। সামনে একজন সাধারণ নাগরিক। সঙ্গে তাঁর অসুস্থ মা। প্রয়োজন খুব বেশি কিছু নয়—একটি সরকারি অনুদানের বিষয়ে তথ্য জানা এবং প্রাপ্য সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সরকারি অফিসে যাওয়ার পর যদি একজন নাগরিকের মনে প্রশ্ন জাগে—“সরকারি অফিসে গিয়ে আমি কি নিরাপদ ছিলাম?”—তাহলে বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সেটি হয়ে ওঠে প্রশাসনের জবাবদিহির প্রশ্ন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে আমি সেই প্রশ্নই তুলছি। আমি কাউকে আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত করছি না। আমি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকেও লিখছি না। আমার বক্তব্য খুব সরল—আমার অভিযোগ রয়েছে, সেই অভিযোগের পক্ষে আমার কাছে অডিও-ভিডিও রেকর্ড, কললগ, সরকারি নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য রয়েছে। তাহলে এসব প্রমাণ কি নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা হবে না?

ঘটনার সূত্রপাত আমার অসুস্থ মা বিবি হাজেরার সরকারি অনুদানকে কেন্দ্র করে। নির্যাতিত, দুঃস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিলের আওতায় তাঁর জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চেক পাঠানোর সরকারি তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ বিষয়টি ছিল একটি সরকারি সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন ছিল না; ছিল একজন অসুস্থ নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার বিষয়।

এই অনুদানের অগ্রগতি জানতে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। ১৩ সেপ্টেম্বর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি। আমার বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিকবার ফোন করার পরও বিষয়টি নিয়ে সন্তোষজনক তথ্য পাইনি। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর আমি ও আমার অসুস্থ মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাই। এরপর যে ঘটনা ঘটেছে বলে আমি অভিযোগ করছি, সেটিই এখন পুরো বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দু।

আমার অভিযোগ হলো, সেদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত অবস্থায় আমাকে ও আমার মাকে অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে বাধার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমি আরও অভিযোগ করছি, আমার মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং আমার মাকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু কথা বলা হয়েছিল, যা একজন অসুস্থ নাগরিকের জন্য অপমানজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হতে পারে। ঘটনার সময় সেখানে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন বলেও আমার বক্তব্য।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এসব কি সত্যিই ঘটেছিল? নাকি আমার অভিযোগের কোনো অংশ ভুল? এই প্রশ্নের উত্তর আমার হাতে নেই। এই উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব একটি নিরপেক্ষ তদন্তের।

কারণ অভিযোগকারী ভুলও হতে পারেন। আবার অভিযোগকারী সত্যও বলতে পারেন। কিন্তু সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো প্রমাণ পরীক্ষা করা।

আর এখানেই আসে আমার কাছে থাকা অডিও ও ভিডিও রেকর্ডের বিষয়টি। কোনো ঘটনার বিষয়ে শুধু একজনের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে যদি সেই ঘটনার সময়কার অডিও, ভিডিও, কললগ, সরকারি চিঠিপত্র, GRS-এর নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং অন্যান্য নথি একসঙ্গে পরীক্ষা করা হয়, তাহলে প্রকৃত ঘটনা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে আসতে পারে।

একটি সরকারি অফিসে CCTV থাকলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো ঘটনার সময় CCTV একটি নিরপেক্ষ তথ্যসূত্র হতে পারে। ১৪ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট সময়ের CCTV ফুটেজ যদি সংরক্ষিত থাকে, তাহলে সেটি তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারা অফিসে ছিলেন, কে কোথায় ছিলেন, কী ঘটেছিল—এসবের কিছু অংশ হয়তো সেই ফুটেজ থেকেই পরিষ্কার হতে পারে।

তাই আমার প্রশ্ন—১৪ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট সময়ের CCTV ফুটেজ কি সংরক্ষণ করা হয়েছে? অফিসের উপস্থিতি রেজিস্টারে কারা ছিলেন? ভিজিটর রেজিস্টারে কী তথ্য রয়েছে? ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন এমন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন কি? এসব কি তদন্তে যাচাই করা হয়েছে?

আমার মা বিবি হাজেরা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সরকারি অফিসে যাওয়ার কারণ ছিল কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া নয়; ছিল সরকারি সহায়তার বিষয়ে তথ্য জানা এবং অনুমোদিত অনুদান পাওয়ার চেষ্টা। একজন অসুস্থ নাগরিক সরকারি অফিসে গেলে তাঁর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হচ্ছে, সেটিও প্রশাসনিক সেবার মানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর আমার মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই বিষয়টিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত।

আমাদের সমাজে অনেক সময় কেউ অভিযোগ করলে প্রথম প্রশ্ন হয়—“লোকটি কে?” তার পরিচয় কী? তার সামাজিক অবস্থান কী? সে কার সঙ্গে পরিচিত? কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হারিয়ে যায়—“তার অভিযোগের প্রমাণ কী?”

প্রশাসনের ক্ষেত্রে এই সংস্কৃতি বদলানো জরুরি। কারণ সরকারি অফিসে নাগরিকের মর্যাদা তাঁর পরিচয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। একজন সাধারণ নাগরিকের অভিযোগও তদন্তের যোগ্য। আবার একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে দোষী বলা যায় না। দুই পক্ষের ক্ষেত্রেই একই নীতি হওয়া উচিত—প্রমাণ।

ঘটনার পর আমার কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির যোগাযোগ আসে—এমন অভিযোগও আমার রয়েছে। আমার বক্তব্য অনুযায়ী, আমাকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চাওয়া বা আপস করার বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কেউ রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করেছেন কি না, সেটিও আমার অভিযোগের অংশ।

এখানেও আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করছি না। বরং প্রশ্ন করছি—এমন যোগাযোগ সত্যিই হয়েছিল কি না? হয়ে থাকলে কে করেছিলেন? কেন করেছিলেন? কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ ছিল কি? নাকি এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল? এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাষ্ট্রের মাঠ প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তাঁর দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে নয়; তাঁর দায়িত্ব সরকারি আইন, বিধি এবং নাগরিক সেবার কাঠামোর প্রতি। তাই কোনো নাগরিকের অভিযোগের পর যদি বাইরে থেকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। আবার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করাও উচিত নয়।

এই সময়েই সীতাকুণ্ডের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সমকাল সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টালের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ডিজিটাল ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির একটি ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভুয়া সনদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সনদটিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করে এবং পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে এসেছে।

তবে এই ঘটনাটি এবং আমার ব্যক্তিগত অভিযোগ দুটি সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। একটিকে অন্যটির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে—সরকারি নথি, সরকারি সিল, স্বাক্ষর এবং ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলেই তাঁর সব কাজকে নেতিবাচকভাবে দেখারও কোনো কারণ নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এ সীতাকুণ্ডে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় ইউএনও ফখরুল ইসলাম বাকি গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অর্থাৎ একজন কর্মকর্তার ইতিবাচক প্রশাসনিক কাজ থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তার ভালো কাজ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। একইভাবে কোনো অভিযোগ উঠলেই তাঁর সব কাজকে খারাপ হিসেবে দেখাও ন্যায়সংগত নয়।

দুটো বিষয় আলাদা। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত।

তাহলে সমাধান কী?

সমাধান খুব কঠিন কিছু নয়। প্রথমে অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে। তারপর প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়ের বক্তব্য নিতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিতে হবে। CCTV পরীক্ষা করতে হবে। অডিও-ভিডিও পরীক্ষা করতে হবে। প্রাসঙ্গিক কললগ ও যোগাযোগের তথ্য আইনসম্মতভাবে যাচাই করতে হবে। সরকারি নথিপত্র মিলিয়ে দেখতে হবে। তারপর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাই কয়েকটি সরাসরি প্রশ্ন রাখতে চাই।

১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসলে কী ঘটেছিল?

সেই সময় অফিসে কারা উপস্থিত ছিলেন?

সংশ্লিষ্ট সময়ের CCTV ফুটেজ কি সংরক্ষিত আছে?

আমার কাছে থাকা অডিও-ভিডিও কি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে?

আমাকে অফিস ত্যাগে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না?

আমার মোবাইল ফোন নেওয়ার কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না?

আমার অসুস্থ মায়ের সঙ্গে কী ধরনের কথাবার্তা হয়েছিল?

ঘটনার পর আমাকে অভিযোগ প্রত্যাহার বা ক্ষমা চাওয়ার জন্য কেউ চাপ দিয়েছিল কি না?

সরকারি অনুদানের চেক কখন উপজেলা অফিসে পৌঁছেছিল?

চেক পাওয়ার পর সেটি নিয়ে সরকারি প্রক্রিয়া কী ছিল?

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সরকারি অনুদানের বিষয়টি এবং আমার আচরণগত অভিযোগ কি পৃথকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে?

যদি তদন্তে অভিযোগের কোনো অংশ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার যদি অভিযোগের কোনো অংশ সত্য না হয়, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ সুষ্ঠু তদন্ত শুধু অভিযোগকারীর জন্য নয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তার জন্যও একটি সুরক্ষা।

আমি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চাই না। আমি কোনো কর্মকর্তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে চাই না। আমি চাই না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে বিচার করা হোক। আমি চাই না রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে আক্রমণ করা হোক।

আমি শুধু চাই—একটি নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ, স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের লিখিত অগ্রগতি।

আর যদি তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অসদাচরণ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

কারণ একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই চেয়ার কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে না। আবার একজন সাধারণ নাগরিক অভিযোগ করলেই সত্যের একমাত্র মালিক হয়ে যান না।

রাষ্ট্রের শক্তি এখানেই—পদ নয়, প্রমাণ কথা বলবে। পরিচয় নয়, তথ্য কথা বলবে। প্রভাব নয়, তদন্ত কথা বলবে।

আজ প্রশ্নটি শুধু আমার নয়। প্রশ্নটি সীতাকুণ্ডের প্রতিটি নাগরিকের।

একজন দরিদ্র মানুষ যখন সরকারি অফিসে যাবেন, তাঁর কথা কি শোনা হবে?

একজন অসুস্থ মানুষ যখন সরকারি সহায়তা চাইবেন, তাঁকে কি সম্মানের সঙ্গে সেবা দেওয়া হবে?

একজন নাগরিক কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে, তার অভিযোগ কি তদন্ত হবে?

নাকি অভিযোগকারীকে নিয়েই প্রথমে প্রশ্ন তোলা হবে?

আর কোনো সরকারি অফিসে কোনো ঘটনা ঘটলে, CCTV কি শুধু দেয়ালে ঝুলে থাকবে, নাকি প্রয়োজনের সময় সত্য উদঘাটনের একটি তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে?

একজন কর্মকর্তা বদলি হতে পারেন। একটি অভিযোগের ফাইল একদিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একটি ঘটনা সময়ের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি থেকেও হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রশাসনের প্রতি নাগরিকের আস্থা হারিয়ে গেলে সেটি ফিরিয়ে আনা কঠিন।

তাই আমার দাবি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত যুদ্ধ নয়। এটি একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা—সরকারি অফিসে একজন নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

আর অভিযোগ উঠলে রাষ্ট্র কি ব্যক্তির পরিচয় দেখবে, নাকি প্রমাণ দেখবে?

আমার অবস্থান খুব পরিষ্কার—কাউকে আগে থেকেই অপরাধী বলা উচিত নয়। আবার কোনো গুরুতর অভিযোগকেও তদন্ত ছাড়া অন্ধকারে চাপা দেওয়া উচিত নয়।

ক্যামেরা থাকলে ফুটেজ সংরক্ষণ করা হোক।

নথি থাকলে নথি পরীক্ষা করা হোক।

অডিও-ভিডিও থাকলে তা যাচাই করা হোক।

সাক্ষী থাকলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া হোক।

দুই পক্ষের কথা শোনা হোক।

তারপর যে সত্য বেরিয়ে আসবে, সেটিই গ্রহণ করা হোক।

কারণ শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার চেয়ার বড় নয়।

পদ বড় নয়।

পরিচয় বড় নয়।

বড় হলো রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা।

বড় হলো জবাবদিহি।

আর সবচেয়ে বড় হলো—সত্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *