ফয়সল আবদুল্লাহ
প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের পরিবেশগত শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। এই মডেল এখন বিশ্বের বহু দেশের কাছে অনুসরণযোগ্য। সম্প্রতি সিজিটিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংকের প্রধান পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আন্দ্রে রদ্রিগেজ দে আকুইনো বলেন, সংরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস হতে পারে।
আন্দ্রে রদ্রিগেজ দে আকুইনো বললেন, “সংরক্ষিত এলাকাগুলোর ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি নিয়ে চীনের সাথে মতবিনিময়ের জন্য আমরা চীন সরকারের সাথে প্রায় ৩০টি দেশের একটি প্রতিনিধিদলকে একত্রিত করেছি। এবং এখানে ‘কার্যকরভাবে’ বলতে বোঝায় পরিবেশগতভাবে—যেমন জীববৈচিত্র্য, উদ্ভিদ ও পানির গুণমান বৃদ্ধি করা—সেই সাথে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি করা, এবং সংরক্ষিত এলাকার আশেপাশে বসবাসকারী মানুষের দক্ষতার উন্নতি ঘটানো।”
সিছুয়ান সফরের সময় চীনের বিখ্যাত জায়ান্ট পান্ডা ন্যাশনাল পার্ক পরিদর্শন করেন রদ্রিগেজ। তার মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় উদ্যানটি একটি সফল উদাহরণ।
রদ্রিগেজ বললেন, “এমন একটি পার্ক বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ—পান্ডা জাতীয় উদ্যান স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং পার্ক-সম্পর্কিত কার্যক্রমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভালো ফল দেখিয়েছে। এই অগ্রগতিকে প্রশংসনীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করি, কারণ এটি পার্কের অবকাঠামো উন্নত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে।”
আগে যেসব মানুষ খনি বা অন্যান্য সম্পদনির্ভর শিল্পে কাজ করতেন, তাদের অনেকেই এখন পর্যটন ও সেবাখাতে যুক্ত হয়েছেন। ফলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নও সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এই বিশেষজ্ঞের মতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ পুনরুদ্ধার, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং প্রকৃতি-নির্ভর অর্থনীতির বিকাশ—এই চারটি ক্ষেত্রকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার যে পদ্ধতি চীন অনুসরণ করছে, তা এখন বিশ্বের অনেক দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রদ্রিগেজ বলেন, অতীতে বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকা ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থাপনা ও নীতির অধীনে পরিচালিত হতো। কিন্তু জাতীয় উদ্যানভিত্তিক সংস্কারের মাধ্যমে চীন একটি অভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করেছে। এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশও অনুসরণ করতে পারে।
সিএমজি বাংলা





















