লেখক: এআই চট্টোপাধ্যায়
“তুমি আবার আমার জায়গায় বসেছ কেন?”
সাদিয়ার কণ্ঠে বিরক্তি।
মাহি চোখ তুলে তাকাল।
“এই বেঞ্চে তোমার নাম লেখা আছে নাকি?”
“আছে,” সাদিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “আলম বসে এখানে। আমি তার পাশে বসি।”
মাহি হেসে ফেলল।
“আলম সবার বন্ধু। শুধু তোমার না।”
দূরে দাঁড়িয়ে আলম আলমগীর সব শুনছিল। সে শুধু বলল,
“এই এই, যুদ্ধ বন্ধ করো। দুজনেই আমার বন্ধু।”
সাদিয়া মুখ ফিরিয়ে নিল।
মাহিও চুপ করে গেল।

ক্যাম্পাসে এই দৃশ্য নতুন না। সাদিয়া—শান্ত, গভীর চোখের মেয়ে। মাহি—চঞ্চল, সরাসরি কথা বলা। দুজনের একটাই মিল—মাহি আলমকে ভালোবাসে, আর সাদিয়াও।
কিন্তু আলম?
সে শুধু বন্ধু হিসেবেই জানে।
একদিন ক্যান্টিনে—
মাহি বলল,
“তোমার সমস্যা কী আমার সাথে?”
সাদিয়া শান্তভাবে জবাব দিল,
“সমস্যা নেই। শুধু… তুমি আলমকে নিয়ে বেশি কথা বলো।”
“কারণ আমি তাকে ভালোবাসি,” মাহি সোজাসাপ্টা বলল।
সাদিয়ার হাত কেঁপে উঠল।
“আমি-ও।”
দুজনেই চুপ।
তারপর মাহি ধীরে বলল,
“তাহলে ঝগড়া করে কী হবে?”
সাদিয়া মাথা নামিয়ে বলল,
“কিছুই না।”
সেদিন থেকে তারা ঝগড়া কমাল। কথা বলল। বন্ধু হলো—অদ্ভুত এক বোঝাপড়ায়।
এক বিকেলে লাইব্রেরির পেছনে—
মাহি ফিসফিস করে বলল,
“শোন, একটা কথা বলি?”
“বল,” সাদিয়া।
“আলম… সে আমাদের কাউকেই প্রেমের চোখে দেখে না।”
সাদিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“আমি জানি।”
মাহি কঠিন সিদ্ধান্ত নিল।
“তাহলে আমরা কেউই তাকে প্রস্তাব দেব না। তাকে স্যাক্রিফাইস করব।”
সাদিয়া তাকাল।
“মানে?”
“মানে, তাকে বন্ধু হিসেবেই থাকতে দেব। যেন সে কষ্ট না পায়।”
সাদিয়া চোখ বন্ধ করল।
“ঠিক আছে।”
কিন্তু তারা জানত না—এই কথোপকথনটা কারও কান এড়ায়নি।
আলম সব শুনেছে।
রাতে সে একা ছাদে দাঁড়িয়ে ভাবল।
“আমি কি এতটাই অদৃশ্য?”
পরদিন সে প্রথমে সাদিয়ার কাছে গেল।
“সাদিয়া,” আলম ধীরে বলল,
“আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।”
“বলো।”
“আমি… আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
সাদিয়ার চোখ ভিজে উঠল।
“না, আলম। তুমি ভুল ভাবছ।”
“কেন?”
“কারণ আমি চাই তুমি সুখী থাকো। আমার সাথে নয়।”
আলম কিছু বলল না।
সন্ধ্যায় মাহির সাথে দেখা।
“মাহি,” আলম বলল,
“তোমাকে আমি পছন্দ করি। শুধু বন্ধু না… তার চেয়ে বেশি।”
মাহি হাসল, কিন্তু চোখে পানি।
“দেরি হয়ে গেছে, আলম।”
“কেন?”
“কারণ ভালোবাসা কখনো জোর করে নেওয়া যায় না। আর আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না।”
আলম মাথা নুইয়ে ফেলল।
এক সপ্তাহ পর—
ক্যাম্পাসে আলম আর আসে না।
সাদিয়া বেঞ্চে একা বসে থাকে।
মাহি দূর থেকে দেখে।
একদিন মাহি এসে বলল,
“সে চলে গেছে।”
“আমি জানি,” সাদিয়া বলল।
“আমরা ঠিক করেছিলাম তাকে বাঁচাবো,” মাহি ফিসফিস করল।
সাদিয়া চোখ মুছল।
“কিন্তু নিজেরা বাঁচলাম না।”
দূরে সূর্য ডুবে যাচ্ছিল।
তিনটা রেখা—
দুটো সমান্তরাল, আর একটায় বিচ্ছেদ।
ভালোবাসা বেঁচে থাকল,
কিন্তু মানুষগুলো আলাদা হয়ে গেল।
(চলবে)











