উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সহায়তার কারণে আন্তঃসীমান্ত চিকিৎসা ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে চীন। এর ফলে দেশটির পরিষেবা-বাণিজ্য রপ্তানিতে চিকিৎসাখাত নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের রাজধানী কুয়াংচৌতে এই প্রবণতা বিশেষভাবে স্পষ্ট। শহরটি আন্তর্জাতিক ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উন্নত ও ঝামেলাহীন চিকিৎসার সন্ধানে বিদেশি রোগী ক্রমবর্ধমান হারে কুয়াংচৌর হাসপাতালগুলোতে আসছেন।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রধান বিদেশি রোগীকেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোতে ১২ লাখ ৮০ হাজার আন্তর্জাতিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তিন বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফেং সিয়াওছি জানান, গত এক দশকে বিদেশি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
তাদেরই একজন ইন্দোনেশিয়ার রোগী রোনাল্ড। নিজ দেশে যার চিকিৎসার কার্যকর বিকল্প খুবই সীমিত ছিল, সেই রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি চীনে এসেছেন।
রোনাল্ড ব্যক্তিগতভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাটি খুব ভালো এবং খুব চমৎকার। ডাক্তাররা খুব দয়ালু এবং তারা খুব ভালোভাবে সাহায্য করেছেন।‘
স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, নিজ দেশে কার্যকর চিকিৎসার বিকল্প সীমিত এমন রোগীদের জন্য কুয়াংচৌর হাসপাতালগুলো নির্ভরযোগ্য চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে।
শহর কর্তৃপক্ষ বিদেশি রোগীদের জন্য ১২টি সহায়ক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে এবং একটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পর্যটন পরিষেবা কেন্দ্র চালু করেছে। কেন্দ্রটি ভিসা সহায়তা, দূরবর্তী প্রাথমিক পরামর্শ এবং আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন সহজীকরণসহ বিভিন্ন সমন্বিত সেবা দিচ্ছে।
সূত্র: সিএমজি



















