জাপানের নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে ‘চীনের হুমকি’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা বেইজিংয়ের - Mati News
Friday, August 28

জাপানের নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে ‘চীনের হুমকি’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা বেইজিংয়ের

জাপানের নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে চীনকে ঘিরে উত্থাপিত তথাকথিত ‘চীন হুমকি’ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছেন সি বলেন, জাপান নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার অজুহাত হিসেবে এই বক্তব্যকে ব্যবহার করছে।

গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ছেন সি বলেন, চীনা সামরিক বাহিনী সম্পর্কে শ্বেতপত্রে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, চীনের বিরুদ্ধে জাপানের এই অভিযোগ ‘চোরের মুখে চোর ধরো’ বলার শামিল। এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে চীন তীব্র অসন্তোষ ও দৃঢ় বিরোধিতা জানাচ্ছে।

সম্প্রতি জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘জাপানের প্রতিরক্ষা ২০২৬’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। এতে চীনের সামরিক কার্যকলাপকে জাপানের ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তাইওয়ান অঞ্চলের আশপাশে চীনের সামরিক তৎপরতার সমালোচনা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ক্রমেই আরও গুরুতর বলে বর্ণনা করা হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ছেন সি শ্বেতপত্রটিকে ‘মিথ্যা বিবরণে পরিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা উদ্বেগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জাপান দীর্ঘদিনের সামরিক বিধিনিষেধ শিথিল করার চেষ্টা করছে।

ছেন সি’র ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানের শাসকগোষ্ঠী দেশের তিনটি প্রধান নিরাপত্তা নথির সংশোধন দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে, ধারাবাহিকভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে, দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা সম্প্রসারণ করছে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত ও জনমতের মধ্যে সামরিক সম্প্রসারণের ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জাপানের ‘নতুন সামরিকবাদ’ যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রকৃত হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে ছেন সি পুনর্ব্যক্ত করেন, তাইওয়ান প্রশ্ন চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং এটি চীন-জাপান সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ছেন সি বলেন, “আমরা জাপানকে তার আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে আন্তরিকভাবে আত্মসমালোচনা করতে, চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে, জাপানের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকতে এবং পুনঃসামরিকীকরণের ভুল পথে আরও এগিয়ে না যাওয়ার আহ্বান জানাই।”

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *