তাকাইচির ‘ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনৈতিক কাণ্ড’, সমালোচনার ঝড় - Mati News
Friday, May 8

তাকাইচির ‘ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনৈতিক কাণ্ড’, সমালোচনার ঝড়

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সফরকালে তিনি ক্যানবেরায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালে অজ্ঞাত অস্ট্রেলীয় সৈনিকের সমাধির সামনে দুই হাঁটু গেড়ে বসে ফুল অর্পণ করেন। আর তার এমন আচরণে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

অজ্ঞাত অস্ট্রেলীয় সৈনিকের এই সমাধি দেশটির হয়ে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত, যার মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতরাও রয়েছেন। ১৯৪২ সালে জাপানি বাহিনী ডারউইন বন্দরে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়, যাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

সমাধিতে তাকাইচির এমন আচরণ অনলাইনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে পশ্চিমাদের সন্তুষ্ট করতে একে ‘ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রদর্শনী’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকে উপেক্ষা করছেন এবং জাপানের আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে আত্মসমালোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

একজন এক্স ব্যবহারকারী জাপানি ভাষায় মন্তব্য করেছেন, ‘দেশ বিবেচনায় যুদ্ধে শিকারদের প্রতি আচরণ বদলে ফেলা সবচেয়ে খারাপ বিষয়। যথেষ্ট হয়েছে, এখনই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।’

ওই ব্যবহারকারী আরও উল্লেখ করেন যে, তাকাইচি অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধাহতদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসতে পারলেও তিনি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় দেশের ভুক্তভোগীদের সামনে তা করবেন না। তিনি লিখেছেন, ‘যদি এমনই হয়, তাহলে এটি খুবই দুঃখজনক এক চিত্র—যেখানে শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে স্পষ্ট হীনমন্যতা দেখা যায়: শ্বেতাঙ্গদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসা, কিন্তু এশীয়দের সামনে নয়।’

আরও অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী তাকাইচির সমালোচনায় যোগ দেন। আরেকজন এক্স ব্যবহারকারী লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে ক্যানবেরার অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালে অজ্ঞাত সৈনিকের সমাধিতে ফুল অর্পনে হাঁটু গেড়ে বসতে দেখা গেছে। যদি তিনি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিও একই ধরনের বিনয় দেখাতে পারতেন, তাহলে হয়তো সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো। কিন্তু তার একগুঁয়েমিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।’

আরেকজন প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না, তিনি অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা করতে পারেন, কিন্তু পূর্ব এশিয়ার জন্য পারেন না কেন? এটা কি তারা শ্বেতাঙ্গ বলে? ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয়েছে যে ক্ষমা চাওয়া মহৎ কাজ, আর তা প্রত্যাখ্যান করা লজ্জাজনক—তাহলে এখানে কী হলো?’

আরেকজন এক্স ব্যবহারকারী কড়া সমালোচনা করে লেখেন, “কূটনীতি হলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলা। স্পষ্টতই তিনি কাদেরকে সম্মান জানাবেন, তা নিজের মতো করে বেছে নিচ্ছেন। অতীতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেখে আমি মনে করি না তাকাইচি আমাদের মতোই অন্য দেশগুলোর ইতিহাস বা সংস্কৃতির প্রতি কোনো আন্তরিক সম্মান দেখান। অন্য এশীয় দেশগুলোর প্রতি মাতুব্বরি করা এমন ‘স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন’ রাজনীতিবিদদের জাপানের প্রয়োজন নেই।”

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জাপানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তাকাইচি প্রশাসনের সংবিধান সংশোধন ও অস্ত্র রপ্তানি সম্প্রসারণের মতো বিতর্কিত উদ্যোগের বিরুদ্ধেও মত প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: সিএমজি

Photo shows Japanese Prime Minister Sanae Takaichi kneeling in front of the Tomb of the Unknown Australian Soldier to lay flowers at the Australian War Memorial in Canberra, Australia, May 4, 2026. /VCG

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *