ফয়সল আবদুল্লাহ: প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা যার আরেক নাম মাইক্রোপ্লাস্টিক, এটি এখন বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। খাবার, পানি এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও এসব কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। চীনা গবেষকেরা প্রথমবার মানুষের মস্তিষ্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং সেগুলোর বিস্তারের ধরন শনাক্ত করেছেন। চার বছরে শতাধিক রোগী ও সুস্থ মস্তিষ্কের নমুনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব নমুনাতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার হেলথ সাময়িকীতে। তবে এসব কণা সরাসরি মস্তিষ্কের টিউমার সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ তারা পাননি।
বেইজিং থিয়ানথান হাসপাতালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, একদল চীনা গবেষক মানুষের মস্তিষ্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের পাশপাশি মস্তিষ্কের টিউমার ও সুস্থ টিস্যুতে এই প্লাস্টিকের অবস্থানের বিন্যাসও উন্মোচন করেছেন।
মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক এখন উদীয়মান বৈশ্বিক দূষক। এগুলো মানবদেহের টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে এবং মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন মানব অঙ্গে এদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এতদিন মস্তিষ্কে এদের ঘনত্ব বা প্রভাব সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য ছিল না।
গবেষকরা এ কাজে মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত ১১৩ জন রোগীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা ১৫৬টি রোগাক্রান্ত মস্তিষ্কের নমুনা এবং পাঁচজন মৃত দাতার কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৩৫টি সুস্থ মস্তিষ্কের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন গত ৪ বছর ধরে।
ফলাফলে দেখা গেছে, রোগাক্রান্ত মস্তিষ্কের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সুস্থ মস্তিষ্কের নমুনাগুলোর ১০০ শতাংশেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
নেচার হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রবন্ধ অনুসারে, সুস্থ মস্তিষ্কের টিস্যুর তুলনায় টিউমার সংলগ্ন মস্তিষ্কের টিস্যুতে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বেশি দেখা গেছে।
এদিকে, বেইজিং থিয়ানথান হাসপাতাল উল্লেখ করেছে, মোট প্লাস্টিক কণার অর্ধেকেরও বেশি ন্যানোপ্লাস্টিক, এই কণাগুলোর ব্লাড-ব্রেন বাধা অতিক্রম করে মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রবেশ করার আশঙ্কা বেশি।
মস্তিষ্কের টিস্যুতে এই প্লাস্টিক কণাগুলো কেন থাকে তা ব্যাখ্যা করার জন্য গবেষকরা দুটি সম্ভাব্য কারণের কথা বলেছেন।
প্রথমত, প্লাস্টিক কণাগুলো প্রাথমিকভাবে মস্তিষ্কের রক্তনালীর মধ্যেই থেকে যেতে পারে। আরেকটি অনুমান হলো, মস্তিষ্কের টিউমারের পরিস্থিতিতে ব্লাড-ব্রেন বা ব্লাড-টিউমার ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে প্লাস্টিক কণাগুলো এই বাধাগুলো অতিক্রম করে মস্তিষ্কের প্যারেনকাইমায় প্রবেশ করতে এবং সেখানে জমা হতে পারে।
গবেষকরা এই প্লাস্টিক কণাগুলোর সম্ভাব্য উৎসও অনুসন্ধান করেছেন। দেহের সঙ্গে ওজনের সামঞ্জস্য সূচক, বয়স, প্রসাধনী ব্যবহারের পরিমাণ এবং প্লাস্টিকের ফুড র্যাপ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে উচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দেখা গেছে।
থিয়ানথান হাসপাতালের নিউরোসার্জারি সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ছেন চিয়াওলিন বলেছেন, এই গবেষণায় মানব মস্তিষ্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের বণ্টন বৈশিষ্ট্য এবং প্যাথলজিক্যাল বাধার অবস্থা ও টিউমার বিস্তারের সূচকের সাথে এর সম্পর্ক চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কণাগুলোই যে মস্তিষ্কের টিউমারের বিকাশ, অগ্রগতি বা খারাপ পরিণতির কারণ, তা সরাসরি প্রমাণ করা যায় না।
সিএমজি





















