শুভ আনোয়ার
পাহাড়ি বা বরফাবৃত দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুতের খুঁটি বা টাওয়ার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী মালামাল বয়ে নেওয়া জটিল কাজ। এই সমস্যার সমাধানে নির্মাণ সহজ করতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে দুই টন ধারণক্ষমতার ভারী বস্তু বহনকারী নোঙ্গর করা বেলুন (টেথার্ড বেলুন) ব্যবস্থা চালু করেছে চীন।
এর ফলে ডানে-বামে সরিয়ে পাহাড়ি খাদের ওপর দিয়ে সহজেই দুই টন পর্যন্ত ভারী নির্মাণসামগ্রী সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া যায়। এতে পাহাড়ের পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয় না, আবার কাজও অনেক দ্রুত ও নিরাপদ হয়।
চীনের স্টেট গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, চীনের ‘গ্রেটার বে এরিয়া’য় একটি হাই ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজে এটি ব্যবহার করা হবে।
নির্মাণস্থলে দেখা যায়, নির্মাণ সাইটে ২৫ মিটার চওড়া এবং বিশাল আয়তনের একটি বেলুন ধীরে ধীরে আকাশে ওড়ানো হয়। মাটিতে থাকা রশির সাহায্যে এই বেলুনটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিচ থেকে ভারি নির্মাণসামগ্রী সহজেই মাটি থেকে ওপরে তোলা হয় এবং নির্দিষ্ট পথ দিয়ে তা একদম নিখুঁতভাবে পাহাড়ি কাজের জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
চীনের স্টেট গ্রিড ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ছিন চিয়ান জানান, ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় তারা সফলভাবে দুই টনের সর্বোচ্চ লোড টেস্ট সম্পন্ন করেছেন। এরপর ৫০০ মিটার সরলরৈখিক দূরত্ব এবং ১২০ মিটার উল্লম্ব পতনের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের উপকরণ উত্তোলনের কাজ পরিচালনা করা হবে।
এই পদ্ধতিতে হিলিয়াম গ্যাসভর্তি একটি বড় বেলুন আকাশে ওড়ানো হয় এবং মাটির সঙ্গে শক্ত রশি বা ক্যাবল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। মাউন্টেড রশিগুলো টেনে বা ছেড়ে বেলুনের উচ্চতা ও ডানে-বামে চলাফেরা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই বেলুনটি সর্বোচ্চ ৮০০ মিটার দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং একসঙ্গে দুই টন পর্যন্ত ভারী মালপত্র বইতে সক্ষম, যেখানে এর অবস্থানগত নির্ভুলতা আধা মিটারেরও (০.৫ মিটার) কম—অর্থাৎ একদম নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে মাল নামাতে পারে।
নতুন বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো যখন অধিক উচ্চতা, দূরবর্তী পাহাড়ি এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকার দিকে প্রসারিত হচ্ছে, তখন নির্মাণকাজের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপকরণ পরিবহন। ঐতিহ্যগতভাবে সড়ক নির্মাণ করে মালামাল পরিবহনের কাজ দীর্ঘমেয়াদি এবং তা প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর।
স্টেট গ্রিড হেনান পাওয়ার ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার ফেং থাও জানান, নির্মাণ অংশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা ৪ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত একটি জনমানবহীন পাহাড়ি এলাকা। সেখানকার অনেক টাওয়ার সাইট খাড়া রিজের ওপর অবস্থিত, যেখানে সড়কে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পুরো প্রকল্পের এটিই সবচেয়ে বেশি উচ্চতা, বিপজ্জনক ভূখণ্ড এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি অংশ। পাতলা বাতাস এবং প্রবল বাতাসের মতো অধিখ উচ্চতার কঠোর পরিবেশের সঙ্গে এই দুই টনের টেথার্ড বেলুনটি দারুণভাবে মানানসই এবং এর ধারণক্ষমতা ও স্থায়িত্ব পরিবহনের সমস্ত চাহিদা পূরণে সক্ষম।





















