সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা - Mati News
Friday, September 18

সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গঠনের ঘোষণা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

রোববার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই ঘোষণা শুধু একটি কূটনৈতিক অর্জন নয়; বরং পারস্পরিক আস্থা, গভীর সহযোগিতা এবং যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার।’

এ সময় অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কূটনীতি, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রস্তাবিত ‘২+২ সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম কৌশলগত সংলাপ দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের সদ্য অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সামঞ্জস্য রয়েছে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশই নিজস্ব বাস্তবতা, ইতিহাস ও উন্নয়নের দর্শন অনুসরণ করে অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের পথে এগোচ্ছে। এক দেশের উন্নয়ন মডেল অন্য দেশে হুবহু প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও জাতীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক তিতুমীর।

বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক সংকটের সময় জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বাস্তববাদী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, উৎপাদনশিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে চীনা বিনিয়োগকে বাংলাদেশ বিশেষভাবে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কানেক্টিভিটি বাড়িয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে না বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। জাতীয় স্বার্থ, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সূত্র: সিএমজি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *