সিপিসি-বহির্ভূত সদস্যদের নিয়ে সিপিসি-আয়োজিত সভায় ভাষণ দিয়েছেন সি চিন পিং - Mati News
Friday, July 31

সিপিসি-বহির্ভূত সদস্যদের নিয়ে সিপিসি-আয়োজিত সভায় ভাষণ দিয়েছেন সি চিন পিং

সিপিসি-বহির্ভূত সদস্যদের নিয়ে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটি। ২৪ জুলাই বেইজিংয়ে আয়োজিত ওই সভায় বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দলের নেতা, সর্ব-চীন শিল্প ও বাণিজ্য ফেডারেশন এবং দল-বহির্ভূত ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক কর্মসূচী বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করা হয়। সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক কাজে ভালো ফল পেতে হলে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে অগ্রগতির সাধারণ নীতি মেনে চলতে হবে। নতুন উন্নয়ন দর্শনকে পূর্ণ ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন মডেলের নির্মাণ ত্বরান্বিত করার কথাও বলেন তিনি।

সি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে সমন্বয় আরও ভালোভাবে করতে হবে,উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণকে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে অবিচল থাকতে হবে।

এ ছাড়া, পুরনো ও নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তির রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা, জনগণের জীবনযাত্রার মান কার্যকরভাবে নিশ্চিত ও উন্নত করা এবং উন্নয়নের গতি বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক প্রাণশক্তিকে উদ্দীপিত করার পাশাপাশি টেকসই ও ইতিবাচক অর্থনৈতিক উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়া এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার একটি ভালো সূচনা অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালানোর ওপর জোর দেন সি চিন পিং।

আলোচনাসভায় চীনা কুওমিনতাং বিপ্লবী কমিটির (আরসিসিকে) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান জেং চিয়ান পাং, চায়না ডেমোক্রেটিক লিগের (সিডিএল) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান তিং চুং লি এবং চায়না ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশনের (সিএনডিসিএ) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান হাও মিন চিনসহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

অংশগ্রহণকারীরা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিবেচনার সাথে সম্পূর্ণ একমত হন এবং নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি তৈরি ও শক্তিশালীকরণ, উদ্ভাবন শৃঙ্খল ও শিল্প শৃঙ্খলের একীকরণকে উৎসাহিত করা এবং বুদ্ধিমান অর্থনীতির প্রয়োগের জন্য মান ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।

সবার বক্তব্য শোনার পর সি চিন পিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বছরের প্রথমার্ধে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সকল অঞ্চল ও বিভাগ সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলোর কার্যকরভাবে মোকাবিলা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমার দেশ অর্থনীতি চাপের মুখেও উদ্ভাবন ও উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা ও প্রাণশক্তি প্রদর্শন করেছে।’

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। আমাদের অবশ্যই আত্মবিশ্বাস শক্তিশালী করতে হবে, অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে এবং স্থির ও টেকসইভাবে উচ্চমানের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।’

বছরের দ্বিতীয়ার্ধে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ চাহিদার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, প্রযুক্তিগত ও শিল্প উদ্ভাবনের গভীর সমন্বয়কে উৎসাহিত করা, সার্বিক সংস্কার গভীরতর করা, উচ্চপর্যায়ের উন্মুক্তকরণ প্রসারিত করা, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর ঝুঁকি দূর করা।

সূত্র: সিএমজি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *