বরগুনার তিন উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা: ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম - Mati News
Saturday, August 22

বরগুনার তিন উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা: ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম

বরগুনা জেলার তিনটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে মাত্র একজন কর্মকর্তার ওপর ভর করে। তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিপু সুলতানকে বর্তমানে নিজ দপ্তরের পাশাপাশি আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একাধারে তিনটি উপজেলার প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া তিনটি উপজেলাতেই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শূন্য পড়ে আছে।

নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে টিপু সুলতান জানান, একার পক্ষে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সপ্তাহের পাঁচ দিন তিনি তালতলীতে অফিস করেন এবং জরুরি প্রয়োজনে কেবল তখনই আমতলী ও পাথরঘাটা অফিসে যাতায়াত করেন। তিনি আরও জানান, জুনিয়র বৃত্তি থেকে শুরু করে ডিগ্রি পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় গিয়ে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এই দুই উপজেলায় একজন করে একাডেমিক সুপারভাইজার রয়েছেন, কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাদের পক্ষে সম্পাদন করা সম্ভব নয়।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সেলিম মাহমুদ জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে সেখানে কোনো মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। এছাড়া ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদটিও এক বছর ধরে খালি থাকায় দাপ্তরিক স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকলে কাজের চাপ কিছুটা কমত, কিন্তু জনবল না থাকায় অনেক সময় অফিসের বাইরে থেকে দাপ্তরিক কাজ সারতে হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক নেতারা। বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের আমতলী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *