বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ১০২ নম্বর পশ্চিম রাজগুরু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঠ নিচু হওয়ায় এবং আশপাশের সড়ক নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বা কালভার্ট না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারিকুল ইসলাম দুলাল জানান, বর্ষার সময় মাঠ ও প্রবেশপথে পানি জমে থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক সময় পানির মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। শিক্ষার্থীর অভিভাবক কাইয়ুম হোসেন খান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আমরা সবসময় শঙ্কিত থাকি, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত মাঠ ভরাট ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিষয়টি নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান স্বপন জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এবং দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিচু মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। পশ্চিম রাজগুরু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, বাবুগঞ্জসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিচু মাঠ ভরাটের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে এ ধরনের সংকট দ্রুত নিরসন হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠটি আশপাশের এলাকার তুলনায় নিচু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যালয়ে প্রবেশের একটি অংশের রাস্তাও বর্ষার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।















