বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তির সংখ্যা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও চীনা সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাহার।
চীন সরকারের বৃত্তির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, এই বৃত্তি শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয় না, বরং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করে।
চীনা সরকারি বৃত্তির মাধ্যমে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ায় চীন সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জান্নাতুন নাহার বলেন, এই বৃত্তি তার কাছে শুধু একটি শিক্ষাবৃত্তি নয়; এটি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক। চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে ফিরে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান, গবেষণার পরিবেশ এবং দেশটির সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত করে। একই সঙ্গে চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে পারেন।
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় চীনে সরকারি বৃত্তির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও সীমিত বলে উল্লেখ করেন জান্নাতুন নাহার। এ কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীন সরকারের সরকারি বৃত্তির সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তার মতে, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেলে দুই দেশের শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়বে এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, চীনা সরকারি বৃত্তির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন না; তারা দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিনিময়েরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
সহবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চীনে গিয়ে তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে চীনের মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। একইভাবে চীনের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা দেশে কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চীন সরকারের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পরে চীনা সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে দলীয় ছবি তোলা হয়। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি মি. ওয়াংকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সূত্র: সিএমজি বাংলা।















