শাংহাইয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই তৈরি হচ্ছে ভিএফএক্স দৃশ্য - Mati News
Monday, June 15

শাংহাইয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই তৈরি হচ্ছে ভিএফএক্স দৃশ্য

জুন ১৫, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: শাংহাই সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফিল্ম সিটিকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটিং পাওয়ার, ডাটা, এআই মডেল এবং এর বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এআই চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলছে শাংহাই। এর মাধ্যমে শহরটি মূলত চলচ্চিত্র এবং প্রযুক্তির একীভূত উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের ‘শাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ চলাকালীন একটি কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দেখিয়েছেন কীভাবে গ্রিন স্ক্রিন এবং ভার্চুয়াল স্টুডিওর সাহায্যে তরবারির ওপর ভর করে কারো উড়ে যাওয়ার দৃশ্য মাত্র ১০ মিনিটে তৈরি করা সম্ভব। অতীতে এই ধরনের দৃশ্য তৈরিতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।

শাংহাইভিত্তিক একটি ভার্চুয়াল প্রোডাকশন প্রযুক্তি কোম্পানির বিপণন পরিচালক ওয়াং ই বলেন, আমাদের নতুন এআই কার্যপদ্ধতি থ্রিডি (মডেল বা অ্যাসেট তৈরির ক্লান্তিকর প্রক্রিয়াটিকে পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারে। দৃশ্যের মধ্যে অভিনেতাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য আমাদের কেবল একটি সাধারণ সাদা মডেলের প্রয়োজন হয়। এর পরের বাকি সব কাজ—যেমন আলো-ছায়ার সমন্বয়, কম্পিউটার-জেনারেটেড ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং প্রথাগত ম্যানুয়াল প্রোডাকশন—সবকিছুই এআই নিজে থেকে করে নেয়। ফলে কাজের দক্ষতা ও গতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ক্রমাগত আধুনিকীকরণ এবং মানসম্মত কাজের অন্বেষণ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাতাদের জন্য ইন্ডাস্ট্রির মূল মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাংহাই সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফিল্ম সিটির ‘এআই ক্রিয়েশন ইকোসিস্টেম সেন্টার’-এর একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউ শিন বলেন, আমরা এখন সম্পূর্ণ এআই কার্যপদ্ধতি ব্যবহার করে একটি ক্লাসিক সাদাকালো চলচ্চিত্রকে ৬০ পর্বের একটি শর্ট ড্রামা সিরিজে রূপান্তর করার কাজ করছি। এর প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে, আমরা এখন উৎপাদন বা প্রোডাকশন পর্যায়ে মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১০০ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ একটি শর্ট ড্রামা প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করতে পারছি।

শাংহাইয়ের সোংচিয়াং জেলায় অবস্থিত এই ‘শাংহাই সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফিল্ম সিটি’ বর্তমানে ৮ হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি কম্পিউটিং পাওয়ার, ডাটা, মডেল এবং অ্যাপ্লিকেশন সিনারিও সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ চেইন বা এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে।

সূত্র: সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *