চীনের সিনচিয়াং অঞ্চলের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এমন একটি নতুন রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দুটি মারাত্মক প্রাণঘাতী হৃদরোগ আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে।
গবেষণাটি উত্তর-পশ্চিম চীনের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পিপলস হাসপাতালের অধ্যাপক ইয়াং ইয়িনিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক সাময়িকী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনস অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে মাত্র ৫-১০ মিনিটের মধ্যে রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে দুটি জরুরি হৃদরোগ—মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক) এবং অর্টিক ডিসেকশন—এর মধ্যে পার্থক্য করা যায়। এর নির্ভুলতার হার প্রায় ৯৪ শতাংশ।
এই দুই রোগের লক্ষণ প্রায় একই—হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা। কিন্তু চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত রক্ত জমাট ভাঙার ওষুধ দিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে হয়। কিন্তু অর্টিক ডিসেকশনের ক্ষেত্রে সেই ওষুধ ব্যবহার করলে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই অনেক সময় এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে এ ধরনের রোগ শনাক্ত করতে সাধারণত কনট্রাস্ট সিটি স্ক্যানের মতো ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে এসব পরীক্ষার জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি ও বেশি সময় লাগে এবং অ্যাম্বুলেন্স বা ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তা ব্যবহার করা কঠিন।
গবেষকরা জানান, নতুন পদ্ধতিতে রোগ অনুযায়ী রক্তে তৈরি হওয়া আলাদা মলিকিউলার ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ শনাক্ত করা হয়। এজন্য তারা রামান স্পেকট্রোস্কপি এবং ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপি নামে দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যা রক্তের সিরাম থেকে জৈবরাসায়নিক তথ্য সংগ্রহ করে।
এরপর এই তথ্য বিশ্লেষণের জন্য একটি ডিপ লার্নিং মডেল তৈরি করা হয়েছে, যা দ্রুত দুই রোগকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে।
এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পরীক্ষামূলক ডায়াগনস্টিক যন্ত্র বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ছোট ও বহনযোগ্য যন্ত্র অ্যাম্বুলেন্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ব্যবহার করা যাবে।
ফয়সল/লুৎফর
সূত্র: সিএমজি
তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন



















