ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসায় টিসিএম এখন আরও নির্ভুল - Mati News
Friday, June 19

ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসায় টিসিএম এখন আরও নির্ভুল

ফয়সল আবদুল্লাহ

২০২৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে থিয়েনচিন ২০২৬ বৈশ্বিক ব্যবসায়িক নেতাদের গোলটেবিল বৈঠক। সেখানে পাকিস্তানের শিল্পপতি ও এনগ্রো করপোরেশনের চেয়ারম্যান হুসাইন দাউদ থেকে যান ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য অবস্থান করেন। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। শতবর্ষী চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তা রেন থাং-এর বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ নিয়েছিলেন তিনি।

দাউদের মতে, রোগের উপসর্গ নয়, বরং মূল কারণ বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা দেয় টিসিএম। অন্যদিকে পশ্চিমা চিকিৎসা সাধারণত একই রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একই ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে।

থিয়েনচিন ফার্মাসিউটিক্যালস তা রেন থাং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়াং লেই বলেন টিসিএম-এর মূল শক্তি হলো এর ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি। একই সর্দি-কাশির ক্ষেত্রেও রোগীর শারীরিক গঠন, পরিবেশ ও উপসর্গ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য চীন এখন প্রযুক্তির সহায়তায় টিসিএম খাতকে আধুনিকায়ন করছে। এর অন্যতম উদ্যোগ হলো ‘থিয়েনচিন আধুনিক টিসিএম-এ নতুন মানের উৎপাদনশীল উদ্ভাবনী প্রকল্প’। চাং বোলির নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রকল্পে ১৮ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করা হয়েছে।

চাংয়ের মতে, ‘এআইর মাধ্যমে এখন ওষুধ উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ভেষজ ওষুধ সেদ্ধ করার সময় ফার্মাসিস্টরা বুদবুদের আকার দেখে তাপমাত্রা অনুমান করতেন, যেখানে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ত্রুটি থাকত। এখন রোবট নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় আদর্শ ১০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নির্ভুলভাবে বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ১৫ শতাংশ শক্তি সাশ্রয় হচ্ছে এবং ওষুধের মানও উন্নত হচ্ছে।’

সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে একটি এআই-চালিত টিসিএম নির্ণয় যন্ত্র বিদেশিদের আকৃষ্ট করে। জিভের অবস্থা, মুখমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন দৃশ্যমান তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রোগীর শারীরিক গঠন ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে পারছে।

চাং বোলি আরও বলেন, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে টিসিএম শিল্প হাতে-কলমে পরিচালিত পদ্ধতি থেকে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছিল। বর্তমানে এটি ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে।

চাং বলেন, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ওষুধ রক্তে শর্করা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর হলেও টিসিএম দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা প্রতিরোধে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীদের জন্য আরও ভালো ফল বয়ে আনছে।

এই সাফল্যের প্রতিফলন আন্তর্জাতিক বাজারেও দেখা যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ তৈরি করা দা রেন তাং বর্তমানে ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ১৪০টির বেশি পণ্য রপ্তানি করছে।

তথ্যসূত্র: সিএমজি

https://img2.chinadaily.com.cn/images/202606/19/6a349fd0a310986e1017fee8.jpeg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *