ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে - Mati News
Wednesday, June 10

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে

ফয়সল আবদুল্লাহ

চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। গবেষকরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে যকৃতের কোষের (হেপাটোসাইট) চর্বি বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া সাত দিনের কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) পরিবেশে কোষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে চর্বি বিপাককে প্রভাবিত করে, তা শনাক্ত করা।

চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মেকানিক্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক লি নিং বলেন, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি এমন বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে, যা যকৃতের কোষের বিপাকীয় কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

তিনি বলেন, যকৃত একটি জটিল যান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করে। লিভার ফাইব্রোসিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে এই পরিবেশে টিস্যুর দৃঢ়তা বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, যকৃতে অস্বাভাবিক চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্লুইড শিয়ার স্ট্রেস বা রক্তপ্রবাহের ঘর্ষণজনিত বল। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত যখন যকৃতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কোষগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কিন্তু মহাকাশে অল্প মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের তরল উপরের দিকে সরে যায়। ফলে হৃদযন্ত্রের উপরের অংশে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নিচের অংশে কমে যায়। এতে যকৃতে প্রবেশকারী রক্তের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ। ফলে যকৃতের ওপর রক্তপ্রবাহের যান্ত্রিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা কমে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমার হার বাড়তে শুরু করে।

এর আগে চীনের শেনচৌ-১৬ মহাকাশ মিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এসআরইবিপি নামের একটি প্রোটিন সক্রিয় হয়ে কোষের ভেতরে চর্বির কণিকা (লিপিড ড্রপলেট) বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ এর কার্যক্রম দমন করে এবং কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে।

পরীক্ষায় হেপাটোসাইটকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তিন ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হয়— স্থির কোষ সংস্কৃতি, কৃত্রিম রক্তপ্রবাহ পরিবেশ এবং ওষুধ-উদ্দীপিত রক্তপ্রবাহ পরিবেশ। মোট ছয়টি কোষ নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।

পুরো পরীক্ষাটি পৃথিবী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপিক চিত্র ধারণ করে কোষের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।

সপ্তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ কোষে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সেই সময়কার কোষীয় অবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর নমুনাগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে।

সূত্র: সিএমজি

https://news.cgtn.com/news/2024-07-29/China-Space-Station-How-do-Shenzhou-18-taikonauts-stay-healthy--1vD5XpGLa7u/img/9822ed39fb704fc3ae1c54f01ea77637/9822ed39fb704fc3ae1c54f01ea77637.jpeg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *