ইবোলা মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গোয় দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে চীন - Mati News
Saturday, July 4

ইবোলা মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গোয় দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে চীন

চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তা দিতে চীন ডিআর কঙ্গোয় দ্বিতীয় দফার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা জোরদার, স্থানীয় পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোগ মোকাবিলার কার্যপ্রণালি উন্নত করাই এই দলের প্রধান লক্ষ্য।

পরীক্ষাগার-ভিত্তিক রোগ নির্ণয়, ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা এবং শুল্ক বিভাগের একজন কর্মকর্তাসহ পাঁচ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ দল শুক্রবার ভোরে বেইজিং থেকে রওনা দেয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের কর্মকর্তা ও দলের প্রধান কু চিছিয়াং বলেন, দ্বিতীয় দফার এই মিশনের লক্ষ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

তিনি বলেন, ‘ইবোলা প্রাদুর্ভাব কীভাবে বিস্তার লাভ করছে এবং এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ডিআরসি কী ধরনের সহায়তা পেয়েছে, সে বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে ধারণা নেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।‘

কু আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ডিআরসির প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ও চীনা কমিউনিটিকে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবেন।‘

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ১৭ মে ডিআরসি ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।

বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিআরসি-তে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৬টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ৬০৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন। জুনের শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশী উগান্ডায় ডিআরসির এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০টি সংক্রমণ এবং ২টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

চীন গত ২ জুন পাঁচ সদস্যের প্রথম চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ দলকে ইবোলা মোকাবিলায় সহায়তা দিতে ডিআরসিতে পাঠিয়েছিল।

চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ভাইরাসজনিত রোগবিষয়ক গবেষক এবং নতুন দলের সদস্য সু ছিয়ুতোং বলেন, জুনের শুরু থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভাইরাসটি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।

গত মাসে চীন ইবোলা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশিকা এবং রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সংশোধিত প্রোটোকল প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলার কোনো আমদানি-জনিত বা স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়নি।

সিএমজি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *