উচ্চমানের উন্নয়ন ও পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সফল সূচনার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে - Mati News
Monday, August 3

উচ্চমানের উন্নয়ন ও পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সফল সূচনার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে

২০২৬ সাল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী। এটি চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম বছরও। ১০৫ বছরে চীনা জনগণের সুখ ও চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে সিপিসি।

চীনের উন্নয়ন ধারা এখন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে প্রবেশ করেছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়কার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান কৌশলগত কাজগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি উচ্চমানের উন্নয়নকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং পরিকল্পনার সফল সূচনার ভিত্তি গড়ে তুলছেন।

বর্তমানে চীনের উন্নয়ন কৌশলগত সুযোগ এবং নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে। অনিশ্চয়তা ও অপ্রত্যাশিত উপাদান ক্রমেই বাড়ছে। সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়নের মৌলিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্ত ভিত্তি নির্মাণে ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সন্ধিক্ষণে উন্নয়নের ‘রিলে দৌড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটন’ কীভাবে সফলভাবে বহন করা হবে—সেটিই বড় প্রশ্ন।

সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের সমন্বয় ঘটাতে হবে।’ উচ্চমানের উন্নয়নকে কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হিসেবে রেখে তিনি এ বছর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানুয়ারিতে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরো বছরের প্রথম যৌথ অধ্যয়ন অধিবেশন আয়োজন করে, যেখানে ভবিষ্যৎমুখী শিল্প ও অগ্রণী প্রযুক্তির উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং বেইজিংয়ের ইছুয়াংয়ে অবস্থিত জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন পার্ক পরিদর্শন করেন, যা ছিল তার চলতি বছরের প্রথম অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন। এই দুটি পদক্ষেপ আধুনিক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা ত্বরান্বিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে।

উচ্চমানের উন্নয়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো নতুন উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা। বছরের শুরু থেকে সাধারণ সম্পাদক সি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও স্থানীয় পরিদর্শনের সময় একাধিকবার এ কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রবাহকে শক্তিশালী করে উচ্চপর্যায়ের উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রাণশক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও ইতিবাচক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়।

সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নয়ন উচ্চমানের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। চলতি বছরে সাধারণ সম্পাদক সি দেশব্যাপী সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগও নিয়েছেন।

জাতীয় গণকংগ্রেস (এনপিসি) ও চীনা গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের (সিপিপিসিসি) অধিবেশন চলাকালে তিনি বলেন, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক প্রদেশগুলোর উচিত নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা, নতুন সমস্যা সমাধান এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।

অধিবেশন শেষে হ্যপেই প্রদেশের শিয়ংআন নতুন এলাকায় একটি সিম্পোজিয়ামের সভাপতিত্ব করেন সি চিন পিং। সেখানে শিয়ংআনের উচ্চমানের নির্মাণ ও উন্নয়ন এবং বেইজিং-থিয়েনচিন-হ্যপেই অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়নের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। জুনে তিনি পূর্ব-পশ্চিম সহযোগিতার স্বাভাবিকীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। জুনে পূর্ব-পশ্চিম সহযোগিতা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

একদিকে চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা, অন্যদিকে পূর্ব-পশ্চিম সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আনা—সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের এই কৌশলগত পরিকল্পনায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্পদ ও সক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য কৃষি ও গ্রামীণ এলাকার আধুনিকায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, জ্বালানি, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ, প্রশমন ও ত্রাণ সক্ষমতা—চলতি বছরের শুরু থেকেই সাধারণ সম্পাদক সি এসব খাতের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে তিনি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র একটি স্থিতিশীল ও টেকসই সূচনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

১ জুলাই সিপিসি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সমগ্র পার্টিকে ‘আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করা এবং সংগ্রাম অব্যাহত রাখার’ আহ্বান জানান।

কমরেড সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির দৃঢ় নেতৃত্বে সমগ্র পার্টি এবং দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর জনগণ পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন এবং চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

সূত্র: সিএমজি

C:\Users\chengmin.BANA12045D23\Desktop\afab67a8633a4c25963a428a67d819fb.jpeg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *