উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম: প্রয়োজন আইনি তৎপরতা ও সচেতনতা - Mati News
Thursday, April 16

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম: প্রয়োজন আইনি তৎপরতা ও সচেতনতা


অ্যাডভোকেট মোঃ এনামুল হক


বর্তমানে বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং পরিকল্পিত অপপ্রচারের মহোৎসব চলছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, একটি প্রশিক্ষিত গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। রাজনৈতিক ভিন্নমতকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন মিথ্যে তথ্য, বিকৃত উপস্থাপন কিংবা গুজব ছড়ানোর নোংরা পথ। এর ফলে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে সমাজে বিভাজন, অবিশ্বাস ও ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।

Advocate Md Enamul Hoque

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমরা যা-ই প্রকাশ করি না কেন, তার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ভার্চুয়াল জগতেও দেশের আইন সমানভাবে প্রযোজ্য। তথাকথিত ‘হাইপ’ তুলতে ব্যস্ত এই প্রশিক্ষিত কর্মীদের ফেসবুক পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করলে তাদের চরম মানসিক অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রাজনৈতিক যত নেতিবাচক ও কুরুচিপূর্ণ গুণাবলী আছে, তার সবই যেন তাদের পোস্টে প্রতিফলিত হয়।


আমাদের বুঝতে হবে, ফ্যাক্টচেক বা সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার করা কেবল অনৈতিকই নয়, বরং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি ভুয়া পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি সামাজিক অস্থিরতা ও দাঙ্গা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় আইন ও প্রশাসন নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না।

বাকস্বাধীনতা মানেই যা খুশি তা বলার অধিকার নয়। প্রকৃত বাকস্বাধীনতা হলো সত্য, দায়িত্বশীল এবং যুক্তিনির্ভর মতপ্রকাশের সুযোগ। অন্যের সম্মান ও অধিকার ক্ষুন্ন করে কোনো স্বাধীনতাই টেকসই হতে পারে না। যদি আমরা সমালোচনার ভাষা এবং প্রচারণার তথ্যের বিষয়ে দায়িত্বশীল না হই, তবে ডিজিটাল মাধ্যমের কোনো সুবিধাই আমাদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সুস্থ ও ইতিবাচক রাখতে হলে ব্যবহারকারীদের যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল’-কে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। ডিজিটাল যুগে বাকস্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই লাগামহীন অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজকে এমন এক বিষাক্ত গন্তব্যে নিয়ে যাবে, যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত সকলকেই নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *