Tuesday, May 24
Shadow

রোমান্টিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস “কৃ” পর্ব-৫

রোমান্টিক উপন্যাস ফ্যান্টাসি থ্রিলার উপন্যাস- কৃরোমান্টিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস “কৃ” পর্ব-৫ । ধ্রুব নীল

ছয় মাস কেটে গেল। এর মাঝে কিছুই ঘটল না। শুধু আমার মনটাই খারাপ ছিল। মন খারাপের কোনো গল্প হয় না। এর মাঝে দুয়েকবার কিংবা তারও বেশি, আমি বারে গিয়েছিলাম। রেশমা বুঝতে পেরেও কিছু বলেনি। আমার মনে হয় প্রত্যেক মানুষের অবচেতন মনের ক্ষমতা প্রায় এক। রেশমার অবচেতন মন ধরে ফেলেছে আমার মন খারাপ, এবং তা অন্য কোনো নারীর কারণেই। প্রথম দিকে মদ খেতে মোটেও ভালো লাগতো না। এখন রীতিমতো অ্যালকোহলিক হয়ে গেছি। এবার মূল ঘটনায় আসা যাক।
গত তিন দিন ধরে আমি হাসপাতালে। সিরিয়াস টাইপ টাইফয়েড। হাসপাতালে গিয়ে স্যালাইনের ব্যাগে করে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরাতেই ভয়াবহ সব স্বপ্ন দেখছি। এর মাঝে একবার সেই ডাকাত দলটাকেও দেখলাম। রাম দা হাতে তিন মুণ্ডুহীন ডাকাত আমাকে তাড়া করছে। আমার পাশে রেশমা। সে আবার দৌড়াতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েও গেল।
হাসপাতালে রেশমা আমার সঙ্গে ছিল প্রথম দিন। গতকাল থেকে সেও জ্বরের খপ্পরে। আজ আমি একা।
রাতে ঘুম ভেঙে গেল। জানালার কাচ বেয়ে ঘোলাটে চাঁদের আলো ঢুকলেও ঘড়িটা দেখতে পাচ্ছি না। একটু আগে বোধহয় ঝড় হয়েছে। ইলেকট্রিসিটি নেই।
শিরশিরে অনুভূতিটা আসি আসি করছে। কৃ কাছে থাকলে এমনটা হতো। এখন সে নেই। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব ঘটনাকে নিছক কল্পনা বলে চালিয়ে দেওয়া যেত, যদি না আমি সংবাদটা না পড়তাম। হাকালুকি হাওড়ের কাছে এক ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করার সংবাদ। যে ডাকাতের ঘাড়ের ডান পাশে গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে।
আমার পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি আর ট্রাউজার। এ অবস্থায় উড়ে যেতে অস্বস্তি লাগবে। এমনভাবে বললাম যেন আমি উড়তে পারি। কী মনে করে শার্ট-প্যান্ট পরে তৈরি হয়ে নিলাম। যেন এখুনি আমাকে কেউ নিতে আসবে।
অনেকক্ষণ কেটে গেলেও কেউ নিতে এলো না। দাঁড়িয়ে রইলাম বারান্দার গ্রিল ধরে। হাসপাতালের পনের তলার ওপর থেকে ঢাকার অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। আগের চেয়েও বেশি ছাদ। ছাদে মানুষজন নেই। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে থেমে থেমে। তবে বজ্রপাত হচ্ছে না।
ভেতরের তাগাদাটা উপেক্ষা করার মতো নয়। কেবিনের দরজা খুলে বের হলাম। এত রাতে পনের তলার গেইট বন্ধ থাকতে পারে। ইমার্জেন্সি গেট নিচতলায়। অতদূর যাব কী করে। ডিউটিতে থাকা নার্স চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছে। তাকে পার হয়ে গেলাম সাবধানে। লিফট বন্ধ হলেও পাশের ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোর দেখতে পেলাম। খুলবে কিনা জানি না। ধাক্কা দিয়ে দেখতে দোষ কী।
দরজাটা ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ করলেও ঘুম ভাঙলো না নার্সের। হুড়মুড়িয়ে রাস্তায় নামতেই ইলেকট্রিসিটি চলে এলো। বৃষ্টিভেজা শহরের ঝলমলে বাতিগুলো আমায় ছেঁকে ধরলো। প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাঁটা শুরু করেছি। জ্বর বাড়ছে টের পাচ্ছি। ঠাণ্ডা বাতাসে কেঁপে কেঁপে উঠলেও বিশেষ পাত্তা দিচ্ছি না।
আমি যেন কী করে জেনে গেছি আমাকে কোথায় যেতে হবে। মগজের ভেতর সিগনালটা পরিষ্কার। অবৈজ্ঞানিক কিছু ঘটছে না। আমাকে কেউ একজন ডাকছে এবং জিপিএস-এর মতো পথটাও দেখিয়ে দিচ্ছে। গন্তব্যটাও আগে থেকে চেনা। মদিরা বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। কৃ চলে যাওয়ার পর সেখানেই গিয়েছিলাম বেশ ক’বার।
শহরটা যেন হঠাৎ করেই জেগে উঠল আবার। মদিরা রেস্তরাঁর আন্ডারগ্রাউন্ডে একটা সংরক্ষিত হলরুমের মতো আছে। ওটার ভেতর আবার অনেকগুলো ছোট ছোট খুপরি ঘর। মাদকের ক্রেতা আর যৌনকর্মীদের রমরমা লেনদেন চলে সেখানে। আমার সব জানা থাকলেও ওদিকে আগে যাইনি কোনোদিন। আজ আমার মনের সঙ্কেত সেদিকেই নিয়ে চলছে। আমি জেনে গেছি খুব তাড়াতাড়ি আমি ওই সঙ্কেতের উৎসে পৌঁছে যাব।
মদিরার একটা গোপন দরজা খুললেই অন্ধকার সিঁড়ি। কেউ বাধা দেয় না। হলিউড মুভির মতো দরজার সামনে বিশালদেহী কোনো গার্ড দেখা গেল না। যেন একদমই বাইরের একটা জগৎ। অন্ধকার সিঁড়ির শেষপ্রান্তে অল্প পাওয়ারের একটা বাতি। এ বাতি কখনোই নেভে না। বাতির আড়ালে অন্ধকার। ওই অন্ধকারেই ঘাপটি মেরে আছে ভারী আরেকটা দরজা। আগাগোড়া সাউন্ডপ্রুফ। বাইরে থেকে তিনবার টোকা দিলে একটা কী হোল খুলবে। ওটা দিয়ে আগন্তুককে দেখে সন্তোষজনক মনে হলে তবেই মিলবে ঢোকার অনুমতি।
আমি ঢুকেই সোজা হাঁটা দিলাম হলরুমের বাঁ দিকের কোণা বরাবর। কে এলো কে গেলো কারো নজর নেই কোনো দিকে। হলদে আর নীলাভ আলোয় চেহারাগুলো ঢাকা পড়ে আছে যতটা সম্ভব। কেউ কাউকে চেনে না, চেনার চেষ্টাও করে না। মদ আর মানুষের ভারী নিশ্বাস মিলেমিশে একাকার হয় এখানে।
একেবারে শেষপ্রান্তের বাঁ দিকে একটা সোফা রাখা। সোফার সামনে টেবিলে খালি বোতল, খালি গ্লাস। কিন্তু কাপড় ছেড়ে জড়াজড়ি করে কেউ শুয়ে নেই তাতে। একা একটা মেয়ে। পান করে বুঁদ হয়ে আছে। চুল কাঁধ পর্যন্ত ছাঁটা। পরনে টিশার্ট আর শর্টস। কেউ মেয়েটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে না। হয় কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না। বা পেলেও হয়তো বুঝে গেছে এর কাছে আসাটা কোনো কারণে ঠিক হবে না।
‘হ্যালো।’
মেয়েটার চিবুক তার বুকের কাছে ঠেকে আছে। আমার ডাক শুনে মাথাটা তোলার চেষ্টা করে আবার রেখে দিল বুকের কাছে। আমি পাশ ঘেঁষে উবু হয়ে চেহারাটা দেখার চেষ্টা করছি।
‘হেই.. আমাকে চিনতে পারোনি?’ মেয়েটাই বলল। মাথা না তুলেই।
‘পেরেছি বলেই তো এসেছি। কেমন আছো কৃ?’

রোমান্টিক উপন্যাস

‘কৃ? হু ইজ কৃ। আমি মিস কেইটি। ক্যাট বলে ডাকে সবাই।’
‘তুমি বিড়াল পছন্দ করো? আমি একদমই করি না। করি না মানে রীতিমতো ভয় পাই। একবার একটা বিড়াল…।’
‘হেই, রনি! রনি!’
হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো একটা তাগড়া যুবক। আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যেন এখুনি তাজা চিপসের মতো কুড়মুড়িয়ে খাবে।
‘স্কচ নিয়ে আসো। যাও।’
‘ওকে মিস কেইটি। আর কেউ বিরক্ত করলে জানাবেন। ঘাড় ধরে বের করে দেব।’
‘কৃ! কৃ!’
আমি তার কাঁধ ধরে ঝাঁকালাম। এবার সে মুখ তুলে আমার দিকে তাকাল। চেহারা ঠিকঠাক থাকলেও আগের সেই দৃষ্টি নেই। ঢুলু ঢুলু চোখজোড়া আমার চোখে তাকালেও দৃষ্টি অন্য কোথাও।
‘কী চাও শুনি!’
মাতালের মতো নয় ঠিক। মদ খেয়ে কৃর মাতাল হওয়ার কথা কিনা আমি জানি না। তবে ঘুম জড়ানো গলা। আবার বিড়বিড় করে বলল, ‘কী চাও বলো না! কেন এসেছো আমার কাছে। আমাকে খুঁজে পেলে কী করে।’
‘আমি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছি। আমার টাইফয়েড হয়েছিল। এখন মনে হয় সেরে গেছে।’
রনি ছেলেটা বোতল নিয়ে আসতেই আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম। ঘাবড়ে যাওয়ার মতো একটা শীতল চাহনি দিলাম তার দিকে। আমার হাতে বোতলটা ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল সুড়সুড় করে। গ্লাসে ঢেলে এক ঢোকে চালান করে দিলাম গলায়।
‘বাহ, খুব ড্রিংকস করা শিখেছো দেখছি। বউ জানে?’
‘জানুক। তাতে তোমার কী।’
‘আমার কী? আমার আবার কী? তোমার কোনো কিছুতেই আমার কিছু না। তুমি চলে যাও। আই হেইট ইউ।’
‘ভালো তো, ঘৃণা করার জন্য অন্তত আগে ভালোবাসতে হয়।’
‘দেখো, তুষার। লক্ষী ছেলের মতো বোতলটা রেখে চলে যাও। কী যেন নাম। হ্যাঁ, রেশমার কাছে যাও।’
আমি খপ করে ধরে ফেললাম কৃর হাত। টেবিলে ছলকে পড়ল স্কচ। সাহস পেয়েছি কৃর কথাবার্তাতেই। এখনো আমার প্রতি দুর্বলতার রেশ কাটেনি তার। তা না হলে রেশমাকে নিয়ে খোঁচাটা দিত না। কৃর হাতটা টেনে আনলাম কাছে। অবিকল লুনার সেই হাত। চুমু খেতে গিয়েও খেলাম না। ধরে রাখলাম শুধু। থাকুক কিছু অপূর্ণ ইচ্ছা।
‘ছাড়ো! তা না হলে বিড়ালছানার মতো ঘাড় ধরে বাইরে ফেলে দিয়ে আসবো।’
‘কে ফেলে দেবে? ওই ছোকড়া? ডেকে দেখোই না।’
‘অ্যা.. আসছে আমার বীরপুরুষ। একটা ডাকাত মেরে একেবারে মহাবীর আলেকজান্দার হয়ে গেছেন।’
‘আরো দুচারটা মারতে কতক্ষণ! শুধু আরেকবার উড়তে দাও!’
‘হুহ..।’

 

রোমান্টিক উপন্যাস

 

ধরে ফেললাম ওর বাকি হাতটাও। টেনে নিয়ে আসলাম কাছে। কৃ মুখ তুলে আছে আমার অপেক্ষায়। অনেক কষ্টে খোলা রেখেছে চোখ। কাঁপছে চোখের পাতা। আমার মনে হচ্ছে ওই চোখের পাতার কাঁপুনি বন্ধ না হলে আমি এখুনি মারা যাব।
‘আমাকে এতই ঘৃণা করো? তবে হাত দিয়ে মদ খাইয়ে দাও। গ্লাসের দরকার নেই। আপাতত মদই যথেষ্ট।’
বদলে যেতে লাগল কৃর দৃষ্টি। এবার সেও পাল্টা আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো। চোখ বুঁজে নিজেই এগিয়ে আসতে লাগল আমার নিঃশ্বাসের কাছাকাছি।

রোমান্টিক উপন্যাস

‘তোমার চুমুর দরকার নেই আমার। তুমি শুধু আমার সঙ্গে কথা বলো কৃ।’
কবিতাটা পরিচিত মনে হলো। তবে বাকি লাইনগুলো মনে পড়ল না। কিন্তু এ মুহূর্তে এরচেয়ে মানানসই আর কী হতে পারে! আমি কৃর সঙ্গে কথা বলতে চাই। অনন্তকাল ধরে। মনে হলো এই মাত্র আমি আবিষ্কার করলাম যে আমি ঠিক কী চাই।
একটু আগেও মাথায় ঘুরছিল অন্য চিন্তা। কৃ আমাকে ছয়টা মাস যন্ত্রণার একটা গুহায় চাপা দিয়ে চলে গিয়েছিল। পাল্টা অভিমানে প্রতিশোধের কূটকৌশল খেলা করছিল মাথায়।
ছেড়ে দিলাম ওকে। ছাড়া পেয়েই হাতে গ্লাস তুলে নিল। সেটাকে গালের কাছে ঠেকিয়ে কৌতুকভরা চোখে আমায় দেখছে। ও কী ভেবেছে, ওর এমন আচরণ দেখে রাগ দেখিয়ে বের হয়ে যাব? আর কখনোই ওর কথা ভাববো না?
ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলাম। কৃকে মনে হলো বিরক্ত। অথবা কিছু সহ্য করতে পারছে না এমনভাবে নড়েচড়ে বসলো। তারপর একেবারে ঝুঁকে এলো আমার দিকে। আমার নাকে নাক লাগিয়ে আদুরে গলায় বলল, ‘সেক্স করবে? পাশের রুমটা একদম খালি। কেউ ডিসটার্ব করবে না। তোমার যতক্ষণ খুশি থাকতে পারবে। যেভাবে চাইবে.. সব পাবে.. আমি তো জানি তোমার মাথায়… হা হা হা।’
উঠে দাঁড়ালাম। টেবিল থেকে বোতলটা তুলে ঢক ঢক করে গলায় ঢাললাম যতটা পারা গেল। তারপর সেটা ধরিয়ে দিলাম কৃর হাতে। কৃ ঠোঁট বাঁকিয়ে ভ্রƒ কুঁচকে আমার কাজকর্ম দেখল। তারপর কিছুটা হেঁটে পেছন ফিরে তাকালাম, ‘তোমার মন চাইলে অন্য কারো সঙ্গে যা খুশি করো। আমি চললাম।’

রোমান্টিক উপন্যাস

কৃ এতটা নাটকীয়তা আশা করেছে কিনা জানি না। আমি অন্তত করিনি। ভারী দরজাটা খুলে ফেললাম এক ধাক্কায়। তারপর সিঁড়ি বেড়ে উঠছি। অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে আচমকা আধা বোতল মদের রিয়েকশনে কিনা, আমার আর কিছুই খেয়াল নেই। ঠিক কোন পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়েছিলাম জানি না।
নিজেকে ধুম করে আবিষ্কার করলাম একটা ছোট্ট আলো আঁধারি ঘরের নরম এক বিছানায়। হাসপাতাল নয় নিশ্চিত। কারণ নাকে ফিনাইল নয়, মদের গন্ধ। আলোর ঝলকানি আর হাই ভলিউমের মিউজিক থেমে থেমে দোলা দিয়ে যাচ্ছে কানে। একবার মনে হচ্ছে ডেথ মেটাল, আরেকবার রবি শংকর। সব গুলিয়ে ফেলছি। একবার মনে হলো আমি আমার শরীরের ভেতরেই আছি, আবার মনে হলো উপর থেকে শূন্যে ভেসে ভেসে দেখছি নিজের উদ্ভট সব কাজকর্ম।
আমার শরীরের ওপর নগ্ন কৃকে দেখে আমার আর লুনার কথা মনে পড়ল না। কারণ লুনাকে কখনো নগ্ন দেখিনি।
এ অন্য এক কৃ। অন্য এক বিস্ময়। আমার খুব কাছে। যার নিশ্বাস পাখির ডানার মতো ঝাপটা মেরে চলেছে আমার কাঁধে, বুকে। আবারও কবিতা বলছি? আগের সেই অনুভূতির কণাগুলো এবার ফেনায়িত ¯্রােত হয়ে ছুটে আসতে লাগল আমার দিকে। একটু পর পর স্রোত হয়ে আছড়ে পড়তে লাগল আমার নিউরনগুলোতে। মগজের ভেতর নানা রঙের বর্ণালী ঝিলিক দিচ্ছে। মুখ দিয়ে শুধু একটা শব্দই বের হচ্ছে, ‘কৃ! ওহ কৃ!’
ঠিক কতক্ষণ আমাদের সঙ্গম স্থায়ী ছিল জানি না। ক্লান্তি ভর করতেই চিৎ করে শুয়ে রইলাম সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে। আমার পেটের ওপর মাথা রেখে হুমড়ি খেয়ে পড়ল ও। ক্লান্তিতে নয়। ওর ক্লান্ত হওয়ার কথা নয়। ফোঁপাচ্ছে। আলতো করে চেপে ধরলাম মাথাটা। টেনে উপরে তুলতে চাইলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমার কাঁধের দুই পাশে দুটো হাত রেখে মাথা তুলে তাকাল কৃ। চোখে একসঙ্গে রাগ, প্রেম আর তৃপ্তির এক অদ্ভুত মিশেল।
চোখ রাখলাম কৃর চোখে। এতদিনের জমানো সব অভিমান আমার চোখেমুখে উপচে পড়ছে। সেসব পুরোটা কৃর চোখে মেখে দিলাম। চোখের ভেতর দিয়ে তথ্যপাচারের কৌশল ততদিনে আমার শেখা হয়ে গেছে। বললাম, ‘তুমি কৃ তাতে কী, আমি হচ্ছি মানুুষ। দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ। আমি পারি না এমন কিছু নাই। এবার পারলে তুমি পালিয়ে দেখাও আমার হাত থেকে।’
আহত চোখ জোড়া নামিয়ে ফেলল কৃ। যেন ভীষণ পরাজিত। আবার এও হতে পারে, আমাকে ইচ্ছে করেই জিতিয়ে দিল। সেটাই হবে হয়তো। সবই হয়ত কৃর প্ল্যান করা। সে জানতো আমি হাসপাতালের অসহ্য বিছানা ছেড়ে বারে আসবো। সে জানতো, আমাকে ছাড়তে না পেরে হেরে যাবে ও। তারপর পরাজয়ের বাহানায় হয়ে যাবে শারীরিক সম্পর্ক।
বাম হাত দিয়ে কৃর ঘাড় চেপে ধরলাম। ধীরে ধীরে নামিয়ে আনলাম ওর মুখটা। চুমু খাওয়ার আগেই কয়েক ফোঁটা পানি এসে পড়লো আমার গালে। কী আশ্চর্য! কৃ কাঁদছে এবং চোখ থেকে পানিও বের হলো, একদম আমার চোখের মতো!

রোমান্টিক উপন্যাস (ফ্যান্টাসি থ্রিলার) ”কৃ” (পর্ব-৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!