ফয়সল আবদুল্লাহ
সম্প্রতি পালিত হলো বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সমাজ দিবস। বিশ্বজুড়ে ‘সংযুক্ত বিশ্বে স্থিতিস্থাপকতা জোরদার’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে চলেছে আলোচনা, দেখানো হয়েছে ভবিষ্যতের দৃশ্যকল্প। আর ঠিক ওই সময়ই চীনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাত প্রবেশ করেছে উন্নয়নের এক আনকোরা ধাপে।
দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পর এখন চীনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্থিতিস্থাপক ও বুদ্ধিমান অবকাঠামোয়। শিল্পখাতের ডিজিটাল রূপান্তর এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করাই যার লক্ষ্য।
চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (এমআইআইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ চীনে মোট ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫জি বেস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই যোগ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এখন চীনের মোট মোবাইল বেস স্টেশনের ৩৮ দশমিক ২ শতাংশই ৫জি।
একই সময়ে ৫জি ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫ কোটি ৪০ লাখে, যা মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে গিগাবিট ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারী বেড়ে হয়েছে ২৪ কোটি ৯০ লাখ।
এ ছাড়া মোবাইলে পণ্য সামগ্রীর ইন্টারনেট (আইওটি) টার্মিনাল সংযোগের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকের শেষে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯৪ কোটি ৮০ লাখে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে মোবাইল ইন্টারনেটে ডেটা ব্যবহার হয়েছে ১০৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন গিগাবাইট, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
এদিকে পরবর্তী প্রজন্মের ৬জি নিয়েও গবেষণা এগিয়ে যাচ্ছে। এপ্রিলে নানচিংয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৬ গ্লোবাল ৬জি প্রযুক্তি ও শিল্প ইকোসিস্টেম সম্মেলনে ‘পার্পল মাউন্টেন ল্যাবরেটরিজ’ চীনের প্রথম প্রি-৬জি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্মোচন করেছে।
এই পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মহাকাশ–আকাশ–স্থল–সমুদ্র সমন্বিত স্থাপনায় ১৬টি সংযুক্ত নোড রয়েছে। গবেষকদের মতে, এ ব্যবস্থায় নিম্ন আকাশপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং সমুদ্র উপকূল থেকে ২৭ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যোগাযোগ কভারেজ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে যোগাযোগের বিলম্ব সময় (ল্যাটেন্সি) মাইক্রোসেকেন্ড পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্যতার হার পৌঁছেছে ৯৯ দশমিক ৯৯৯৯ শতাংশে।
সম্মেলনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের ৬জি শিল্পের প্রত্যক্ষ বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে চীন সমন্বিত মহাকাশ–আকাশ–স্থল–সমুদ্র নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, যাতে স্থলভিত্তিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা যায়।
গ্রামীণ এলাকাতেও ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। এমআইআইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯৮ শতাংশের বেশি প্রশাসনিক গ্রামে গিগাবিট অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক পৌঁছে গেছে এবং ৯৫ শতাংশের বেশি গ্রাম ইতোমধ্যে ৫জি কভারেজের আওতায় এসেছে।
সূত্র: সিএমজি




















