বিসিআই প্রযুক্তিতে আলো ছড়াচ্ছে চীনের থিয়েনচিন - Mati News
Wednesday, June 17

বিসিআই প্রযুক্তিতে আলো ছড়াচ্ছে চীনের থিয়েনচিন

ফয়সল আবদুল্লাহ

চীনের থিয়েনচিনে সম্প্রতি ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তির জন্য একটি বিশেষায়িত শিল্প ক্লাস্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে নন-ইনভেসিভ (অস্ত্রোপচারবিহীন) বিসিআই প্রযুক্তির গবেষণা ফলাফলের বৃহৎ পরিসরে শিল্পায়ন ও ব্যবহার আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

সম্প্রতি থিয়েনচিন সরকার ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জন্য ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস উদ্ভাবনী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ৫০টি উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উন্নত উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে বিসিআই পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি মূল্যের একটি শিল্প তহবিল গঠন করা হবে এবং ১০টিরও বেশি নন-ইনভেসিভ বিসিআই পণ্যকে ব্যাপক ক্লিনিক্যাল ব্যবহারে আনা হবে।

হাইহ্য ল্যাবরেটরি অব ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড হিউম্যান-মেশিন ইন্টিগ্রেশনের নির্বাহী উপপরিচালক নিও কুয়াংচিয়ান বলেন, ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বর্তমানে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। গত এক দশকে গবেষণা, উন্নয়ন ও বাস্তব প্রয়োগের পূর্ণাঙ্গ শিল্পশৃঙ্খল গড়ে তোলার ফলে থিয়েনচিনের নন-ইনভেসিভ বিসিআই প্রযুক্তি বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, ইলেকট্রোড, অ্যালগরিদম,মূল চিপ, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও প্রয়োগ—সব ক্ষেত্রেই থিয়েনচিনের শক্তিশালী শিল্পভিত্তি রয়েছে। ২০২৪ সালে থিয়েনচিন বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রথমবারের মতো ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে।

থিয়েনচিন বিনহাই নিউ এরিয়ার উচ্চপ্রযুক্তি অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ২০টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠান হার্ডওয়্যার গবেষণা, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনসহ বিসিআই শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ক্লাস্টার গড়ে তুলেছে।

২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত থিয়ানখাই সুইশি ইন্টেলিজেন্স টেকনোলজি ইতোমধ্যে বিসিআইভিত্তিক চিকিৎসা যন্ত্র ও চিকিৎসা সমাধান তৈরি করেছে, যা দেশের ১০টির বেশি প্রাদেশিক অঞ্চলের কয়েক ডজন হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক কু বিন জানান, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা প্রয়োগে ডান পাশে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক স্ট্রোক রোগীকে বিসিআই পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চিকিৎসাকালে রোগীর মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে পুনর্বাসন যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা হয়। চিকিৎসার পর রোগী নিজে থেকে শরীর ঘোরাতে সক্ষম হন এবং ডান পায়ের নড়াচড়ার ক্ষমতা ফিরে পান।

কু বিনের মতে, বিসিআই প্রযুক্তি শুধু শারীরিক পুনর্বাসনেই নয়, বিষণ্নতা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা, হাইড্রোসেফালাসের মতো জটিল রোগ নির্ণয় এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: সিএমজি

https://img2.chinadaily.com.cn/images/202606/16/6a30a0b7a310986e1017bfab.png

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *