
উত্তরের বাতিঘর নামে খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন অন্যতম প্রধান বিভাগ “বাংলা”। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার আঠারো বছর কেটে গেছে৷ সেই সাথে বাংলা বিভাগও আঠারোটি বছর কাটিয়েছে। বাংলা বিভাগ এখন তারুণ্যের শক্তিতে মহীয়ান। সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছেন
“আঠারো বছর বয়স কি দু:সহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি। “
এবার বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন। এমন একটি কাজ করেছেন যা বাংলা বিভাগে কোনোদিন হয় নি৷ এই আঠারো বছরে বাংলাবিভাগে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছে পুনর্মিলনী ও পিকনিক। যেখানে একত্রিত হয়েছেন প্রথম আবর্তন থেকে শুরু করে আঠারোতম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের এক অনন্য মিলনমেলা। ছয় নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অনুষ্ঠানটি বেরোবি ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায়৷ এই অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলা তেরোতম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা, আর তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অন্যান্য ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীরা কাজ করে এই মিলনমেলাকে সফল করেছেন। আঠারোয় দুর্বার হয়েছে বাংলা বিভাগ৷ এই অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি পাওয়া যায় নি, পাওয়া যায় নি কোনো সাহায্য। কিন্তু বাংলা যে এখন চির তরুণ। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্পর্ধা দেখিয়ে নিজেরাই চাঁদা দিয়ে এবং প্রাক্তন অগ্রজদের সাহায্যে এই অনুষ্ঠান সফল করেছেন। অনেকেই বলেছিল এই অনুষ্ঠান সফল হবেই না। কিন্তু বাংলা বিভাগের কতিপয় তরুণের রক্তে জ্বলছিল আগুন। তাই তাঁরা পণ করেছিলেন যেভাবেই হোক এই অনুষ্ঠান হবেই৷ অত:পর খুবই আনন্দের সাথে পালিত হলো বাংলা বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। এখানে বর্তমান শিক্ষার্থীরা যেমন উপস্থিত ছিলেন, তেমনি ছিলেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। যাঁদের মধ্যে আজ অনেকে দেশের বড় বড় পদে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে আছেন৷ এনাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী শ্রদ্ধেয় সিরাজাম মুনিরা, যিনি বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ড. তুহিন ওয়াদুদ স্যার, খাইরুল ইসলাম পলাশ স্যার। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ফুল দিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তারপর ছিল অনুভুতি ব্যক্ত করার পর্ব। প্রাক্তন, বর্তমান সকল শিক্ষার্থীর আবেগঘন বক্তব্য, স্মৃতিচারণে এক স্বর্গীয় আনন্দ জেগে উঠেছিল সকলের হৃদয়ে। তারপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতিভোজ এবং অবশেষে ড.তুহিন ওয়াদুদ স্যারের সমাপনী বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়েছে৷ বাংলা বিভাগের আঠারো বছরের ইতিহাসে এই ঘটনা প্রথম। এর উদ্যোক্তা বাংলা বিভাগের তেরোতম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তেরোতম ব্যাচের সূর্যোদয় হয়েছিল ২রা মার্চ ২০২২ সালে। দেখতে দেখতে তাঁদের সূর্যাস্তের সময় চলে আসছে। তাই তাঁরা ভেবেছিলেন সূর্যাস্তের আগে এমন কিছু করে যাবেন যা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা তা করে দেখিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম সাজ্জাদ, জীম, সুমন, মামুন, লাকু, আজিজ, মেঘনাদ প্রমুখ সহ আরও অনেকে। এবং একমাত্র নারী শিক্ষার্থী যিনি এই অনুষ্ঠান সফল করার জন্য জেদ ধরে বসেছিলেন এবং করে দেখিয়েছেন তিনি হলেন বাংলা তেরোতম ব্যাচের অন্যতম নক্ষত্র সাদিয়া সিদ্দিক নির্যাস। বাংলা বিভাগের অগ্রজ-অনুজ ভাই বোনদের মিলনমেলা নন্দনকাননে রূপ নিয়েছিল। এই স্মৃতি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমাদের সকলের হৃদয়ে।
লেখক: সেঁজুতি মুমু, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।




















