দিনাজপুর থেকে তুরস্ক : জাতিসংঘের COP31-এ অংশ নিচ্ছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আপেল - Mati News
Saturday, November 7

দিনাজপুর থেকে তুরস্ক : জাতিসংঘের COP31-এ অংশ নিচ্ছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আপেল

আশা মনি

জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, অভিযোজন অর্থায়ন ও বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরতে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন COP31-এ অংশ নিচ্ছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণ জলবায়ুকর্মী মো. আপেল আলী।
দিনাজপুর থেকে শুরু হওয়া স্বেচ্ছাসেবামূলক ও জলবায়ুবিষয়ক কার্যক্রমের পথচলা আজ তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে। ২০২০ সালে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়ে কাজ করতে করতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহ রূপ নেয় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বে।
বর্তমানে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির,কবি নজরুল সরকারি কলেজের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি Brighters-এর Senior Leadership Team Coordinator, VSO Bangladesh-এর Youth Volunteer এবং VDF-এর ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর জলবায়ুবিষয়ক কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র Brighters। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ ইয়ুথ কনফারেন্স অব পার্টিজ (BYCoP) আয়োজন ও সমন্বয়সহ তরুণদের জলবায়ু নেতৃত্ব বিকাশ, সচেতনতা তৈরি এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছেন। তাঁর বিশ্বাস, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের শুধু সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
এই ধারাবাহিক কাজের অংশ হিসেবেই এবার তাঁর অংশগ্রহণ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC)-এর অধীনে আয়োজিত COP31-এ। ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি প্রতিনিধি, জলবায়ু আলোচক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও তরুণরা অংশ নেবেন। জলবায়ু অভিযোজন, অর্থায়ন, জ্বালানি রূপান্তর, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল নগরায়ণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্মেলনের আলোচনায় স্থান পাবে।
COP31-এ তাঁর আগ্রহের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো Loss and Damage, Adaptation, Climate Finance এবং Meaningful Youth Participation। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি, পানিসম্পদ, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সেসব বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে চান তিনি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সংকট কীভাবে দেশের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনকে প্রতিনিয়ত কঠিন করে তুলছে, সেই বাস্তবতাও বৈশ্বিক আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আপেল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, এটি মানুষের জীবন, জীবিকা, খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের শুধু জলবায়ু সংকটের ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, বরং সমাধান ও নীতিনির্ধারণের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।”
তাঁর কাছে COP31 কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ নয়; বরং দেশের জলবায়ু বাস্তবতা, তরুণদের প্রত্যাশা এবং ন্যায্যতার দাবিগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের তরুণ জলবায়ুকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন যোগাযোগ তৈরির সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ুবিষয়ক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা, তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং জলবায়ু নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করার প্রত্যাশা তাঁর।দিনাজপুরের মাটি থেকে শুরু হওয়া তাঁর স্বেচ্ছাসেবামূলক পথচলা আজ তুরস্কের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছেছে। তবে এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের নয়; বরং দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক নতুন অধ্যায়।

আশা মনি
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *