টবে সহজেই বেগুন চাষ: ঘরের ছাদেই হতে পারে ছোট সবজি বাগান - Mati News
Monday, March 9

টবে সহজেই বেগুন চাষ: ঘরের ছাদেই হতে পারে ছোট সবজি বাগান

বেগুন আমাদের দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সবজি। প্রায় প্রতিদিনের রান্নায় এর ব্যবহার রয়েছে, আবার পুষ্টিগুণের কারণেও এটি বেশ সমাদৃত। আগে বেগুন মূলত শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন উন্নত জাত ও চাষপদ্ধতির কারণে সারা বছরই বেগুন উৎপাদন করা সম্ভব। এমনকি শহরের মানুষও চাইলে বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় টবে সহজেই বেগুন চাষ করতে পারেন।

eggplant in pot farming easy

কোন মাটি ভালো

বেগুন ভালো ফলন দেয় সাধারণত পলি দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটিতে। টবে চাষ করতে চাইলে ১০–১২ ইঞ্চি ব্যাসের মাটির টব ব্যবহার করা যায়। এছাড়া প্লাস্টিকের গামলা কিংবা অর্ধেক করে কাটা প্লাস্টিকের ড্রামও ব্যবহার করা যায়।

মাটি প্রস্তুতের সময় সমান পরিমাণে পলি দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটি নিতে হবে। এর সঙ্গে জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নিলে গাছ ভালো বাড়ে।

মাটি প্রস্তুত করার পদ্ধতি

মাটি তৈরি করার পর সেটিকে ১০–১২ দিন পর্যন্ত হালকা পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর মাটি খুঁচিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এতে মাটির ভেতর বাতাস ঢোকে এবং গাছের শিকড় সহজে বৃদ্ধি পায়।

চারা বা বীজ সংগ্রহ

বেগুনের চারা দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার বা শহরের নার্সারিতে সহজেই পাওয়া যায়। সেখান থেকে চারা কিনে এনে টবে লাগানো যায়।

যদি বীজ থেকে চারা তৈরি করতে চান, তাহলে বীজ ভালোভাবে শোধন করে প্রায় ছয় ঘণ্টা ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর বালি, মাটি ও কম্পোস্ট সমান পরিমাণে মিশিয়ে বীজ বপনের জন্য মাটি তৈরি করতে হবে। সাধারণত এক মাসের মধ্যেই চারা টবে লাগানোর উপযুক্ত হয়ে যায়।

চারা তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন শিকড়ের ক্ষতি না হয়। শিকড়ের সঙ্গে কিছুটা মাটি রেখে চারা টবে বসালে গাছ দ্রুত মানিয়ে নেয়।

রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ

বেগুন গাছে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা যায়। তাই গাছের দিকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

গোড়া পচা, ঢলে পড়া রোগ কিংবা পাতার আকার ছোট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় নার্সারি থেকে উপযুক্ত ওষুধ এনে স্প্রে করা যায়। এছাড়া ফল ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, মেলিবাগ, বিটল, সাদা মাছি বা জেসিডের আক্রমণ হলে কীটনাশক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা

বেগুন গাছের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকাগুলোর একটি হলো ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। এটি গাছের ডগা ও ফলের ভেতরে ঢুকে খেয়ে ফেলে এবং ফলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়।

স্থানীয় নাম

এই পোকার বিভিন্ন স্থানীয় নাম রয়েছে, যেমন

  • আলমারা
  • ডগাভাঙা
  • ফল ছিদ্রকারী পোকা

পোকাটির জীবনচক্র

  • পূর্ণবয়স্ক পোকা একটি মথ (প্রজাপতির মতো)।
  • মথ সাধারণত রাতের শেষ ভাগে উড়ে বেড়ায়।
  • মেয়ে মথ বেগুন গাছের কচি ডগায় ডিম দেয়।
  • ডিম থেকে কীড়া (লার্ভা) বের হয়ে ডগা বা ফলের ভেতরে ঢুকে খাবার খায়।

এর ফলে

  • ডগা শুকিয়ে যায়
  • ফল নষ্ট হয়ে যায়
  • রান্না করলে স্বাদ তেতো লাগে
  • কীড়া বড় হলে ডগা বা ফল ছিদ্র করে বের হয়ে মাটিতে গিয়ে কোকুন তৈরি করে।
    কোকুন থেকে আবার নতুন মথ বের হয়।
  • একটি মেয়ে মথ সারা জীবনে প্রায় ২৫০টি ডিম দিতে পারে।

ক্ষতির লক্ষণ

  • কচি ডগা শুকিয়ে যাওয়া
  • ফলের গায়ে ছোট ছিদ্র দেখা যাওয়া
  • ফল ভেতর থেকে পচে যাওয়া
  • গাছের বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  • মারাত্মক আক্রমণে পুরো গাছ মারা যেতে পারে

নিয়ন্ত্রণের উপায়

  • ভালো ও রোগমুক্ত মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহার করুন
  • ক্ষেত প্রতিদিন অন্তত ২ বার পর্যবেক্ষণ করুন
  • গাছের নিচের পুরোনো পাতা কেটে ফেলুন
  • ঝরা পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলুন
    • আক্রান্ত অংশ অপসারণ
    • আক্রান্ত ডগা, ফুল ও ফল কেটে ফেলুন
    • এগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলুন, ক্ষেতের পাশে ফেলবেন না

জাল ব্যবহার

  • ক্ষেতের চারপাশে ৩ মিটার উঁচু জাল দিন
  • জালের ছিদ্র হবে ০.৫ সেমি
  • সাদা নাইলনের জাল ব্যবহার করা ভালো

মথ ধ্বংস

খুব সকালে মথ উড়ে বেড়ায়, তখন ঝাড়ু দিয়ে মেরে ফেলতে পারেন

ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার

  • ক্ষেতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করুন
  • ফাঁদ ১০–১২ মিটার দূরে দূরে বসান
  • নিচে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানি রাখুন
  • ৪০ দিন পর ফেরোমন টোপ পরিবর্তন করুন

রোগের নামঃ বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা

  • লক্ষণঃ সাধারণত চারা রোপনের ৪/৫ সপ্তাহের মধ্যেই এ পোকার আক্রমণ শুরু হতে দেখা যায় । তবে বেগুন গাছে ফুল আসা শুরু হওয়ার পর আক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে । এই পোকার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে জমিতে সদ্য নেতিয়ে পরা ডগা চোখে পড়ে । ফল আসার পূর্বে এ পোকার কীড়া কচি ডগায় আক্রমণ করে এবং এর ভিতরে খেতে থাকে । পরবর্তীতে ফল আসার পর অধিকাংশ কীড়াই কচি ফলে আক্রমণ করে । কীড়া কোন কোন সময় ফুলও খেয়ে থাকে । পূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়ার পর কীড়া পুত্তলিতে পরিণত হওয়ার জন্য ফল থেকে সুড়ঙ্গ তৈরী করে মাটিতে নেমে আসে । কীড়া বের হওয়ার ছিদ্র ফলে স্পষ্ট দেখা যায় তবে ডগায় এই ছিদ্র পরিলক্ষিত নাও দেখা যেতে পারে । এ পোকা আক্রমণ শুরু হবার পর থেকে শেষ বার বেগুন সংগ্রহ পর্যন্ত চলতে থাকে ।
  • ব্যবস্থাপনাঃ ঋতুভেদে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায় । উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়া এ পোকার বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে গ্রীষ্মকালে এ পোকার ব্যাপকা আক্রমণ পরিলক্ষিত হয় । অন্যদিকে শীতকালে এ পোকার আক্রমণের হার কম থাকে । সেহেতু এ পোকা দমনের ব্যবস্থাপনাও ঋতুভেদে ভিন্নতর হওয়া বাঞ্চনীয় । গ্রীষ্মকালীন ব্যবস্থাপনা ১। সপ্তাহে অন্ততঃ একবার পোকা আক্রান্ত ডগা ও ফল বাছাই করে বিনষ্ট করতে হবে । ২। ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহারঃ চারা রোপনের ২/৩ সপ্তাহের মধ্যেই জমিতে ফেরোমন ফাঁদ পাততে হবে । (প্রতি শতাংশে ১টি) ৩। আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে জৈব বালাইনাশক, স্পেনোসেড ( ট্রেসার ৪ মিলি./ ১০ লি. পানি হারে ) স্প্রে করতে হবে । গাছের ফুল আসার সময় হতে প্রতি ২ সপ্তাহ অন্তর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে । ৪। প্রতি ১৫ দিন পর পর উপকারী পোকা, ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ও ব্রাকন হেবিটর পর্যায়ক্রমিকভাবে মুক্তায়িত করতে হবে । ৫। আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে ভলিয়াম ফ্লাক্সি ৩০০ এসসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিঃলিঃ হারে বা কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক যেমন: সানটাপ ২.৪ গ্রাম/ লি. হারে বা সাইপামেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: রিপকর্ড বা ফেনকর্ড বা ম্যাজিক বা কট ০.৫ মিলি./ লি হারে বা ডেল্টামেথ্রিন গ্রুপের কীটমাশক যেমন: ডেসিস বা ক্র্যাকডাউন ১ মিলি./ লি হরে বা এ পোকার জন্য অন্যান্য অনুমোদিত রাসায়নিক কীটনাশক ১০-১২ দিন পর পর ৪-৫ বার স্প্রে করতে হবে । শীতকালীন ব্যবস্থাপনা ১। সপ্তাহে অন্ততঃ একবার পোকা আক্রান্ত ডগা ও ফল বাছাই করে বিনষ্ট করতে হবে । ২। ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহারঃ চারা লাগানোর ২/৩ সপ্তাহের সধ্যেই জমিতে ফেরোমন ফাঁদ পাততে হবে । ৩। প্রতি সপ্তাহে একবার করে উপকারী পোকা, ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ ও ব্রাকন হেবিটর পর্যায়ক্রমিকভাবে মুক্তায়িত করতে হবে । ৪। আইপিএম প্রদ্ধতির এলাকাভিত্তিক প্রয়োগ করতে হবে । ৫। আক্রমণের মাত্রা বেশী হলে জৈব বালাইনাশক, স্পেনোসেড ( ট্রেসার ৪ মিলি./ ১০ লি. পানি হারে ) স্প্রে করতে হবে বা ভলিয়াম ফ্লাক্সি ৩০০ এসসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিঃলিঃ হারে বা কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক যেমন: সানটাপ ২.৪ গ্রাম/ লি. হারে বা সাইপামেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: রিপকর্ড বা ফেনকর্ড বা ম্যাজিক বা কট ০.৫ মিলি./ লি হারে বা ডেল্টামেথ্রিন গ্রুপের কীটমাশক যেমন: ডেসিস বা ক্র্যাকডাউন ১ মিলি./ লি হরে বা এ পোকার জন্য অন্যান্য অনুমোদিত রাসায়নিক কীটনাশক ১০-১২ দিন পর পর ৪-৫ বার স্প্রে করতে হবে ।
  • সাবধানতাঃ স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না ।
  • করনীয়ঃ ১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা।

বেগুনের ঘাস ফড়িং

লক্ষণঃ

এ ফড়িং পাতার শিরার মাঝখানের অংশ খেয়ে ফেলে। তাই সালোকসংশ্লেশনের হার কমে যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

এটি সাধারণত তেমন ক্ষতিকর নয়, তবে ব্যাপক আক্রমণ হলে- ১। আলোর ফাঁদ ব্যবহার করা । ২।শতকরা ২৫ ভাগ পাতা ক্ষতিগ্রস্থ হলে অনুমোদিত কীটনাশক যেমন- ভিটাব্রিল ৮৫ ডব্লিউপি ৩ গ্রাম বা সাইপারফস ২ মিলি/ লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

বেগুনের ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ

লক্ষণঃ

এ রোগ হলে গাছে হলুদ ও গাঢ় সবুজ ছোপ ছোপ মোজাইক করা পাতা দেখা দেয় এবং পাতা কুঁকড়ে যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। ক্ষেত থেকে আক্রান্ত গাছ তুলে পুতে ফেলা/ ডাল কেটে দেয়া। ২। জাপ পোকা এ রোগের বাহক, তাই এদের দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রিড ১ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

গাছের যত্ন

বেগুন গাছ দ্রুত বাড়ে। অনেক সময় গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই গাছ সোজা রাখতে পাশে একটি কাঠি বেঁধে দেওয়া ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে এবং মাঝে মাঝে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে।

গাছ একটু বড় হলে গোড়া থেকে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার রেখে উপরের অংশ ছেঁটে দিলে নতুন ডালপালা বের হয়। এসব নতুন ডালেও আবার বেগুন ধরতে শুরু করে।

সঠিক যত্ন নিলে ছাদের ছোট একটি টবেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তাই অল্প জায়গাতেই নিজের হাতে উৎপাদিত তাজা বেগুন পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

রোগের নামঃ বেগুনের পাউডারী মিলডিউ রোগ

  • লক্ষণঃ পাতা ও গাছের গায়ে সাদা পাউডারের মত দাগ দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে সমস্ত পাতায় ছড়িয়ে পড়ে । আক্রান্ত বেশী হলে পাতা হলুদ বা কালো হয়ে মারা যায় ।
  • ব্যবস্থাপনাঃ ১। সম্ভব হলে গাছের আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে ধ্বংস করুন। ২। ক্ষেত পরিস্কার রাখুন এবং পানি নিস্কাষনের ভাল ব্যবস্থা রাখুন। ৩। (ম্যানকোজেব+মেটালোক্সিল) গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: রিডোমিল গোল্ড ২ গ্রাম/ লিটার হারে অথবা সালফার ছত্রাক নাশক যেমন কুমুলাস ৪ গ্রাম বা গেইভেট বা মনোভিট বা থিওভিট ২ গ্রাম অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাক নাশ যেমন: গোল্ডাজিম ০.৫ মিলি. বা এমকোজিম বা কিউবি বা চ্যামপিয়ন ২ গ্রাম/ লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা ।
  • সাবধানতাঃ ১। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না। ২। আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করবেন না। ৩। এলোপাতারি বালাইনাশক ব্যবহার করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করবেন না।
  • করনীয়ঃ ১। আগাম বীজ বপন করুন। ২। সুষম সার ব্যবহার করুন। ৩। রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন: বারি উদ্ভাবিত/ অন্যান্য উন্নত জাতের চাষ করুন। ৪। বিকল্প পোষক যেমন: আগাছা পরিস্কার রাখুন।

বেগুনের ফোমোপসিস ব্লাইট রোগ

লক্ষণঃ

ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়। এতে ছোট চারা গাছের গোড়ায়, কান্ডে গাঢ় বাদামি ক্ষত দেখা যায় ও গাছ বড় হলে ফলের গায়ে হালকা বাদামি ক্ষত দেখা দেয় এবং ফল পঁচে যায় ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। স্প্রিংলার সেচ বা গাছের উপর দিয়ে সেচের পরিবর্তে ক্ষেতে নালা করে সেচ দেয়া। ২। আক্রান্ত ফল,পাতা ও ডগা অপসারণ করা। ৩। প্রপিকোনাজলগ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করা।

সাবধানতাঃ

১। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না। ২। একই জমিতে বার বার বেগুন চাষ করবেন না ।

করনীয়ঃ

১। রোগমুক্ত বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা। ৪। ফসল সংগ্রহের পর পরিত্যাক্ত গাছ ও আগাছা আগুনে পুড়িয়ে দিন।

বেগুনের হোয়াইট মোল্ড রোগ

লক্ষণঃ

ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। এতে পাতার বোটায়, কান্ডে ও ফলে সাদা তুলার মত বস্তু দেখা যায় ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। প্লাবন সেচের পরিবর্তে স্প্রিংলার সেচ দেয়া। ২। আক্রান্ত ফল,পাতা ও ডগা অপসারণ করা। ৩। বীজ লাগানোর আগে গভীরভাবে চাষ দিয়ে জমি তৈরী করা । ৪। (মেনকোজেব+ ফেনামিডন)গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: সিকিউর ২ গ্রাম / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করা।

সাবধানতাঃ

স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।

করনীয়ঃ

১।লাল মাটির ক্ষেত্রে চাষের পূর্বে জমিতে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি ডলোচুন প্রয়োগ করে জমি তৈরী করুন। ২। লাগানোর আগে প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: ব্যাভিস্টিন বা নোইন অথবা ৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে চারা শোধন করে নিন। ৩। রৌদ্রযুক্ত উচু স্থানে বীজতলা তৈরী করুন। ৪। বীজতলায় বীজ বপনের ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। ৫। জমিতে চারা লাগানোর ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। ৬। জমি তৈরি করার সময় শতাংশ প্রতি ১৩০ গ্রাম হারে কার্বোফুরান গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ফুরাডান সারের সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিন।

বেগুনের ক্ষুদ্র লাল মাকড়

লক্ষণঃ

এরা পাতার রস চুষে খায় তাই পাতা বিন্দু বিন্দু হলদে দাগের মত হয়ে পড়ে। অতি ক্ষুদ্র মাকড় পাতার উল্টো দিকে দেখা দেয়। কখনও কখনও এরা এক যায়গায় ঘনভাবে জড়ো হয়। তখন এদের সহজেই খালি চোখে দেখা যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। ক্ষেত থেকে মাকড় বা ডিমসহ আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা/ ডাল কেটে দেয়া অপসারণ করা। ২। জমিতে পরিমিত পরিমানে জৈবসার প্রয়োগ করা । ৩। পানি স্প্রে করা বা স্প্রিংলার সেচ দেয়া। ৪। মাকড় নাশক বা সালফার যেমন: থিওভিট/ কুমুলাস/ ভার্টিমেক বা ইনসাফ ইত্যাদি যে কোন একটি ২ মিলি বা ২ গ্রাম /লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা ।

সাবধানতাঃ

স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা।

বেগুনের পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা

লক্ষণঃ

ক্ষুদ্র কীড়া পাতার দুইপাশের সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। তাই পাতার উপর আঁকা বাঁকা রেখার মত দাগ পড়ে এবং পাতা শুকিয়ে ঝড়ে যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধংশ করা বা পুড়ে ফেলা। ২। আঠালো হলুদ ফাঁদ স্থাপন করা । ৩। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ( যেমন: কট ১০ ইসি) ১ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

সাবধানতাঃ

স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা ।

বেগুনের ফল বিকৃতি সমস্যা

লক্ষণঃ

কখনও কখনও ফলের আকার বিকৃতি ঘটে যার কারণে বেগুনের বাজার মূল্য কমে যায়। এর কারণ এখনও জানা যায়নি।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা ।

বেগুনের ফল ফেটে যাওয়া সমস্যা

লক্ষণঃ

তাপমাত্রার দ্রত পরিবর্তন, অতি পানি ঘাটতির পর হঠাৎ সেচ দেওয়া বা গাছের শরীরবৃত্তীয় কারণে কখনও কখনও বেগুন ফেটে যায়। এতে বেগুন খাবারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা।

সাবধানতাঃ

খরার সময় হঠাৎ জমিতে সেচ প্রয়োগ করবেন না।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। নিয়মিত জমির আদ্রতা পরীক্ষা করে সেচ দিন।

বেগুনের কোনিফেরা ব্লাইট রোগ

লক্ষণঃ

এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে পাতায় পানি ভেজা ক্ষত দেখা যায়। পরে পাতার আগা পুড়ে যায়, ফল পঁচে যায় এবং ফল,কান্ড ও শাখা কাল রং ধারণ করে এবং ছত্রাকের কাল মাথাযুক্ত সাদা সাদা বর্ধিত অংশ দেখা যায় ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করা । ২। রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি টিল্ট ২৫০ ইসি ১০-১২ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করা ।

সাবধানতাঃ

১। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন । ২। উপরি সেচ না দেয়া। ৩। একই জমিতে বার বার বেগুন চাষ না করা ।

করনীয়ঃ

১। সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। প্রোভেক্স বা হোমাই বা বেনলেট ১% দ্বারা বীজ শোধন করা । ৪।কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আগে ও পরে জীনানুমুক্ত রাখা।

বেগুনের লেদা পোকা

লক্ষণঃ

কীড়া পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। তাই পাতা ছিদ্র হয়ে যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। পোকাসহ আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধংশ করা বা পুড়ে ফেলা। ২। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ( যেমন: কট ১০ ইসি) ১ মি.লি. / লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

সাবধানতাঃ

১। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না ।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করা।

বেগুনের ফ্লি বিটল পোকা

লক্ষণঃ

পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা উভয়ই ক্ষতি করে । পূর্ণ বয়স্ক পোকা চারা গাছের বেশি ক্ষতি করে । এরা পাতা ছোট ছোট ছিদ্র করে খায় । আক্রান্ত পাতায় অসংখ্য ছিদ্র হয় ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১।হাত জাল দ্বারা পোকা সংগ্রহ । ২।পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ । ৩।চারা গাছ জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া । ৪।আক্রান্ত গাছে ছাই ছিটানো । ৫।০.৫% ঘনত্বের সাবান পানি অথবা ৫ মিলি তরল সাবান প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা । ৬.৫০০ গ্রাম নিম বীজের শাঁস পিষে ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তা ছেঁকে আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে ।

সাবধানতাঃ

স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করুন।

বেগুনের সাদা মাছি পোকা

লক্ষণঃ

পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা উভয়ই ক্ষতি করে । চারা গাছ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এরা পাতার রস খায় । আক্রান্ত পাতা বিবর্ণ হয় । পাতা কুকড়ে যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। হাত জাল দ্বারা পোকা সংগ্রহ করে মেরে ফেলা। ২। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ । ৩। ক্ষেতে হলুদ রং এর আঠালো ফাঁদ লাগানো । ৪। আক্রান্ত গাছে ছাই ছিটানো। ৫। ০.৫% ঘনত্বের সাবান পানি অথবা ৫ মিলি তরল সাবান প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা । ৬। ৫০০ গ্রাম নিম বীজের শাঁস পিষে ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তা ছেঁকে আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে । ৭। পোকা দমনের জন্য সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসাবে প্রতি লিটার পানিতে ডায়মেথোয়েট ৪০ ইসি ( রগর/ টাফগর/ সানগর/ পারফেকথিয়ন ) ১মিঃলিঃ বা এডমায়ার ১ মিঃলিঃ বা মেটাসিস্টক্স ১ মিঃলিঃ বা সবিক্রন ১মিঃলিঃ বা এসাটাফ- ১.৫ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে ।

সাবধানতাঃ

স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করুন। ৪। ফসলের অবশিষ্টাংশ ধংশ করে ফেলা।

বেগুনের ভার্টিসিলিয়াম উইল্ট রোগ

লক্ষণঃ

এ রোগ হলে গাছের পাতা হলদে হয়ে শুকিয়ে যায়, ধীরে ধীরে গাছ ঢলে পড়ে এবং মারা যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। আক্রান্ত গাছ অপসারণ করে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাক নাশক যেমন: ব্যাভিস্টিন মিশিয়ে চারা শোধন করে লাগানো। ২। গাছের আক্রান্ত অংশ তুলে ক্ষেত পরিস্কার করা ।

সাবধানতাঃ

১। আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করবেন না। ২। একই জমিতে পর পর বার বার বেগুন চাষ করবেন না ।

করনীয়ঃ

১। লাল মাটির ক্ষেত্রে চাষের পূর্বে জমিতে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি ডলোচুন প্রয়োগ করে জমি তৈরী করুন। ২। লাগানোর আগে প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: ব্যাভিস্টিন বা নোইন অথবা ৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে চারা শোধন করে নিন। ৩। রৌদ্রযুক্ত উচু স্থানে বীজতলা তৈরী করুন। ৪। বীজতলায় বীজ বপনের ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। ৫। জমিতে চারা লাগানোর ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। ৬। জমি তৈরি করার সময় শতাংশ প্রতি ১৩০ গ্রাম হারে কার্বোফুরান গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ফুরাডান সারের সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিন।

বেগুনের ঢলেপড়া রোগ

লক্ষণঃ

এ রোগ হলে গাছের পাতা হলদে হয়ে শুকিয়ে যায়, ধীরে ধীরে গাছ ঢলে পড়ে এবং মারা যায়।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। আক্রান্ত গাছ তুলে ক্ষেত পরিস্কার করা. ২। চারা লাগানোর ১০-১৫ দিন পর থেকে কপার অক্সিক্লোরাইড বা কাবেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: চ্যাম্পিয়ন ২ গ্রাম / লি. বা ব্যাভিস্টিন ১ গ্রাম/ লি. হারে পানিতে মিশিয়ে গাছে ও গাছের গোড়ায় ১০ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করা ।

সাবধানতাঃ

১। আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করবেন না। ২। একই জমিতে পর পর বার বার বেগুন চাষ করবেন না।

করনীয়ঃ

১। লাল মাটির ক্ষেত্রে চাষের পূর্বে জমিতে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি ডলোচুন প্রয়োগ করে জমি তৈরী করুন। ২। লাগানোর আগে প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: ব্যাভিস্টিন বা নোইন অথবা ৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে চারা শোধন করে নিন। ৩। রৌদ্রযুক্ত উচু স্থানে বীজতলা তৈরী করুন। ৪। বীজতলায় বীজ বপনের ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। ৫। জমিতে চারা লাগানোর ১৫ দিন আগে শতাংশ প্রতি ৮৫ গ্রাম হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছাই বা বালির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা পানি দিয়ে বা চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। ৬। জমি তৈরি করার সময় শতাংশ প্রতি ১৩০ গ্রাম হারে কার্বোফুরান গ্রুপের কীটনাশক যেমন: ফুরাডান সারের সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিন।

পাতা জ্যাসিড বা শোষক পোকা

লক্ষণঃ

পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা উভয়ই ক্ষতি করে । চারা গাছ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এরা পাতার রস খায় । আক্রান্ত পাতা বিবর্ণ হয় । পাতা হলুদে তামা রং হয় এবং পরে শুকিয়ে যায় ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১।হাত জাল দ্বারা পোকা সংগ্রহ । ২।পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ । ৩।ফাঁদ শস্য যেমন বেগুন ক্ষেতের চারদিকে ঢেঁড়স লাগানো । ৪।আক্রান্ত গাছে ছাই ছিটানো ৫।০.৫% ঘনত্বের সাবান পানি অথবা ৫ মিলি তরল সাবান প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা । ৬।ক্ষেতে মাকড়সা সংরক্ষণ করা (১টি মাকড়সা গড়ে দিনে ২-১৫টি জ্যাসিড শিকার করে খায় । ৭।৫০০ গ্রাম নিম বীজের শাঁস পিষে ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তা ছেঁকে জ্যাসিড আক্রান্ত ক্ষেতে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে । ৮।পোকা দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ডায়মেথোয়েট ৪০ ইসি (রগর, টাফগর, সানগর, পারফেকথিয়ন)১মিঃলিঃ এডমায়ার ১ মিঃলিঃ মেটাসিস্টক্স ১ মিঃলিঃ সবিক্রন ১মিঃলিঃ, এসাটাফ- ১.৫ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে ।

বেগুনের জাব পোকা

লক্ষণঃ

পোকা গাছের কচি পাতা ও ডগার রস শুষে খেয়ে গাছকে দুর্বল করে ফেলে ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১।গাছের আক্রান্ত অংশ অপসারণ করা ২।প্রাথমিক অবস্থায় শুকনো ছাই প্রয়োগ করা ৩।পরিস্কার পানি জোরে স্প্রে করা ৪।ক্ষেত পরিস্কার/পরিচ্ছন্ন রাখা । ৫।হলুদ রঙের ফাঁদ ব্যবহার করা । ৬।তামাকের গুড়া (১০গ্রাম), সাবানের গুড়া (৫গ্রাম) ও নিমের পাতার নির্যাস প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা । ৭।প্রতি গাছে ৫০ টির বেশি পোকা দেখা দিলে এডমেয়ার ২০ এসএল ০.৫ মিলি./লি হারে পানিতে শিশিয়ে স্প্রে করা।

সাবধানতাঃ

স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাবেন না বা বিক্রি করবেন না ।

করনীয়ঃ

১। আগাম বীজ বপন করা। ২। সুষম সার ব্যবহার করা। ৩। সঠিক দুরত্বে চারা রোপন করুন ।

বেগুনের ছাতরা পোকা

লক্ষণঃ

পূর্ণ বয়স্ক ও বাচ্চা উভয়ই পাতা, কান্ড ও ডগার রস চুষে খায়্ । আক্রান্ত স্থান কালো ঝুলের মত দেখায় আক্রান্ত পাতা ঝরে পড়ে ।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। আক্রান্ত ডগা, পাতা ও ডাল দেখা মাত্রা তা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা । ২। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ম্যালাথিয়ন বা সুমিথিয়ন ২ মিঃলি মারসাল ২০ ইসি ১মিঃলিঃ ডায়ামেথয়েট ৪০ ইসি ২মিঃলিঃ মিশিয়ে স্প্রে করা ।

বেগুনের পাতামোড়ানো পোকা

লক্ষণঃ

কীড়া অবস্থায় পাতা মোড়ায় এবং সবুজ অংশ খায় । এটি সাধারণত কচি পাতাগুলো আক্রমণ করে থাকে।

ব্যবস্থাপনাঃ

১।ক্ষেত পরিস্কার পরচ্ছন্ন রাখা । ২। আক্রন্ত পাতা সংগ্রহ করে নষ্ট করা । ৩।আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে সুমিথিয়ন, ফলিথিয়ন-২ মিঃলিঃ মিশিয়ে ভালভাবে স্প্রে করা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *