সাতক্ষীরায় চিংড়িঘেরের নোনাপানিতে নষ্ট হচ্ছে ১৫০ বিঘা জমির আমন ধান - Mati News
Sunday, August 30

সাতক্ষীরায় চিংড়িঘেরের নোনাপানিতে নষ্ট হচ্ছে ১৫০ বিঘা জমির আমন ধান

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদ-তীরবর্তী তেলিখালী বিল এলাকায় চিংড়িঘেরের নোনাপানির আগ্রাসনে স্থানীয় কৃষকদের আমন ধানের চারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘেরমালিকরা বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে নদের নোনাপানি ঘেরে ঢোকাচ্ছেন। এতে বাঁধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি চুইয়ে পড়া নোনাপানিতে পাশের ফসলি জমির চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান চাষ হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭ জন কৃষকের প্রায় ১৩ বিঘা জমির ধান ইতিমধ্যে নোনাপানির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক নুরমান সরদার জানান, তার ছয় বিঘা জমির চারা লাল হয়ে শুকিয়ে গেছে, যা থেকে এবার ফলন পাওয়ার কোনো আশা নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ঘেরমালিকরা মাছ চাষের জন্য নোনাপানি তুললেও এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের, যা তাদের সারা বছরের খাদ্যনিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেলিখালী বিলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কোথাও সবুজ, আবার কোথাও নোনাপানির প্রভাবে লালচে হয়ে যাওয়া ধানের চারা পড়ে আছে। চাকলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ ঢালী জানান, গত বছরও এই বিলে ভালো ধান হয়েছিল, কিন্তু এবার ঘেরের পানি ঢুকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকলা খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকায় আসলাম হোসেনসহ ১০-১২ জন ঘেরমালিক বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে নোনাপানি তুলছেন। এমনকি বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের সহায়তায় নির্মিত রাস্তার নিচ দিয়েও পাইপ বসানো হয়েছে।

চাকলা উন্নয়ন কমিটির সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এই বাঁধের মূল উদ্দেশ্য ছিল মিষ্টিপানিতে ধান চাষ নিশ্চিত করা। কিন্তু ঘেরমালিকদের অবৈধ পাইপ বসানোর কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। চাকলার তেলিখালী বিলে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে ধান চাষ হলেও, মাত্র ৩০-৩৫ বিঘা জমির ঘেরের জন্য এই নোনাপানি তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফের সঙ্গে ঘেরমালিক আসলামের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে ঘেরমালিক আসলাম হোসেন দাবি করেন, তিনি নতুন করে বাঁধ কাটেননি। তার ভাষ্যমতে, বাঁধের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে আগে থেকে থাকা পাইপের মুখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা তিনি স্থানীয়দের পরামর্শে মেরামত করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত ৩০ বছর ধরে তিনি এখানে ঘের করছেন এবং গত বছর কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে থাকায় ঘেরের পানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা অনিয়ম হতে পারে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট এলাকাবাসী সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ঘেরমালিক আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া এলাকায় যারা একইভাবে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করে নোনাপানি তুলছে, তাদের বিরুদ্ধেও জরিপ চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিংড়িঘেরের পাশের জমিগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেড়িবাঁধের নিচে পাইপ বসানোর স্থান দেখিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাকিরা বেগম বলেন, ‘বেড়িবাঁধ কাইটে নদীর পানি তোলার পাইপ আরও নিচে দিচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নোনাপানি বন্ধ না করলি চাষাবাদে সুবিধা হবে না।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘেরমালিকেরা নোনাপানি তুলে মাছ চাষ করবেন, আর তাঁদের জন্য ধান মরবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর বিপরীতে তিন-চারজন ঘেরমালিক ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদীর চরের ভেতর বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের সহযোগিতায় ১৬-১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে যে রাস্তা করা হয়েছিল, সেটির নিচ দিয়েও পাইপ বসিয়ে নোনাপানি তোলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এবার আমি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সময়ে ঘের দেখাশোনার লোক না থাকায় সেখানে পানি বেড়ে যায়।’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *