মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা: ইরান নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্প প্রশাসনের - Mati News
Sunday, August 30

মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা: ইরান নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্প প্রশাসনের

ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া মার্কিন কূটনীতিকদের পুনরায় দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ফিরিয়ে আনা শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই পদক্ষেপটি এমন সময়ে নেওয়া হলো যখন ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত আপাতত হওয়ার সম্ভাবনা কম। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক কূটনীতিককে ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিদেশি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা শুরু করবে না। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটছে। এতদিন দূতাবাসগুলোতে পূর্ণমাত্রায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল।

কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক ও কুয়েত। প্রথম ধাপে লেবাননের মার্কিন দূতাবাসে কর্মকর্তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি পুরোপুরি না কাটায় জনবল নিয়োগে নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননের মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জনবল রাখা হবে। অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি, যার প্রমাণ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, লেবানন ও ইরাকে এ ধরনের বিধিনিষেধ আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে। এর আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের সময় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যা কুয়েত ও বাহরাইনের মতো ছোট দেশগুলোকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।

কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে। পেন্টাগন বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন চলছে।

সব মিলিয়ে, কূটনীতিকদের ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন সামরিক উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কুয়েত ও বাহরাইনসহ পুরো অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও কূটনৈতিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর উদ্বেগের বিষয়টিও স্পষ্ট করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *