তুরস্ক ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ৫ বিলিয়ন ডলার - Mati News
Friday, August 28

তুরস্ক ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা ৫ বিলিয়ন ডলার

গত ২১ বছরে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আঙ্কারায় কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত এই তথ্য জানান। দুই দেশ এখন তাদের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো নির্মাণ কাজের সময় এই বাণিজ্যের পরিমাণ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে গত বছর থেকে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (টিইপিএ) কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে কাতারে প্রায় ১ হাজার ১১৬টি তুর্কি কোম্পানি নির্মাণ, সেবা ও উৎপাদন খাতে সক্রিয় রয়েছে। তুর্কি ঠিকাদাররা দেশটিতে ২০৬টি প্রকল্পে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের কাজ সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, কাতারও তুরস্কে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। দেশটিতে কাতারের প্রায় ২৫০টি কোম্পানি অর্থ, ব্যাংকিং, জ্বালানি, লজিস্টিকস, গণমাধ্যম ও কৃষি খাতে প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি তুরস্কে তাদের বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রতিনিধি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর পণ্য পরিবহনের নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে নতুন ট্রানজিট করিডোর তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে সৌদি আরবের সঙ্গে কার্যকর হওয়া একটি ট্রানজিট চুক্তির আওতায় তুরস্কের পণ্যবাহী যান সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরব হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্য দিয়েও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব বিকল্প বাণিজ্য করিডোরকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে তুরস্ক ও কাতার যৌথভাবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নতুন কোনো ঘোষণা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত তুরস্ক-কাতার সুপ্রিম স্ট্র্যাটেজিক কমিটির বৈঠকেও নিকট ভবিষ্যতে এই মাইলফলক অর্জনের বিষয়ে দুই দেশ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *