Op-ed Archives - Mati News
Thursday, March 26

Op-ed

opinion of prominent intellectuals and experts of Bangladesh on several political, economical issues and trends.

শান্তি সবার উর্ধ্বে: বৈশ্বিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও জীবনের মূল্য

শান্তি সবার উর্ধ্বে: বৈশ্বিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও জীবনের মূল্য

China, Op-ed
ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী সম্প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি আবারও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন, তেল আবিব থেকে সিডনি—যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইসরায়েল, ইতালি, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এই বহু-দেশীয় যুদ্ধবিরোধী স্রোত একটি মৌলিক সত্যকে প্রতিফলিত করে: জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবন প্রয়োজন, জাতির দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রয়োজন। জীবন যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান। মার্কিন জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর কেবল রাস্তা থেকেই আসেনি, বরং খোদ সরকারের ভিতর থেকেও এসেছে। মার্কিন জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্ট ১৭ মার্চ পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে বলেন: "ইরানের চলমান যুদ্...
এই যুদ্ধের আসল কারণ কী? কেন কারণ বারবার বদলাচ্ছে?

এই যুদ্ধের আসল কারণ কী? কেন কারণ বারবার বদলাচ্ছে?

Op-ed
(কাউন্টারপাঞ্চে প্রকাশিত সাসান ফায়াজমানেশের কলাম অবলম্বনে) যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধ (এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে) অনেক প্রশ্ন তুলেছে। মিডিয়ায় সবাই জিজ্ঞাসা করছে: এই যুদ্ধের আসল কারণ কী? কেন কারণ বারবার বদলাচ্ছে? এটা কি ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা না হওয়ার জন্য? নাকি ইরান খুব তাড়াতাড়ি নিউক্লিয়ার অস্ত্র বানাতে যাচ্ছিল? ইরানের মিসাইল কি শীঘ্রই আমেরিকায় পৌঁছাতে পারত? ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল বলে আমেরিকা আগে থেকে আক্রমণ করেছে? নাকি ইরান মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে? অথবা অন্য কিছু? আমেরিকার মিডিয়া এই পরিবর্তনশীল কারণগুলো বুঝতে পারছে না। এটা অদ্ভুত। গত কয়েক দশকে তারা কি ঘুমিয়ে ছিল? প্রায় ২৫ বছর আগে (২০০১ সালে) আমি একটা অর্থনীতির কনফারেন্সে আমেরিকার ইরান নীতি নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, পারস্য উপসাগরে আমেরিকার নীতি “দু...
পোল্ট্রি খাতে অস্থিরতা: প্রান্তিক খামারিকে বাঁচানো এখন রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব

পোল্ট্রি খাতে অস্থিরতা: প্রান্তিক খামারিকে বাঁচানো এখন রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব

Agriculture Tips, Op-ed
রহিম রানা: বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প এক সময় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে বিবেচিত হতো। ডিম ও ব্রয়লার উৎপাদনের দ্রুত সম্প্রসারণ শুধু পুষ্টিহীনতা কমাতেই ভূমিকা রাখেনি—এটি লাখো মানুষের জীবিকা, নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আজ সেই খাত একটি নীরব বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাজারব্যবস্থার অস্থিরতা, অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য, কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িংয়ের একতরফা আধিপত্য, অনিয়ন্ত্রিত আমদানি, ফিড–বাচ্চার লাগামহীন দাম বৃদ্ধি—এসব সমস্যার সম্মিলিত অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা; যারা এই শিল্পের প্রকৃত ভিত্তি। বিভিন্ন অঞ্চলে এখন যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক। ফার্মগেটে মুরগির দাম কমে গেলেও খুচরা বাজারে দাম অপরিবর্তিত বা বেশি। অর্থাৎ খামারি লোকসান গুনছেন, ভোক্তা অতিরিক্ত দাম দিচ্ছেন—আর লাভে আছে অদৃশ্...

ভূমিকম্প, নিরাপত্তা ও ওড়না—গোলমালটা কোথায়?

Op-ed
ভূমিকম্প হলো হঠাৎ পরীক্ষা। তখন প্রথম কাজ—নিজেকে বাঁচানো।কিন্তু আশেপাশে কিছু মানুষ থাকে, যারা পরিস্থিতি না বুঝেই ডায়লগ ছোঁড়ে— “দৌড়াও না কেন?” “ওড়না নিতে কতক্ষণ লাগে?” “ধর্ম জানো না?” এই সব কথা শুনে মনে হয়—এরা না বিজ্ঞান জানে, না ফিকহ জানে। ভূমিকম্পে দৌড়ানোই কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক? বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক কথাই বলে—“Drop – Cover – Hold”অর্থাৎ—বসে পড়ো → কিছু দিয়ে মাথা ঢাকো → থামা পর্যন্ত ধরে থাকো। কেন? কারণ— ভূমিকম্পে মাত্র ২–৫ সেকেন্ডেই ভারসাম্য উধাও। দৌড়াতে গেলে ধপ করে পড়ে যাবেন। বেশিরভাগ ইনজুরি হয় দৌড়ানোর সময়—কাচ, দেয়াল, সিলিং ফ্যান, শেলফ—সব মাথায় পড়ে। ঝাঁকুনি চলার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থাকে ১–২ সেকেন্ড। আর আমাদের দেশের ভবনে সিঁড়ি, করিডোর—সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। তাই দৌড়ানো বন্ধ রাখো—এটা কাওয়ার মতবাদ না, একদম পর...
মতামত : ফেসবুকে যেভাবে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছেন জয়

মতামত : ফেসবুকে যেভাবে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছেন জয়

Op-ed
সজীব আহমদের ফেসবুকে স্ট্যাটাস থেকে আমার ধারনা, সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগকে শেষ করতে চান, নয়ত প্রযুক্তি বিষয়ে উনার জানাশোনা নেই। নইলে, এত কাঁচা গুজব একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ছড়ানোর কথা নয়। জনাব জয় 'আজকের নিউজ' নামের একটি ফেসবুক পেইজের ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন। যাতে বলা হয়েছে, "বিপুল পরিমাণ বোমা,ককটেল,ও বিস্ফোরক নিয়ে ধরা পড়ল তিন শিবির কর্মী! ঢাকায় নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল।"জাস্ট গুগল ইমেজে সার্চ করে ৩০ সেকেন্ডে আসল ঘটনা পাওয়া গেলো। দেশের মূলধারার সব সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পেট্রোল বোমা, ককটেল ও গান পাউডারসহ বিপুল বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে; যেগুলো নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।জড়িত অভিযোগে আটক ব্যক্তিরা হলেন— টাঙ্গাইলের আলতাফের ছেলে রাজ ইসলাম (২৫), চাঁদপুরের নুর মোহাম্মদের ছেলে রাকিব (২৪), সুনামগঞ্জের জালাল উদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান। ...
কর্মক্ষেত্রে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এর উপর ট্রেনিং নিয়ে কিছু কথা

কর্মক্ষেত্রে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এর উপর ট্রেনিং নিয়ে কিছু কথা

Op-ed
সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের উপর আমাদের অনেকেরই ট্রেনিং নেই। অ্যামেরিকায় যেকোন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করার প্রথম দিকেই কিছু অবশ্যম্ভাবী ট্রেনিংয়ের একটি হচ্ছে এই সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট ট্রেনিং। একেক কোম্পানি একেকভাবে ট্রেনিং দেয়, কিন্তু সবারই মূল বক্তব্য এক - অফিসে যদি কেউ কখনও কারও উপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন কিভাবে সিচুয়েশন হ্যান্ডল করতে হবে, তা নিয়েই আলোচনা। এই ট্রেনিংয়ের ফলে আমরা জানতে পারি সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট নানান প্রকারের হতে পারে। কোন মেয়ের গায়ে হাত দেয়া, টেবিলের নিচে দিয়ে পা ঠুকা থেকে শুরু করে একই ঘরে একজন নারীর উপস্থিতিতে দুই পুরুষের অশ্লীল কথাবার্তা পর্যন্ত সবকিছুই এর আওতায় পড়ে। কোন নারী/পুরুষকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য তাই ধর্ষণের সামিল। এরা এই ব্যপারে খুবই সিরিয়াস! প্রমোশনের প্রলোভন অথবা চাকরি কেড়ে নেয়ার ভয় দেখিয়ে বসের সাথে ডেটিংয়ে যাওয়ার প্রস্তাবনা আমাদের দেশে খুবই কমন। এই দেশের...
বৈষম্যের বেড়াজালে প্রাথমিক শিক্ষা

বৈষম্যের বেড়াজালে প্রাথমিক শিক্ষা

Op-ed
আসাদুজ্জামান খান মুকুল মানুষ গড়ার কারিগররাই আজ হতাশায়ঃ প্রাথমিক শিক্ষা আমাদের জাতির ভবিষ্যতের মূল চাবিকাঠি। একটি শিশু যখন বিদ্যালয়ে পা রাখে,তখন থেকে  তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানার্জনের কাজটি শুরু হয়। এই সময়টাতেই শেখানো হয়- কীভাবে চিন্তা করতে হয়, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে হয়,কীভাবে সমস্যা সমাধান করতে হয়। এই মহান দায়িত্বটি যিনি পালন করেন, তিনি হলেন আমাদের প্রাথমিক শিক্ষক। কিন্তু আজকের বাস্তবতা হলো, এই মানুষ গড়ার কারিগররাই চরম হতাশা আর বঞ্চনার অন্ধকারে ডুবে আছেন। সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে আন্তরিক। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত চলছে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। তৈরি হচ্ছে ঝকঝকে নতুন অট্টালিকা ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষ। কিন্তু শুধু অবকাঠামো আর প্রশিক্ষণে হাজার কোটি টাকা ঢাললেই কি শিক্ষার মান বাড়ে? যদি শি...
অ্যালার্মিং পর্যায়ে বাংলাদেশের সমকামিতা

অ্যালার্মিং পর্যায়ে বাংলাদেশের সমকামিতা

Health, Op-ed
একজন গে সুইসাইড করেছে। এটার Case Study করে কিছু লিখবো তাই ওর আইডি সার্চ দিতে গিয়ে পেলাম ময়মনসিংহর স*মকা* কমিউনিটির বড় একটি গ্রুপ। সুইসাইড করা ছেলেটি ঐ জেলা এবং গ্রুপের সদস্য। প্রতিটি জেলার নামেই গ্রুপ রয়েছে। তাই এখন যা লিখবো, ময়মনসিংহের ভাইয়েরা ট্রিগার্ড হবেন না। তবে এত বড় অন্য জেলার কমিউনিটি আমার চোখে পূর্বে পড়েনি। একজন লিখেছে - 'ময়মনসিংহে কার কোথায় বাসা?' কমেন্টস: সদর থেকে বোটম আছি, ত্রিশাল টপ আছি, ভালুকা বোটম... এভাবে শম্ভুগঞ্জ, ইশ্বরগঞ্জ, তিনকোনা পুকুর পাড়, ব্রাহ্মপল্লী, কাচিঝুলি, হালুয়াঘাট, বগারবাজার, তারাকান্দা, চরখরিচা, সেনবাড়ি, একুয়ামাদ্রাসা কোয়াটার, রেলক্রসিং, নান্দাইল, পুলিশ লাইন ইত্যাদি! সব লিখে শেষ করতে পারিনি। মানে একদম প্রতিটি উপজেলা এবং ইউনিয়নেরই কেউ না কেউ আছে। এখন কিছু পোস্টের উদাহারণ দিচ্ছি: 'ত্রিশালে ৭দিনের জন্য মেস খালি আছে। বোটম কেউ আছ...
মানব উন্নয়নে সেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা

মানব উন্নয়নে সেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা

Op-ed
মানব কল্যানের উদ্দেশ্য ব্যাক্তি সেচ্ছায় যে শ্রম দিয়ে থাকেন তাই সেচ্ছাসেবা। পরিবেশ রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সাড়া প্রদানের জন্য সক্রিয়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন সেচ্ছাসেবকরা। সেচ্ছাসেবা নিছক কোন শ্রম নয়, এর মাধ্যমে আমাদের ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি হয় এবং নেতৃত্ব প্রদানের গুণাবলি বিকশিত হয়। মানব উন্নয়নে সেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিমত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজ শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম। নাইমা খাতুন অজ্ঞতা দূরীকরণে কাজ করছেন সেচ্ছাসেবকরা  প্রতিটি শিশুর মধ্যে আছে মহাবিশ্ব জয় করার স্বপ্ন ও স্পৃহা। শিশুরা ফুল হলেও সব ফুল যত্নে বেড়ে ওঠে না। অনাদরে অবহেলায় কিছু ফুল ঝরে যায় অকালে। সেইসব ঝরে যাওয়া ফুল কে পুনর্বাসনের জন্য এগিয়ে এসেছে একঝাঁক অদম্য স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন “পথশিশু পুনর্বাসন ও সহায়তা ফাউন্ডেশন (PPSF)"। অবহেলিত ...
অস্থির অর্থনীতি ও টানপোড়েনে বাংলাদেশ

অস্থির অর্থনীতি ও টানপোড়েনে বাংলাদেশ

Op-ed
আসাদুজ্জামান খান মুকুল বিশ্ব অর্থনীতি এখন অদ্ভুত এক টানাপোড়েনে আছে। কোথাও যুদ্ধ, কোথাও নিষেধাজ্ঞা, আবার কোথাও মূল্যস্ফীতির দাপট। জ্বালানির দাম বাড়ছে,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদের হার লাফিয়ে উঠছে, ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এসে এই ঢেউ আছড়ে পড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা। তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে  পরিবহন ব্যয়। পণ্য উৎপাদন ও আমদানির খরচ বাড়ায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা আমাদের রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, সব মিলিয়ে অর্থনীতি যেন হাঁপাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও কম নয়। হঠাৎ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা- এসবই কৃষি উৎপাদনে ক্ষতি করছে অপুরণীয়। ক...
ত্যাগ, অপেক্ষা ও ভালোবাসার  এক নীরব সংগ্রাম প্রবাস জীবন 

ত্যাগ, অপেক্ষা ও ভালোবাসার  এক নীরব সংগ্রাম প্রবাস জীবন 

Op-ed
রাহেলা আক্তার  বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এর অর্থনীতির মূল উৎস কৃষি, তৈরি পোশাক, বিদেশি রেমিট্যান্স। গ্রামের মানুষ কৃষি কাজ করে, আর শহরের মানুষ বিভিন্ন কল-কারখানায়, ও অফিস আদালতে চাকরি করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় একটা অংশ হচ্ছে রেমিট্যান্স। বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থান কম। বর্তমান বিশ্বে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। একজন স্বজন যখন প্রবাসে যান, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবারের উপর কিছু ইতিবাচক, এবং নেতিবাচক প্রভাব দুটোই পড়ে।  প্রবাসে থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বজনরা পরিবারের জন্য যে অর্থ পাঠান, তা পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তোলে। সেই অর্থে মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তানদের উন্নত  চিকিৎসা ও শিক্ষা  সুন্দর জীবনযাপন সম্ভব হয়। অনেক পরিবার গ্রাম থেকে শহরে...
কথা বলার  ক্ষুধা : আদিম যে চাহিদা

কথা বলার  ক্ষুধা : আদিম যে চাহিদা

Op-ed, Stories
আপনার সঙ্গী কি আপনার সাথে শোয়, কিন্তু কথা বলে না? তাহলে অভিনন্দন, আপনি এক জীবন্ত লাশের সাথে বসবাস করছেন। statement টা শুনেই আপনার শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো? মনে হচ্ছে, আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কেউ নোংরাভাবে উঁকি মারছে? নিজের ভালোবাসার সম্পর্কটাকে এতটা কদর্যভাবে আক্রমণ করায় লেখকের গলা টিপে ধরতে ইচ্ছে করছে? করুন। আপনার সব ক্ষোভ, সব অপমান আমি মাথা পেতে নিচ্ছি। কিন্তু এই লেখাটি যদি আপনার ভেতরের সেই ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিটাকে জাগিয়ে তুলতে না পারে, যদি আপনার সাজানো-গোছানো সম্পর্কের মিথ্যার দেওয়ালটা কাঁপিয়ে দিতে না পারে, তবে বুঝবেন আমার কলম ধরাটাই বৃথা। আমরা এক অদ্ভুত ডিজিটাল কসাইখানায় বাস করি, যেখানে আমরা সম্পর্কগুলোকে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ার দিয়ে ওজন করি। আমরা একে অপরের শরীর চিনি, কিন্তু আত্মাটাকে চিনি না। আমরা একসাথে ডিনার করি, কিন্তু কথা বলি ফোনের স্ক্রিনের সাথে। আমরা একসাথে বিছানায় যা...
এইচএসসি’র ফল বিপর্যয়, ক্যাডেট কলেজের সাফল্য, শিক্ষক আন্দোলন ও বিবেকের সংকট

এইচএসসি’র ফল বিপর্যয়, ক্যাডেট কলেজের সাফল্য, শিক্ষক আন্দোলন ও বিবেকের সংকট

Op-ed
লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী ও কলামিস্ট দেশের শিক্ষা অঙ্গন আজ এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে। একদিকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়, অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের একাংশের অযৌক্তিক আন্দোলন—দুটি ঘটনাই জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আর এই বাস্তবতার বিপরীতে ক্যাডেট কলেজের শতভাগ সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দায়িত্ববোধ থাকলে সফলতা অসম্ভব নয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর ২০টি কলেজ থেকে একজনও পাস করেনি—এমন নজিরবিহীন ফলাফল আমাদের হতবাক করেছে। এটি কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গলদ ও অবক্ষয়ের প্রতিফলন। যখন একটি বোর্ডের অধীনে বিশটি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারে না, তখন স্পষ্ট হয় যে ব্যর্থতা শিক্ষার্থীর নয়, বরং আমাদের শিক্ষা প্রশাসন, তদারকি এবং শিক্ষক সমাজের এক বড় অংশের। এরই...
‘শান্তি’ শীর্ষসম্মেলন যখন হয়ে যায় রাজনৈতিক প্রদর্শনী

‘শান্তি’ শীর্ষসম্মেলন যখন হয়ে যায় রাজনৈতিক প্রদর্শনী

China, Op-ed
ছাই ইউয়ে মুক্তা সম্প্রতি মিসরের লোহিত সাগরের তীরবর্তী শার্ম আল-শেখে গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল শান্তি প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রদর্শনী। প্রায় ৩০টি দেশ, অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। তবে গাজা সংঘাতকে ঘিরে যে দুই মূল পক্ষ—ইসরায়েল ও হামাস—তাদের কোনো প্রতিনিধিই ছিলেন না এতে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রতিনিধি পাঠিয়ে দায় সারে। সেদিন দুপুরে মিসরের প্রেসিডেন্ট দপ্তর ও ইসরায়েল ঘোষণা করে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্মেলনে যোগ দেবেন। কিন্তু পরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিবৃতিতে জানায়, ‘সীমিত সময়সূচির’ কারণে নেতানিয়াহু আসতে পারছেন না। পরে জানা যায়, মূলত আঞ্চলিক নেতাদের আপত্তির ...
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার ডামাডোলে চীনা প্রবৃদ্ধির পাঁচ বছর

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার ডামাডোলে চীনা প্রবৃদ্ধির পাঁচ বছর

China, Op-ed
ফয়সল আবদুল্লাহ চলতি বছর শেষ হচ্ছে চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনাই মূলত চীনের অগ্রগতির মূল রূপরেখা। এর মাধ্যমেই চীন বিশ্বজুড়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেও ধরে রেখেছে উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধির হার এবং উদ্ভাবনের নতুন ধারা। ভূরাজনৈতিক সংঘাত, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং বাণিজ্য সুরক্ষাবাদের ডামাডোলে চীনের অর্থনীতি গত পাঁচ বছরে মোট ৩৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৪.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে যার প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রয়েছে। সোমবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটির চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে পরবর্তী ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০২৬–২০৩০) খসড়া নিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে আমার যদি চীনের অর্থনীতির দিকে ফিরে দেখি, তবে জানতে পারবো কীভাবে চীন তার উন্নয়নের পথ ধরে থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শক্তির সঞ্চার করে চল...