কম্পিউটার ও ভিডিও গেম বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য মেলা গেমসকম বুধবার শুরু হয়েছে। এবারের আয়োজনে রেকর্ডসংখ্যক চীনা গেম কোম্পানি অংশ নিয়েছে।
গেমসকম ২০২৬-এ মোট ৬০টি চীনা কোম্পানি তাদের গেম ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে। নতুন গেম প্রদর্শনের পাশাপাশি তারা শুধু ‘বিশ্ববাজারে যাওয়ার’ পরিবর্তে প্রকৃত অর্থে ‘বিশ্বব্যাপী সৃষ্টির’ দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের আরও গভীর ও পরিণত সম্পৃক্ততার চিত্র ফুটে উঠছে।
গেমসকমে চীনা প্রদর্শনকারীরা ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় নতুন পণ্য নিয়ে এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গেম স্টুডিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে টেনসেন্ট গেমস ‘ওয়ার্ল্ডস অব প্লে’ নামে একটি ইমার্সিভ গেম আর্ট প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এতে চীনের জনপ্রিয় ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’-সহ ৪০টিরও বেশি গেমের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকর্ম, ভিডিও, মডেল ও ইন্টার্যাকটিভ ইনস্টলেশন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
চীনা গেম নির্মাতা নেটইজ গেমস তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন নিয়ে এসেছে গেমসকমে। কোম্পানিটির নিজস্বভাবে তৈরি পাঁচটি গেমের মধ্যে রয়েছে ‘আনান্তা’ যা একটি শহরভিত্তিক ওপেন-ওয়ার্ল্ড রোল-প্লেয়িং গেম। আছে ‘সি অব রেমেন্যান্টস’ যা কিনা সমুদ্রভিত্তিক ফ্যান্টাসি রোল-প্লেয়িং গেম। গেম দুটিরই গেমসকমে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক উন্মোচন হয়েছে।
নেটইজ গেমস জানিয়েছে, গেমসকমের মাধ্যমে তারা বিদেশি খেলোয়াড়, গণমাধ্যম ও শিল্পখাতের অংশীদারদের কাছ থেকে আরও সরাসরি মতামত পেতে চায়। এসব মতামত ভবিষ্যৎ গেম উন্নয়ন ও কনটেন্ট আরও ভালো করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
নেটইজ গেমসের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রিথেন হুয়াং বলেন, ‘আন্তর্জাতিকীকরণ কোনো পণ্য তৈরি হওয়ার পর শুধু তা বাজারজাত করার একটি ধাপ নয়। গবেষণা ও উন্নয়ন, পণ্য নকশা থেকে শুরু করে স্থানীয়করণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা— পুরো প্রক্রিয়াতেই এর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত।‘
গেমসকমের ‘ওপেনিং নাইট লাইভ’ অনুষ্ঠানে হোয়োভার্স ‘নোডাসফল’ গেমটি উন্মোচন করেছে। বিভিন্ন সংস্কৃতির পুরাণ, যার মধ্যে প্রাচীন চীনা ‘শানহাই চিং’-এ লিপিবদ্ধ চীনা পুরাণও রয়েছে, সেগুলো থেকে অনুপ্রাণিত একটি ফ্যান্টাসি জগতে গেমটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এটি একটি সমবায়ী অ্যাকশন গেম।
গেম প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৪ডিভিনিটি প্লেয়ার জোনে চারটি গেম প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে তিনটি চীনা স্টুডিওর তৈরি।
৪ডিভিনিটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা থান ছোর ইয়ং বলেন, এসব গেমের ধরন ও বৈচিত্র্য অনেক বেশি। এর মাধ্যমে চীনা গেম নির্মাতাদের বহুমুখী সক্ষমতা ফুটে উঠেছে।
ভলক টিমের জ্যেষ্ঠ ইউনিটি ডেভেলপার ইগর ওসাদচেভ সিনহুয়াকে বলেন, চীনা সংস্কৃতি গেমগুলোর বড় আকর্ষণ। তিনি বলেন, ‘আমি যখন কোনো চীনা ভবন বা এ ধরনের কিছু দেখি, তখন স্বাভাবিকভাবেই গেমটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।‘
এদিকে আঞ্চলিক গেমিং বাজারগুলোর মধ্যকার সীমারেখাও ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে আসছে। গেম শিল্পের পেশাজীবী সেবাস্তিয়ান শচেপানস্কি বলেন, চীন ও পশ্চিমা বাজার একসময় তুলনামূলকভাবে আলাদা ছিল। এখন তারা আরও কাছাকাছি আসছে এবং গেম প্রকাশকরাও ক্রমেই উভয় বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গেমারজেন ডট কমের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা এরিক দ্য ব্রোকার্ট বলেন, গেমসকমে তিনি চীনা গেম নির্মাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে চান। এর মাধ্যমে তার ওয়েবসাইট ও ভিডিওর সাহায্যে ফরাসি দর্শকদের কাছে আরও বেশি চীনা গেম পরিচয় করিয়ে দিতে চান।
সূত্র: সিএমজি


















