চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডর আঞ্চলিক সংযোগের জন্য নতুন দিগন্ত: বিশেষজ্ঞ - Mati News
Tuesday, July 28

চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডর আঞ্চলিক সংযোগের জন্য নতুন দিগন্ত: বিশেষজ্ঞ

চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক সম্ভাব্য করিডর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে। এমন মন্তব্য করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ শফিউর রহমান।

রোববার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: আস্থা বৃদ্ধি ও নতুন দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উচিত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে ভূ-অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদার করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরকে কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, ভারত মহাসাগর এবং বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে চীনের বৈধ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ আছে। জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে চীনকে এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকে প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে জাপানের বিনিয়োগ এবং চীনের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। একইভাবে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।’

বক্তব্যে তিনি তিস্তা অববাহিকার সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ও তুলে ধরেন। তার মতে, ‘তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ পুরো নদী অববাহিকাকে একসঙ্গে বিবেচনা করে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা আরও কার্যকর ও টেকসই সমাধান দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু বড় অংকের বিনিয়োগের ওপর কোন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টেকসই হয় না; জনগণের অংশগ্রহণ, আস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।’

সবশেষে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভূ-অর্থনীতিকে ভূ-রাজনীতির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃষ্টিতে নয় বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ফলে, এমন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

সূত্র: সিএমজি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *