ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে’ রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের নয়; অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রাও এখন সংঘাতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সোমবার তেহরানে বিচার বিভাগের উচ্চ পরিষদের এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, পেজেশকিয়ান বলেন, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় এ উপলব্ধি থেকেই প্রতিপক্ষ এখন ইরানের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের সম্পদ ও জীবনযাত্রা সুরক্ষিত রাখাই যুদ্ধকালীন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তার সরকার ইরানের জাতীয় অধিকার ও স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করেছে। তিনি ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কথাও উল্লেখ করেন।
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা।
এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানসহ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে সেই প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা





















