সি চিন পিংয়ের সবুজ দর্শন: বদলে যাচ্ছে চীনের উন্নয়ন ধারা - Mati News
Tuesday, July 21

সি চিন পিংয়ের সবুজ দর্শন: বদলে যাচ্ছে চীনের উন্নয়ন ধারা

পরিবেশ সুরক্ষা আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। দূষিত নদী পুনরুদ্ধার থেকে শুরু করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো থেকে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা—সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে পরিবর্তনের ছাপ। প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সবুজ উন্নয়ন দর্শনের আলোকে দেশটি গড়ে তুলতে চায় মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের এক নতুন মডেল।

২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও গুরুত্ব পেয়েছে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন। লক্ষ্য—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

এই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র এখন পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের রুইআন শহর। একসময় দূষণে জর্জরিত ওয়েনরুইথাং নদী এখন স্বচ্ছ ও মনোরম। নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে সবুজ। ফলে বাসিন্দাদের কাছে এ জায়গা এখন অবসর কাটানোর জনপ্রিয় স্থান।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আগে নদীর ধারে হাঁটতে চাইতাম না। চারপাশে ছিল দুর্গন্ধ আর দূষণ। এখন পানি স্বচ্ছ, পরিবেশ সুন্দর। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, এই পরিবর্তন আমরা প্রতিদিন নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি।’

চীনের পরিবেশগত উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকেও মিলছে ইতিবাচক ফল। গেল এক দশকে দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি ভালো মানের হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে। একই সময়ে বায়ুদূষণ কমেছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও থেমে নেই চীনের দৃশ্যমান উন্নতি। উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে উঠছে নতুন নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প, পাশাপাশি বাড়ছে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে প্রথমবার দেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে।

চীনের শিল্পখাতে চলছে মহাযজ্ঞ। দেশজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে জিরো-কার্বন শিল্পপার্ক। কারখানাগুলোয় পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে কার্বন নিঃসরণ। পরিবেশ সুরক্ষার এমন দারুণ উদ্যোগ শুধু সরকার বা শিল্পখাতেই সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষেও এসেছে পরিবর্তন।

বিশ্বে নতুন সবুজায়নের বড় অবদানের দাবিদার চীন। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারে হাত রেখে কাজ করছে সি চিন পিং সরকার এবং জনগণ।

সিএমজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *