শ্রাবণের অঝোর ধারায় রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার শিলার ডাক এলাকার সুবলং ঝরনা এখন এক অপরূপ সৌন্দর্যের আধার। বর্ষার ভরা মৌসুমে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে পাহাড়ের বুক চিরে নিচে আছড়ে পড়া জলধারা পর্যটকদের বিমোহিত করছে। কয়েক দশক ধরে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিত এই ঝরনাটি প্রকৃতির এক অনন্য দান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বরকল উপজেলা প্রশাসন ঝরনার আশেপাশে প্রয়োজনীয় কিছু স্থাপনাও নির্মাণ করেছে।
রাঙ্গামাটি সদর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঝরনায় পৌঁছাতে হয় কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে। বোটযোগে হ্রদের শান্ত জলরাশি ও পাহাড়ের কোল ঘেঁষে যাত্রাপথটি পর্যটকদের জন্য এক বাড়তি পাওনা। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে করে পর্যটকদের আসা-যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে প্রকৃতির এই সান্নিধ্য নিতে ছুটে আসছেন।
চট্টগ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো সুবলং ঝরনায় আসা মিলি জাহান জানান, ফেসবুক বা টিভিতে যা দেখেছিলেন, বাস্তবে এর সৌন্দর্য তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। সবুজে ঘেরা পাহাড়ের বুক চিরে ঝরনার পানি পড়ার দৃশ্যটি যেন কোনো ছবির ফ্রেমে বন্দি। রাঙ্গামাটি শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মৌসুমী বণিক বলেন, প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য দেখে তিনি মুগ্ধ এবং এতদিন কেন এখানে আসেননি, সেই আক্ষেপও প্রকাশ করেন। আরেক পর্যটক আব্দুল সায়েম জানান, ঝরনার মনোরম পরিবেশ তার মন প্রফুল্ল করে দিয়েছে এবং যে কারো জীবনে অন্তত একবার এখানে আসা উচিত।
পর্যটকদের অনেকেই মনে করেন, এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। যারা ঘুরতে আসেন, তাদের উচিত জায়গাটি পরিষ্কার রাখা, গাছপালা নষ্ট না করা এবং ঝরনার পানিতে অযথা নেমে বিপদ ডেকে না আনা। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সচেতনতা জরুরি।
ঝরনা দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা হ্রদের কিনারে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে সুবলং ঝরনা হতে পারে একটি আদর্শ গন্তব্য। উল্লেখ্য, বরকল উপজেলায় সুবলং ছাড়াও ছোট-বড় আরও আটটি ঝরনা রয়েছে, যা পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম।
সুবলং ঝরনায় যাওয়ার জন্য রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটন ঘাট, রিজার্ভ বাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কিংবা ফিসারি ঘাট থেকে নৌকা বা স্পিডবোট ভাড়া করে অনায়াসেই পৌঁছানো সম্ভব।
ভরা বর্ষামৌসুমে মূল ঝরনা জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে।
বেশিরভাগ পর্যটকই জানিয়েছেন, এই সুন্দর জায়গাগুলো টিকে থাকুক।
প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসে এ ঝরনা সৌন্দর্য উপভোগে।
এই ঝরনার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে।
যাত্রাযোগে হ্রদের অপার সৌন্দর্য শান্তির পরশ বিলিয়ে দিবে পর্যটকদের।
সুবলং ঝরনায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল অবধি চলছে ইঞ্জিনচালিত বোটে পর্যটকদের যাওয়া-আসার ধারা।
কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে।
কারো হাতে সেলফি স্টিক, কেউ ড্রোন উড়াচ্ছেন, কেউ আবার পাহাড়ি খাদ্য আস্বাদন করছেন ঝর্ণার পাশে বসে।
ঝর্ণার অঝর ধারা দেখে মনটা জুড়িয়ে গেছে।
এটা যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করে দেয়।





