চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) অধীনে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মানসেহারা জেলায় অবস্থিত ৮৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে যায়। চালুর পর থেকে এটি পাকিস্তানের জাতীয় গ্রিডে ২শ কোটি বা ২৮০ কোটিরও বেশি কিলোওয়াট-ঘণ্টা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। এর পাশাপাশি এটি প্রতি বছর প্রায় ১৩ লাখ টন কয়লা সাশ্রয় করছে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় এক বিরাট ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্পটির সিনিয়র প্রকৌশলী মুবাশির হাসান বলেন, “আমাদের প্রকল্পটি ৮৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। যখন এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়, তখন তা কেবল আমাদের প্রদেশেই নয়, বরং পুরো দেশকেই উপকৃত করে।”
শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই এই প্রকল্পের অবদান সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ এবং অপারেশন বা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে পাকিস্তানি ও চীনা প্রকৌশলীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করছেন।
২০১৩ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া সিপিইসি বিগত বছরগুলোতে কাগজে-কলমের পরিকল্পনা থেকে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর নির্মাণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।
সূত্র: সিএমজি


















