
জনগণের সুস্বাস্থ্য একটি জাতির সমৃদ্ধি ও দেশের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ পরিচায়ক। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে উন্নয়নের অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত অবস্থানে রেখেছে। নতুন যুগে স্বাস্থ্যখাতের কাজের নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ‘স্বাস্থ্যকর চীন’ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চীন বিশ্বের বৃহত্তম চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাব্যবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। স্বাস্থ্যখাতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্বাস্থ্য সম্মেলনে উপস্থিত থেকে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে এসব কথা বলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং।
সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, রোগ প্রতিরোধই স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়। তাই স্বাস্থ্যখাতের মৌলিক ও রোগের উৎস-সংশ্লিষ্ট কাজগুলো আরও যত্নসহকারে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সবার সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি আরও মজবুত করতে হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক মান উন্নত করা ‘স্বাস্থ্যকর চীন’ গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কাজ। চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করার কর্মসূচি গভীরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কার্যপরিধি ও কাঠামো আরও যুক্তিসংগতভাবে সাজাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কাছাকাছি স্থানে সহজে চিকিৎসা নিতে পারেন এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান।
সি চিন পিং আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সংস্কার একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা বিমা ও ওষুধ খাতের সমন্বিত উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা এগিয়ে নেওয়াকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে রাখতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সমগ্র মানবজাতির অভিন্ন প্রত্যাশা। স্বাস্থ্যখাতে মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার উদ্যোগ সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ক্রমাগত উন্নত হয়।
এ ছাড়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা আরও গভীর করা, বিদেশে স্বাস্থ্য সহায়তার কার্যক্রম জোরদার ও নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং ‘স্বাস্থ্যকর চীন’-এর অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ব্যাপক ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন সি চিন পিং।
সূত্র: সিএমজি















