নভেম্বর ৭: গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের পিপলস গ্রেট হলে চীন সফরে আসা গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট ব্রাইস অলিভিয়া এনগুইমার সঙ্গে বৈঠক। দুই দেশের নেতারা যৌথভাবে ঘোষণা দেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন যুগের চীন-গ্যাবন অভিন্ন কল্যাণের সমাজে উন্নীত করা হবে।
প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন ও গ্যাবনের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব সুদীর্ঘ, যা দুই দেশের প্রবীণ নেতারা নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন ও যত্নসহকারে লালন করেছেন। দুই দেশ সমতার ভিত্তিতে একে অপরের সাথে আচরণ, পারস্পরিক সমর্থন ও যৌথ উন্নয়নের নীতিতে অটল থেকেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক উত্থান-পতনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সর্বদা অটুট রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক সমর্থন চীন-গ্যাবন সম্পর্কের একটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য ও রাজনৈতিক সুবিধা। চীন আগের মতোই গ্যাবনকে তার নিজস্ব জাতীয় অবস্থার সাথে মানানসই উন্নয়ন পথ অন্বেষণে সমর্থন করবে। এ বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী। চীন গ্যাবনের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের বিনিময় ঘনিষ্ঠ করতে, দল ও রাষ্ট্র শাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে এবং গ্যাবনের শাসন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমর্থন দিতে চায়। চীন ও গ্যাবনের অর্থনৈতিক পারস্পরিক সম্পূরক সুবিধা স্পষ্ট এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা বিশাল। উভয় পক্ষকে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে হবে, সহযোগিতার নতুন প্রবৃদ্ধি বিন্দু গড়ে তুলতে হবে, ‘শূন্য শুল্ক’ ও আফ্রিকান কৃষি ও খাদ্য পণ্যের চীনে রপ্তানির ‘সবুজ চ্যানেল’-এর নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার সম্প্রসারণ ও আপগ্রেডেশন এগিয়ে নিতে হবে। আমার প্রস্তাবিত মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজের ধারণা ও চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রথমত গ্লোবাল সাউথ এবং আফ্রিকান দেশগুলোর যৌথ স্বার্থের জন্য কল্যাণকর। চীন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে গ্যাবনের বৃহত্তর ভূমিকা পালনকে সমর্থন করে এবং গ্যাবনের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করে একটি আরও সুন্দর বিশ্ব গঠনে একসাথে কাজ করতে ইচ্ছুক।
এনগুইমা জানান, গ্যাবন ও চীনের বন্ধুত্ব অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলছে; এবং কৌশলগত পারস্পরিক বিশ্বাস সর্বদা উভয় পক্ষের অংশীদারিত্বের ভিত্তি। গ্যাবন দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি অনুসরণ করবে। গ্যাবন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিংশ কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণ অধিবেশন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অভিনন্দন জানায় এবং আন্তঃদলীয় বিনিময় পরিচালনা করে চীনের দল ও রাষ্ট্র শাসনের সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চায়। গ্যাবন চীনের সাথে বাস্তবমুখী সহযোগিতা আরও গভীর করতে ইচ্ছুক এবং আরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানকে গ্যাবনে বিনিয়োগ ও ব্যবসা শুরু করতে স্বাগত জানায়। ‘শূন্য শুল্ক’ নীতি আফ্রিকান দেশগুলোর চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং আফ্রিকান দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য ঐতিহাসিক তাত্পর্য বহন করে। গ্যাবন বহুপাক্ষিকতার প্রতি চীনের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থানের উচ্চ প্রশংসা করে এবং চীনের সাথে সমন্বয় ঘনিষ্ঠ করে আফ্রিকা-চীন সংহতি ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর স্বার্থ যৌথভাবে রক্ষা করতে ইচ্ছুক।
আলোচনার পর, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যৌথভাবে বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ বাস্তবায়ন, ‘শূন্য শুল্ক’, উত্পাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল, চীনা ভাষা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন।
সফরকালে, উভয় পক্ষ ‘চীন প্রজাতন্ত্র ও গ্যাবন প্রজাতন্ত্রের মধ্যে নতুন যুগের চীন-গ্যাবন অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের বিষয়ে যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করে।
সূত্র: সিএমজি
















