বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা - Mati News
Saturday, November 7

বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা

কারিগরি শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের। বৃহস্পতিবার চীনের থিয়েনচিনে দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়গুলো উঠে আসে। শুক্রবার বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারের বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সংযোগ জোরদারে আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে থিয়েনচিনে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ জনগণ। মানবসম্পদ উন্নয়নই জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংযোগ তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০২৬ সালের জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টিভিইটি: পরিবর্তনকে একসঙ্গে গ্রহণ, মানদণ্ড প্রণয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ’। এতে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এ ছাড়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পোদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সূত্র: সিএমজি

Bangladesh, China agree on education cooperation in nine areas

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *