ভাত শেষ। ডাল শেষ। মুরগির ঝোলের শেষ চামচটাও ইতিহাস।
ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের ভেতরের যে চরিত্রটা জেগে ওঠে, তার নাম—
“পানি ছাড়া বাঁচি না মানুষ”।

গ্লাস ধরতে যাবেন, আর তখনই কেউ পেছন থেকে বলে উঠবে—
“এই! খাওয়ার পরপরই পানি খাবা না!”
আপনি মনে মনে ভাববেন,
“আরে ভাই, খাবার কি শুকনো কবিতা নাকি? পানি না খেলে গিলবো কীভাবে?”
কিন্তু থামুন। ব্যাপারটা শুধুই পারিবারিক বকুনি নয়, এর পেছনে আছে বিজ্ঞান, হজমবিদ্যা আর একটু বাস্তব বুদ্ধি। সাথে কিছু মজাও আছে।
আপনার পেট তখন ‘মিটিংয়ে’ থাকে
খাওয়ার পর পেটের ভেতরে একটা ইন্টারনাল মিটিং বসে যায়।
অ্যাসিড, এনজাইম, জুস—সবাই হাজির।
এরা ঠিক করে, কোন খাবার আগে ভাঙবে, কে কার সঙ্গে কাজ করবে।
আপনি যদি ঠিক তখন এক গ্লাস পানি ঢেলে দেন,
তাহলে এই মিটিংয়ে ঢুকে পড়বে এক অবাঞ্ছিত অতিথি—
নাম: ঠাণ্ডা পানি সাহেব।
ফলাফল?
সবাই কনফিউজড। হজমের গতি কমে যায়।
বদহজম আপনাকে ‘হ্যালো’ বলবে
খাওয়ার পরপরই পানি =
গ্যাস
বুক জ্বালা
পেট ভার
আর মাঝে মাঝে ঢেকুরের লাইভ শো।
মানে আপনি আরাম করতে বসেছেন,
কিন্তু পেট ভেতরে কনসার্ট চালু করেছে।
খাবারের স্বাদ ধুয়ে যায়
খাওয়ার পর পানি খেলে এমন লাগে,
যেন সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে গেছে।
স্বাদ শেষ। আনন্দ শেষ।
খাবার তখন শুধুই ক্যালরি, আর কিছু না।
ওজন বাড়ার এক্সপ্রেস টিকিট
হজম ধীর হলে শরীর খাবার ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না।
ফলে কিছু অংশ জমে যায়—
সরাসরি পেটের চারপাশে রিজার্ভ ব্যাংক হিসেবে।
মানে আপনি না চাইতেই
“ভুঁড়ি সঞ্চয় প্রকল্পে” যুক্ত হয়ে গেলেন।
তাহলে কখন পানি খাবেন?
খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে।
এই সময় পেট তার কাজের অর্ধেক শেষ করে ফেলে।
তখন পানি ঢুকলে সে খুশি হয়।
খাবারের সময় যদি খুব তৃষ্ণা লাগে?
এক–দুই চুমুক কুসুম গরম পানি।
বোতল শেষ করবেন না।
আপনি পানি খাচ্ছেন না, শুধু গলা ভেজাচ্ছেন—এই পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
খাওয়ার পরপরই পানি খাওয়া এমন এক অভ্যাস,
যেটা আমরা করি…
জানি না কেন করি…
কিন্তু করি।
আজ থেকে সিদ্ধান্ত নিন—
ভাতের প্লেট নামাবেন,
পানি নয়।
৩০ মিনিট পর, রাজকীয় ভঙ্গিতে,
শান্ত মনে পানি খাবেন।
পেট খুশি,
হজম খুশি,
আপনিও খুশি।




















