ফারুক আহম্মেদ জীবন
ঢাকা গুলশান দুই নম্বর ব্লকের প্রথম গলির দুটি বাড়ির পরের পাঁচতলা বাড়িটা নাম করা বিশিষ্ট শিল্পপতি আবিদ খানের। এতো বড় বাড়ি অথচ বাড়িতে কেউ নেই। শুধু মাত্র আবিদ খানের এক- মাত্র নেশাখোর বখাটে ছেলে রুদ্র ছাড়া। যে এম এ পাশ করে উচ্চ সমাজের কিছু নেশাখোর বখাটে বন্ধুদের সাথে মিশে আজ সেও নষ্ট হয়ে গেছে। রুদ্র এখনো বিয়ে করিনি। রুদ্রর মা-বাবা গতকাল এক সপ্তাহের জন্য সিঙ্গাপুর গেছে চিকিৎসা হতে। রুদ্র সচরাচর বাইরে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে বিভিন্ন পাট্টি ক্লাবে নেশা করলেও। তার মা-বাবার সামনে বাড়িতে সে কখনো নেশা করেনা। কিন্তু এখন বাড়ি পুরো ফাঁকা থাকায়।নেশার সকল সরঞ্জাম বাড়িতে এনে নিজের বেড রুমে বসে মনের আনন্দে স্বাধীন ভাবে ফিলিংসে নেশা করছে। এখন আষাঢ় মাস, আকাশেও ঘন-কালো মেঘ। সারাদিন বিরামহীন ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে। রুদ্র নেশায় পুরো বুদ হয়ে গেছে। নেশার ঘোরে সে গুনগুন করে গান গাচ্ছিল। হঠাৎ! জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তার
নজর যেতেই দ্যাখে একটা পাগলী গোছের চৌদ্দ
পনেরো বছরের মেয়ে।বৃষ্টির জলে ভিজে তাদের বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। মেয়েটা পাগলী হলেও বেশ ফর্সা। গোলগাল চেহারা আর সুন্দর দেখতে। তার উপর ভিজে কাপড়ে দেহের আকর্ষণীয় অঙ্গ গুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ওসব দেখে মুহূর্তে যেনো রুদ্রর নিস্তেজ
কামনার পশুটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। রুদ্র মনে মনে বিড়বিড় করে বলে উঠলো…
আহা! এমন বৃষ্টির দিনে ঠান্ডা আবহাওয়ায় দেহটা চাঙ্গা করার জন্য। লাল পানি খাওয়ার পর অমন কচি নরম মাংসের স্বাদটাই আলাদা..রুদ্রর লোভনীয় জিহ্বাটা ঘষতে লাগলো দুই ঠোঁটের মাঝে।
তারপর রুদ্র খুব দ্রুত গতিতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে গেলো। গেটের দারোয়ান মুবিদ বৃদ্ধ মানুষ। বৃষ্টির দিনে ঠান্ডা পেয়ে ওর রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। দারোয়ারের থাকার রুমটা গেটের পাশেই। এই সুযোগে রুদ্র গিয়ে খুব আস্তে করে গেটটা খুললো। তারপর পাগলী মেয়েটাকে বললো..কিরে বৃষ্টির জলে তোর তো পরনের জামা কাপড় সব ভিজে গেছে। কথার ফাঁকে রুদ্র লোভনীয় দৃষ্টিতে পাগলী মেয়েটার আকর্ষণীয় সব অঙ্গ গুলোতে তাকাতে লাগলো। তারপর বললো…..
তোর খুব ক্ষিদে লেগেছে তাইনা? আয় ভিতরে আয়..এভাবে সে খাবার আর জামাকাপড় দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হাত ধরে ভিতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানতে লাগলো। পাগলী না যেতে চাইলেও। একপর্যায়ে জোর করেই ভিতরে নিয়ে গেলো। রুদ্রর দু,চোখ পাগলী মেয়েটির দেহের উপর। কামনার আগুন জ্বলছে যেনো রুদ্রর দুটি লাল আলগোছ চোখে।
মেয়েটাকে সে ড্রয়িং রুমে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই। বাঁধা দিলো পাগলী মেয়েটা। বললো, না, না স্যার, আমার হাত ছাড়ুন। আমি ভিতরে যাবো না। একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে জোর করে রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো রুদ্র। তারপর রুদ্র সে তার কামনা চরিতার্থ করার জন্য দেহের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ধস্তাধস্তি শুরু করে দিলো। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে আর শাঁ শাঁ শব্দে বাতাস বইছে। আর তাই পাগলী মেয়েটার কান্না চিৎকার আর আহাজারি কেউ শুনতে পেলো না। একপর্যায় হার মানলো পাগলী রুদ্রর বাহুর শক্তির কাছে।
মনের খায়েশ মিটাতে রুদ্ধ হায়েনার মতো পাগলী মেয়েটার নরম শরীরের উপরটাতে চড়ে বসলো। তারপর….
ইচ্ছা মতো খুবলে খুবলে খেতে লাগলো। পাগলী মেয়েটি গোঙাচ্ছে। সেদিকে রুদ্রর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
একসময় পাগলী মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে গেল। কতক্ষণ পাগগলীর শরীরের উপর হেন পৈশাচিক তান্ডব চালিয়েছে রুদ্র মেয়েটি তা-জানেনা। কাজ শেষ হতেই রুদ্র পাগলী মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে একটা পৈশাচিক প্রশান্তির হাসি হেসে বললো আহা! বেশ মজা পেলাম।কিছুক্ষণ পর পাগলীর জ্ঞান ফিরলো। সে নিজেকে বস্ত্রহীন দেখে দ্রুত পাশে রাখা সালোয়ার কামিজ পরতে লাগলো। রুদ্র পাশের রুম থেকে বেরুতে বেরুতে বললো…এইতো জ্ঞান ফিরেছে দেখছি তোর। যাক ভালোই হলো। এই নে খাবার। মেয়েটি ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। রুদ্র বলল… এই জামাকাপড় গুলো রাখ পরতে পারবি। তারপর একটা একহাজার টাকার নোট পাগলীর হাতে দিয়ে বললো…চল..। এরপর…. পাগলীটাকে নিচে গেটের বাইরে বের করে দিলো। আরো বললো, তোর সাথে যা হয়েছে তা -যেনো কাউকে বলিসনে বুঝলি? যদি বলিস, তবে তোকে কিন্তু প্রাণে মেরে ফেলবো।রুদ্রর কন্ঠ শুনে দারোয়ানের ঘুম ভেঙে গেলো। দারোয়ান রুদ্রর
শেষের কথা গুলো শুনতে পেলো। সে চুপিসারে জানালা দিয়ে পাগলী মেয়েটিকেও দেখলো। রুদ্র গেট বন্ধ করে উপরে নিজের রুমে গিয়ে রিলাক্সে ঘুমিয়ে পড়লো।। এর মাসখানেক পর পাগলী মেয়ে রত্না অন্তঃ সত্ত্বা হলো। বছর ঘুরতেই রত্না জন্ম দিলো ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তান। কেউ জানেনা রত্না পাগলীর ছেলে রাজুর জন্মদাতা কে। হতভাগি রত্না পাগলী হলেও একেবারে ভারসাম্য-
হীন না। রত্না পাগলীর ছেলে রাজুর বয়স এখন পাঁচ বছর। রত্না তার ছেলে রাজুকে সঙ্গে নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। আর রাস্তার পাশে মানুষের ফেলে দেওয়া বিভিন্ন রকমের প্লাস্টিকের বোতল খুঁটে বস্তায় ভরে। আর শহরের ধনী লোকদের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া এঁটে ঘাটা বর্জিত খাবার তুলে খায়। রাজু সবসময় তার
পাগলী মায়ের আঁচল ধরে পিছুপিছু হাঁটতে থাকে।
একদিন… রত্না শহরে ঘুরতে ঘুরতে ছেলেটিকে নিয়ে রুদ্রদের বাড়ির সামনের রোড দিয়ে যাচ্ছে। দারোয়ান গেট খুলতেই রুদ্র গাড়ি ড্রাইভিং করে বেরুলো বাড়ি থেকে। গাড়ির জানালার দিকে নজর যেতেই রত্না রুদ্রকে দেখতে পেয়ে বেহুশের মতো ছুটতে থাকে গাড়ির পিছনে পিছনে। রাজু মা..ও মা… মা..দাঁড়াও.
বলে ডাকতে ডাকতে রত্মার পিছনে দৌড়াতে থাকে। হঠাৎ! পিছনদিক থেকে একটা গাড়ি এসে ধাক্কা দিলো রত্নাকে…। রত্না ছিটকে গিয়ে পড়লো দূরে। বহুলোক জড়ো হলো। রাজু দৌড়ে গিয়ে তার মায়ের রক্তাক্ত দেহ জড়িয়ে ধরে, ও মা..মাগো..তোমার কি হয়েছে! কথা বলো..মা, ওমা কথা বলো…। এভাবে আর্তনাদ করে কাঁদতে লাগলো। সবার মতো এক দুই পা করে রুদ্রদের বাড়ির দারোয়ান বৃদ্ধ মুবিদও এগিয়ে এলো সেখানে।। উঁকি দিয়ে রত্নার মুখ দেখেই চিনতে পারলো দারোয়ান। রত্না মৃত্যু মুহুর্তে রুদ্রর গাড়ি লক্ষ্য করে ইশারায় রাজুকে কি যেনো বলার চেষ্টা করলো। দারোয়ান তা- বোঝার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। রত্না ঘ্যাঙরায়ে রুদ্রর গাড়ির দিকে ইশারা করে বললো রা….রা…জু….
তো…তোর….বা……বা…বাবা। তারপরেই রত্না মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো..। ছোট্ট রাজু তার মায়ের রক্তাক্ত মৃত দেহটা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে
লাগলো….।
দারোয়ান রত্নার কথায় বুঝতে পারলো রাজুর জন্মদাতা অন্য কেউ নয়। ওরই মালিকের ছেলে রুদ্র। অনেক বছর ধরে রুদ্রদের বাড়িতে দারোয়ানের কাজ করে মুবিদ। রুদ্রর ছোট্ট চেহারার সাথে রাজুর চেহারার হুবহু মিল। কিছুক্ষণ পরেই রুদ্র গাড়িতে ফিরে এলো। বহু লোক দেখে সে গাড়ি থেকে নেমে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে এখানে? ভিড়ের মধ্যে একজন বললো স্যার একটা মেয়ে এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, রুদ্র এখন আর কোনো নেশা করে না। রুদ্রর বাবার মৃত্যুর পর সে সকল খারাপ পথ। নেশার জগৎ থেকে ফিরে এসে এখন মন দিয়ে তার বাবার ব্যবসা দেখাশুনো করে। রুদ্র তার মা-বাবার পছন্দে বিয়ে করেছিল। একটা ছেলে সন্তানও হয়েছিল। কিন্তু
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। একটা ট্রেন দুর্ঘটনায় রাজু
আর ওর স্ত্রী বেঁচে ফিরলেও তাদের দুই বছরের ছেলেটি মারা যায়। সেই এক্সিডেন্টে রুদ্রর স্ত্রীর বাঁচানোর জন্য একটা বড় ধরণের অপারেশন করতে হয়েছিল। অপারেশনের পর ডাক্তার বলেছে রুদ্রর স্ত্রী জ্যোতি আর কখনো মা হতে পারবে না। যাহোক রাজু এক পা, দুই পা করে হাঁটতে হাঁটতে রত্নার লাশের কাছে গেলো। রত্নার মুখ দেখে হঠাৎ রুদ্র যেনো চমকে উঠলো। এদিকওদিক তাকালো কয়েকবার। রুদ্রর মনে পড়লো কয়েকবছর আগের ঝড়-বৃষ্টি ঝরা রাতের কথা। মুবিদ রুদ্রকে একপাশে ডেকে নিয়ে ফিসফিস করে বললো..
ছোট সাহেব,মেয়েটাকে চিনতে পেরেছেন? রুদ্র বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকালো বৃদ্ধ মুবিদের দিকে। তারপর বললো ছোট সাহেব সেই বৃষ্টি ঝরা রাতে আমি জানালা দিয়ে একনজর দেখেছিলাম মেয়েটাকে। কিন্তু আপনাদের মান সম্মানের কথা চিন্তা করে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি। জানেন ছোট সাহেব, মেয়েটা মারা যাবার আগে পাশে কান্না করা ঐ ছেলেটাকে আপনার গাড়ির দিকে তাকিয়ে বলছিল রাজু ঐ- টা তোর বাবা। রাজুর মুখ দেখে রুদ্র বুঝতে পারলো সে তার সন্তান। মুবিদ বললো, ছোট সাহেব বউ মণির তো
কোনো সন্তান হবে না তাই বলছি কি। এ তো আপনারই
ছেলে আপনার কাছে ওর ঠাঁই দিন। আমি কোনোদিনও
বউ মণিকে বলবো না। যে আপনিই ওর সত্যিকারের জন্মদাতা। তাছাড়া বউ মণির তো সন্তান নেই। সেও নিজের সন্তানের মতো যত্ন করবে। রুদ্র মাথা নেড়ে হ্যাঁ
সূচক জবাব দিলো। অজান্তেই দু,ফোটা অনুতাপের জল যেনো রুদ্রর চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো। কতোবড় পাপ করেছে সে। রাজুর পিতৃ পরিচয়টা দিয়ে কিছু পাপ যদি মোচন করা যায়। তারই জন্ম দেওয়া সন্তান আজ ফুট পথের টোকাই শিশু। ভাবতেই নিজেকে অনেক বড়
অপরাধী মনে হতে লাগলো রাজুর। তারপর রুদ্র তার নিজ দায়িত্বে দারোয়ানকে বললো রত্নার লাশের দাফন কাফনের ব্যবস্থা করুন চাচা। রুদ্র রাজুকে বুকে তুলে নিয়ে চোখের জল মুছে কপালে চুম্বন দিয়ে বললো আর
কেঁদো না বাবা রাজু।এখন থেকে তুমি আমার কাছে থাকবে। পড়াশোনা করবে খেলবে কেমন বাবা রাজ..।
রাজু নিষ্পাপ কচি মুখে জলে ভেজা ছলছল মায়াবী চোখে তাকালো তার বাবা রুদ্রর দিকে।



















