মং ও রঙিন পাখি - Mati News
Saturday, April 11

মং ও রঙিন পাখি

নীহার মোশারফ

পাহাড়ের পাদদেশে সারে সারে ঘর। বাঁশ দিয়ে তৈরি। কী সুন্দর কারুকাজ! ঘরের সামনে উঠোন। উঠোনের পাশে ছোট্ট একটি বাগান। বাগানে কত রঙের ফুল। অন্যপাশে নলখাগড়ার বন। অপরূপ ঝরনাধারা। ঝরনার পানি দেখতে স্বচ্ছ। পানিতে ছোট ছোট পাথর। পাহাড়িরা সেই পানিতে গোসল করে। কেউ কেউ ঘরের কাজে নিয়ে যায় পানি। বাগানে অনেক পাখি। প্রজাপতি। ঘর থেকে মং পাখি ও প্রজাপতি দেখে। মাচান ঘরের জানলা দিয়ে পাহাড়ঘেঁষা নীল আকাশও দেখে। মং পাখি দেখে আর হাসে। মা মংকে মুড়ি-মুড়কি খেতে দেয়। মং তা না খেয়ে পাখিদের জন্য নিয়ে যায়। পাখিরা খাবার খুঁটে খুঁটে খায়। খাওয়া শেষে কিচিরমিচির করে। ওড়াউড়ি করে। এক ডাল থেকে অন্য ডালে যায়। পাখিসব মঙের কাছাকাছি থাকে। খুব ভালোবাসে ওকে। পাখিসব মঙের জন্য ঠোঁটে করে দূর থেকে কত্তকিছু নিয়ে আসে। আকাশের নীল, রংধনুর রং, নানা স্বাদের ফল, ঘাসপাতা, বিস্কুট, খেলনাসহ আরও কত কী! মং স্কুলে যায়। পাখিসব ওর সঙ্গে সঙ্গে যায়। স্কুলের আশপাশে ওড়াউড়ি করে। মিষ্টি সুরে গান গায়। মঙের খুব ভালো লাগে। এক সময় পাখিসব ওর বন্ধু হয়ে যায়। মং যেখানে যায় পাখিও ওর পেছন পেছন ছুটতে থাকে। মাথার ওপর পাখা মেলে ছায়া দেয়। মংকে নতুন নতুন জিনিস গিফট করে। ও সাদরে তা গ্রহণ করে ঘরে রেখে দেয়।

A vibrant illustration showing a joyful Indigenous boy sitting on stilt-house steps, surrounded by multi-colored birds perched on him and flying. The boy holds seeds in his hands. The background features a traditional bamboo house, a lush floral garden, a waterfall and mountain river with people bathing, and a rainbow in a blue sky.

মং তার মাকে বলল, তোমরা পাখির দেওয়া আমার এই উপহার ধরবে না। শুধু দেখবে।

মঙের মা-বাবা, ভাই- বোন পাখিদের দেওয়া উপহার অবাক হয়ে দেখে। ভাবে। আহা! মঙের জন্য পাখিদের এত্ত ভালোবাসা। সত্যিই সুন্দর।

মং স্কুল থেকে ঘরে গেলে মা ওকে জিজ্ঞেস করল, পাখিসব তোর বন্ধু হলো কী করে?

মং বলল, মা আমি ওদের জন্য বিশেষ কিছু করিনি। শুধু ভালোবাসার চেষ্টা করেছি। ব্যাস! পাখিসব আমার বন্ধু হয়ে গেল। আমি ক্লাসে থাকলে ওরা আমাকে মিষ্টি সুরে ডাকে। আমার সহপাঠীরা বুঝতে পারে না ওদের ভাষা। আমি বুঝি।

মা বলল, তাই!

হ্যাঁ। মা তুমি আমাকে স্কুলে নাস্তা খাওয়ার জন্য যে টাকা দাও তা দিয়ে আমি পাখিদের নিয়ে নাস্তা কিনে খাই। ওরা আমাকে অনেককিছু শেখায়।

তখন তোমাদের কথা আমার খুব মনে পড়ে। তোমরাও তো আমাকে ভালো থাকার জন্য কতকিছু শেখাও। তাই পাখিসব আমার পরম বন্ধু।

মা বলল, ঠিক বলেছ। শুধু স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। পাখপাখালি ও প্রকৃতির থেকেও অনেককিছু শেখা যায়।

কালিবাড়ি রোড

ভোলা সদর, ভোলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *